গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

সংসদ অধিবেশনে আইনমন্ত্রী

গণভোট নিয়ে জামায়াতের আধা প্রেম, আধা প্রতারণা

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:৩৩ পিএম, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১০:১৬ এএম ২০২৬
গণভোট নিয়ে জামায়াতের আধা প্রেম, আধা প্রতারণা
ছবি

বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কথা বলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান -ছবি সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের লিফলেট পাওয়া গেছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিরোধী দল কেন সংস্কার চায় সেখানে (লিফলেট) কয়েকটি পয়েন্ট দিয়েছেন। এই পয়েন্টের মধ্যে কোথাও জুলাই সনদের কথা বলা নাই। এখানে বলেছেন, গণভোটের কথা ব্যাখ্যা করেছি। জুলাই সনদ থেকে গণভোটকে ডেভিয়েট (বিচ্যুত) করা হয়েছে। দ্যাট ইজ এ ফ্রড অন দ্য কনস্টিটিউশন অ্যান্ড দ্যাট ইজ এ ফ্রড অন দ্য ল। জুলাই জাতীয় সনদ যেটা ৩৩টি রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছিলেন, লিফলেটে সেটির নাম চিহ্ন নাই। গণভোটে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান আধা প্রেম, আধা প্রতারণা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিন বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা জানান আইনমন্ত্রী। অধিবেশনের এ পর্যায়ে সংসদে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যরিস্টার কায়সার কামাল।

আইনমন্ত্রী বলেন, এই সংসদ আগামী দিনে একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যে বাংলাদেশ ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মধ্য দিয়ে অর্জিত। ৯০ এবং ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানকে চেতনাকে ধারণ করে আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে পারি। আমরা বিশ্বের দেশে দেশে দেখেছি, বিপ্লব ঘটেছে। ফরাসি বিপ্লব ঘটেছে, জুলাই বসন্ত এসেছে, আরব বসন্ত এসেছে, অরেঞ্জ বসন্ত এসেছে, সমস্ত বসন্তের পরই সে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি সমঝোতা হয়। সেই সমঝোতার ভিত্তি হয় গণঅভ্যুত্থান। গণঅভ্যুত্থানের চেতনা আমরা যেটা দেখছি, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে আমি লক্ষ্য করলাম, সেটা নেই।

তিনি বলেন, এটা (লিফলেট) পড়তে যেয়ে মনে হলো, ৩৩ এ পাসের একটা থিওরি আছে। এটা পড়তে যেয়ে মনে হলো আমি কি ৩৩ এ পাসের স্টেজে আছি। ৩৩ এ পাস আসলো ১৮৫৪ সালে, এই উপমহাদেশে যখন ম্যাট্রিকুলেশনের পরীক্ষা শুরু হবে সেই সময়। তখন ব্রিটেনে পাসের মাস ছিল ৬৫ নম্বর। ব্রিটিশরা মনে করতেন, এই উপমহাদেশের মানুষ ব্রিটিশদের থেকে অর্ধেক বুদ্ধি ধারণ করেন। তাই উনারা সাড়ে ৩২ নাম্বারে পাসের মার্কস করলেন। ওখানে ছিল ৬৫, এখানে হল সাড়ে ৩২। চার বছর পরে ১৯৬২ সালে এটা ৩৩ করা হলো। আমার মনে হচ্ছে, উনারা এমনভাবে লিখেছেন আমি কি সেই ৩৩ এ পাসের মতন উনাদের থেকে এখনও অর্ধশিক্ষিত আছি? যেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান, জুলাই সনদের কোনো শব্দ নেই।

আসাদুজ্জামান বলেন, মাননীয় স্পিকার, এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও দুঃখজনক। এখন যদি বলি যে এটা কবে হবে? তাহলে ফিলিস্তিনি জাতীয় কবি মাহমুদ দারুইশের একটি কবিতার কথা মনে পড়ে। মাহমুদ দারুইশের প্রেমিকা তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন মাহমুদ আমাদের দেখা হবে কবে? উনি বলেছিলেন, যেদিন যুদ্ধ থামবে। প্রেমিকা জিজ্ঞাসা করলেন, যুদ্ধ কবে থামবে? উনি বললেন যেদিন আমাদের দেখা হবে।

জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপির অবস্থান উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তিনটি প্রশ্নের ব্যাপারে বিএনপির কোনো আপত্তি কখনও ছিল না। বাকি অর্ধেক যে প্রশ্নটা সে আধা প্রশ্নটা হলো আধা প্রেম, আধা প্রতারণা। আধা প্রেম কী রকম? দেখাচ্ছেন আমরা করতে চাচ্ছি। এটা জুলাই সনদের অংশ। আধা প্রতারণা হলো, জুলাই সনদের মধ্যে বলা আছে। ওই প্রশ্নটা কখনওই প্রাসঙ্গিক হবে না বিএনপির জন্য।

