মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের বিরুদ্ধে তার সাবেক স্ত্রী মেলিন্ডা গেটসের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের সময় ২০টিরও বেশি বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছিল বলে জানা গেছে। সম্প্রতি এক অভ্যন্তরীণ সভায় গেটস নিজেই এ তথ্য স্বীকার করেছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের এক টাউনহল সভায় কর্মীদের সামনে গেটস বলেন, ২০২১ সালে বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলাকালে তার বিরুদ্ধে ২০টিরও বেশি সম্পর্কের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছিল।
একই সভায় তিনি স্বীকার করেন, প্রয়াত দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথিতে উল্লেখিত দুই রুশ নারীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। তবে এপস্টেইনের সঙ্গে তার বিভিন্ন বৈঠকে কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগগুলোর অধিকাংশ সম্পর্কের বিস্তারিত প্রকাশ্যে আসেনি। তবে গেটস স্বীকার করেছেন যে, তিনি রুশ ব্রিজ খেলোয়াড় মিলা আন্তোনোভা এবং তার পারমাণবিক বিদ্যুৎ কোম্পানি টেরাপাওয়ারের এক সাবেক কর্মীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন।
জানা যায়, ২০১০ সালে একটি প্রতিযোগিতায় মিলা আন্তোনোভার সঙ্গে গেটসের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে আন্তোনোভা একটি ব্রিজ একাডেমির জন্য অর্থায়নের উদ্দেশ্যে জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এক পর্যায়ে এপস্টেইন তার সফটওয়্যার কোডিং স্কুলে অধ্যয়নের ব্যয়ও বহন করেন।
অন্য নারীর পরিচয় প্রকাশ করা না হলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাকে একজন রুশ পরমাণু পদার্থবিদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গেটসের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়িক কাজের সূত্রে ওই নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং তিনি টেরাপাওয়ারে দুই বছর কর্মরত ছিলেন।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, এ তথ্য প্রকাশের পর ফাউন্ডেশনের কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। পরে তাদের জানানো হয়, ওই নারী টেরাপাওয়ারের মূল প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
এ বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হলে গেটস ফাউন্ডেশন ও টেরাপাওয়ার তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জেফ্রি এপস্টেইন গেটসের এসব সম্পর্কের বিষয়ে অবগত ছিলেন এবং তা ব্যবহার করে তাকে চাপে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। ২০১৩ সালে গেটসের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধান উপদেষ্টা বরিস নিকোলিচ ও এপস্টেইনের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া কয়েকটি ইমেইলে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব ইমেইলে আরো দাবি করা হয়, রুশ নারীদের সঙ্গে সম্পর্কের পরিণতি মোকাবিলায় ওষুধ সংগ্রহে নিকোলিচ গেটসকে সহায়তা করেছিলেন। তবে বরিস নিকোলিচ এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ইমেইলগুলো গেটসের পক্ষ থেকে বা তার অনুরোধে লেখা হয়নি।
অন্যদিকে গেটসের এক মুখপাত্র যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ইঙ্গিতসংবলিত দাবিকে “সম্পূর্ণ হাস্যকর এবং পুরোপুরি মিথ্যা” বলে অভিহিত করেন।
ফেব্রুয়ারির ওই সভায় গেটস আরো জানান, তিনি নিউ ইয়র্ক, জার্মানি, ফ্রান্স এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। তবে ক্যারিবীয় অঞ্চলে অবস্থিত এপস্টেইনের আলোচিত ব্যক্তিগত দ্বীপ লিটল সেন্ট জেমসে তিনি কখনও যাননি বলে জোর দিয়ে দাবি করেন।
মেলিন্ডা গেটসের সঙ্গে ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসানের সময় বিল গেটস প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছিলেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই স্বীকারোক্তি ও পুরোনো অভিযোগগুলোর পুনরুত্থান তার ব্যক্তিগত জীবন ও এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে আবারো আলোচনায় এনেছে।
সানা/আপ্র/৪/৬/২০২৬