বিশ্বজুড়ে সোনার দাম সাধারণত যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা বা অর্থনৈতিক সংকটের সময় বাড়ে। কারণ বিনিয়োগকারীরা তখন সোনাকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়লেও সোনার দাম উল্টো কমছে। এর পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কারণ কাজ করছে।
১. সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, সোনার দাম কমার সবচেয়ে বড় কারণ হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কমে যাওয়া, বরং তা বাড়তে পারে এমন আশঙ্কা তৈরি হওয়া। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ এখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে আছে।
২. মূল্যস্ফীতি বেড়েছে
হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ফলে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে মূল্যস্ফীতিতে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির হার প্রায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ, যা তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
৩. ডলার শক্তিশালী হওয়া
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ডলারে নির্ধারণ করা হয়। যুদ্ধ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে মার্কিন ডলারের দিকে ঝুঁকেছেন। ফলে ডলারের মূল্য বেড়েছে। ডলার শক্তিশালী হলে সাধারণত সোনার দাম কমে যায়।
৪. সোনা থেকে সুদ পাওয়া যায় না
সোনা এমন একটি সম্পদ, যা ধরে রাখলে কোনো সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না। ব্যাংক আমানত বা বন্ডের মতো এতে নিয়মিত আয় নেই। তাই সুদের হার বেশি হলে বিনিয়োগকারীরা সোনার বদলে সুদবাহী সম্পদে বিনিয়োগে বেশি আগ্রহী হন।
৫. শ্রমবাজার শক্তিশালী থাকা
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। এতে অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা কমে এবং ফেডের জন্য সুদের হার কমানোর চাপও কমে যায়। বাজারে এখন ধারণা তৈরি হয়েছে যে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার আরো বাড়তে পারে।
যুদ্ধের সময়ও সোনার দাম কেন বাড়ল না?
সাধারণত যুদ্ধের সময় সোনার দাম বাড়ে। কিন্তু এবার বাজারে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা এতটাই প্রভাবশালী যে তা যুদ্ধজনিত নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদাকেও ছাড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ, বিনিয়োগকারীরা এখন বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন সুদের হার ও ডলারের শক্তিশালী অবস্থানকে।
ভবিষ্যতে কী হতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা কমে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসে, তাহলে সুদের হার বৃদ্ধির চাপ কমতে পারে। সেক্ষেত্রে সোনার দাম আবার বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে স্বল্পমেয়াদে সোনার বাজার এখনও চাপের মধ্যেই রয়েছে।
সানা/আপ্র/১৫/৬/২০২৬