জামায়াতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমি দুঃখ প্রকাশ করছি, নির্বাচনের মাঠে আমাদের নিজস্ব এজেন্ডা ছিল। নির্বাচনের মাঠে যখন মা-বোনের কাছে ভোট চাইতে গেছি তখন শুনেছি বেহেশতের টিকিট নাকি কেউ বিক্রি করেছেন। আমি নিজে কানে শুনেছি, আই এম দ্য উইটনেস।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামের আগে বীর শব্দ বলার বিষয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, এই মহান সংসদে আমি বিরোধীদলীয় নেতাসহ বিরোধীদলের সকল সংসদ সদস্যকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। ধন্যবাদ জানানোর কারণ বীর মুক্তিযোদ্ধার যে সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে সেই আইনে জামায়াতে ইসলাম বিরোধিতা করেননি। সে আইনে এনসিপির পক্ষ থেকে লিখিতভাবে অনুসমর্থন জানানো হয়েছে। এই কারণে তাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বাই অপারেশন অব ল অ্যান্ড ইন্টারপ্রিটেশন তাহলে স্টাবলিশ হয়ে গেল যে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে কারা বিরোধিতা করেছিলেন। কারা খুন ও ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, যারা বাংলাদেশের অগণিত মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীরা চিহ্নিত: জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন সংশোধনের মাধ্যমে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে কারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল তা এখন ‘প্রতিষ্ঠিত’-এমন মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। বুধবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই দাবি তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সংশোধিত আইনের প্রতি বিরোধী পক্ষের অবস্থান, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং ‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন, ২০২৬ সংশোধনের মাধ্যমে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’, ‘মুক্তিযুদ্ধ’, ‘মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য’ এবং ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’-এই বিষয়গুলোর নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই আইনের আওতায় একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম পার্টি, আল বদর, আল শামস ও রাজাকারদের চিহ্নিত করা হয়েছে।
তার ভাষায়, এই আইন কার্যকর হওয়ায় “প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল” কারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল এবং কারা হত্যা, গুম ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ছিল।

আইন পাসের প্রক্রিয়া ও সংসদের ভূমিকা: গত ৯ এপ্রিল সংসদে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আহমদ আজম খান ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল সংশোধন বিল, ২০২৬’ উপস্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি গৃহীত হয় এবং দফাওয়ারি অনুমোদনের পর সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। এর আগে সংসদের বিশেষ কমিটি অধ্যাদেশটি আইন আকারে পাসের সুপারিশ করে। তবে কমিটির প্রতিবেদনে জামায়াতের সদস্যরা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রদান করেন, যা সংসদে তাদের বক্তব্যেও প্রতিফলিত হয়।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সাম্প্রতিক পরিবর্তন: আইনমন্ত্রী তার বক্তব্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুই বছর আগেও বর্তমান সংসদের সদস্যরা একসঙ্গে নির্যাতিতদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশ একসময় দুই ভাগে বিভক্ত ছিল-একদিকে ফ্যাসিস্ট ও লুটেরা গোষ্ঠী, অন্যদিকে সাধারণ জনগণ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান ঘটে-এই প্রেক্ষাপটও তিনি স্মরণ করেন।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও রাজনৈতিক অবস্থান: আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সংসদ এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা একসঙ্গে ধারণ করা হবে। তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে-সংশোধিত আইনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বিরোধীদের অবস্থানকে আইনি কাঠামোর মধ্যে স্থায়ীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তা বর্তমান রাজনৈতিক বিতর্কেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।
সানা/আপ্র/২৯/৪/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

বিচারপ্রক্রিয়ায় এআই ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান আইনমন্ত্রীর
২৯ অক্টোবর ২০২৬

বিচারপ্রক্রিয়ায় এআই ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

বিচারিক সিদ্ধান্ত, রায় লেখা ও সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারে সতর্ক থাক...

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ...

ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ আসবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ আসবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ আসবে না। আওয়ামী লীগ হচ্ছে নিষিদ্ধ...

তাহসিফের মৃত্যু: যা আছে সুরতহাল প্রতিবেদনে
২৯ অক্টোবর ২০২৬

তাহসিফের মৃত্যু: যা আছে সুরতহাল প্রতিবেদনে

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন না পেরেও নাক দিয়ে রক্ত...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে