গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

বৈসাবিতে এক সুতোয় গাঁথে পাহাড়ের সম্প্রীতি

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:২১ পিএম, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২০:১৬ এএম ২০২৬
বৈসাবিতে এক সুতোয় গাঁথে পাহাড়ের সম্প্রীতি
ছবি

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ে বসবাসরত বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী প্রতিবছর নববর্ষ উদযাপনের মধ্য দিয়ে ভেদাভেদ ভুলে মিলিত হন এক সুতোয় -ছবি সংগৃহীত

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ে বসবাসরত বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী প্রতিবছর নববর্ষ উদযাপনের মধ্য দিয়ে ভেদাভেদ ভুলে মিলিত হন এক সুতোয়। তাদের এই মিলনমেলার নাম ‘বৈসাবি’—যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে শত বছরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির বার্তা।

রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি—এই তিন পার্বত্য জেলায় বসবাসরত ১১টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে আটটির প্রধান সামাজিক-সাংস্কৃতিক উৎসব এই বৈসাবি। ত্রিপুরাদের বৈসু, মারমাদের সাংগ্রাই, ম্রোদের চাংক্রান, খেয়াংদের সাংলান, খুমিদের চাংক্রাই, চাকদের সাংগ্রাই, চাকমাদের বিজু ও তঞ্চঙ্গ্যাদের বিষু—এসব উৎসবের আদ্যক্ষর থেকেই ‘বৈসাবি’ নামের উৎপত্তি।

আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে ‘বৈসাবি’ শব্দটি ধীরে ধীরে পরিচিতি পায়। আগে পৃথক নামে উদযাপিত হলেও সময়ের সঙ্গে এটি হয়ে ওঠে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অভিন্ন সাংস্কৃতিক উৎসব। তবে নামকরণ নিয়ে কিছু মতভেদ থাকলেও সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে এর গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে।

সময়ের পরিক্রমায় বৈসাবি উৎসব হয়েছে আরও বর্ণিল ও বর্ণাঢ্য। যুক্ত হয়েছে শোভাযাত্রা, ফুল ভাসানো, মৈত্রী পানিবর্ষণ, ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন। চৈত্র মাসের শেষ দুই দিন এবং বৈশাখের প্রথম দিনকে কেন্দ্র করে মূল আয়োজন হলেও বর্তমানে প্রায় দুই সপ্তাহজুড়ে চলে এই উৎসব।

ত্রিপুরা, মারমা ও চাকমা জনগোষ্ঠী নিজ নিজ ঐতিহ্য অনুযায়ী তিন দিনব্যাপী নববর্ষ উদযাপন করে। ঘরবাড়ি পরিষ্কার, ফুল দিয়ে সাজানো, প্রার্থনা, অতিথি আপ্যায়ন এবং ঐতিহ্যবাহী খাবার-পানীয় গ্রহণ—এসবই উৎসবের প্রধান অংশ। পাশাপাশি নদী-খালে ফুল ভাসানো, নাচ-গান, ক্রীড়া ও সামাজিক মিলনমেলা উৎসবকে করে তোলে প্রাণবন্ত।

গবেষক ও সংশ্লিষ্টদের মতে, শত শত বছর ধরে চলে আসা রীতি-নীতি ও সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায় বৈসাবি এখন পাহাড়ের সবচেয়ে বড় সামাজিক আয়োজন। এটি শুধু উৎসব নয়, বরং ঐক্য, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের প্রত্যয়ের প্রতীক।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‌্যালির মাধ্যমে চলতি বছরের বৈসাবির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। এতে বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় জনগণ অংশ নেন।

উৎসবকে ঘিরে জেলায় তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। আয়োজকদের আশা, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে এবারও উদযাপিত হবে পাহাড়ের এই সর্বজনীন উৎসব।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত দর্শনার্থী এবং বিদেশি পর্যটকরাও প্রতি বছর এই উৎসবে অংশ নেন। বৈসাবির দিনে পাহাড়ের মানুষ একসঙ্গে পুরাতন বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানান—সম্প্রীতির বন্ধনে গাঁথা এক অনন্য মিলনমেলায়।
সানা/আপ্র/১৪/৪/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

বিশ্বের অর্ধেক দরিদ্রের চেয়েও বেশি কার্বন ছাড়েন ধনীরা
২৮ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বের অর্ধেক দরিদ্রের চেয়েও বেশি কার্বন ছাড়েন ধনীরা

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ১ শতাংশ মানুষের সম্মিলিত কার্বন নিঃসরণ বিশ্বের দরিদ্রতম ৩৫০ কোটি মানুষের মোট নিঃস...

গার্ড অব অনার নিয়ে উত্তেজনা, গভীর রাতে মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন
২৫ অক্টোবর ২০২৬

গার্ড অব অনার নিয়ে উত্তেজনা, গভীর রাতে মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন

সাঈদীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য

বিয়ের দিন বরের জানাজা, শোকে স্তব্ধ দুই পরিবার
১৬ অক্টোবর ২০২৬

বিয়ের দিন বরের জানাজা, শোকে স্তব্ধ দুই পরিবার

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মৃত্যু

বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে ১২২ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪তম
১৬ অক্টোবর ২০২৬

বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে ১২২ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪তম

শিশুদের তীব্র অপুষ্টি বেড়েছে, আট বছরে ক্ষুধা কমেছে মাত্র ৪ শতাংশ

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে