গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

শিক্ষাজীবনের শুরুটা শিশুর স্বস্তিদায়ক করতে পরিবারের ভূমিকা

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:২৫ পিএম, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৭:৩১ এএম ২০২৬
শিক্ষাজীবনের শুরুটা শিশুর স্বস্তিদায়ক করতে পরিবারের ভূমিকা
ছবি

ছবি সংগৃহীত

শিক্ষাজীবনের শুরু একটি শিশুর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। যে কোনো নতুন জায়গার সঙ্গে মানিয়ে নিতে শিশুদের কিছুটা সময় লাগে। স্কুলও এর ব্যতিক্রম নয়; বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় অনেক শিশুর কাছেই স্কুলের পরিবেশ, শিক্ষক ও সহপাঠীরা সম্পূর্ণ অপরিচিত থাকে। এ কারণে প্রথম কয়েকদিন স্কুলে যেতে না চাওয়া, মা-বাবাকে আঁকড়ে থাকা কিংবা কান্নাকাটি করা অস্বাভাবিক কিছু নয়। স্কুলে যাওয়ার শুরুটা শিশুর জন্য স্বস্তিদায়ক ও ইতিবাচক করে তুলতে পরিবারের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই পরিবারের দায়িত্ব হলো প্রথম দিকে স্কুলের সহপাঠী, পরিবেশ, শিক্ষকদের সঙ্গে তাদের পরিচিত করানো। এ বিষয় নিয়েই এবারের নারী ও শিশু পাতার প্রধান ফিচার

শিশুকে হঠাৎ করে কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই প্রথম দিন স্কুলে নিয়ে গিয়ে ক্লাসে বসিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। অপরিচিত পরিবেশ, নতুন শিক্ষক ও অচেনা সহপাঠীদের মাঝে একেবারে নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলে অনেক শিশুর মধ্যেই ভয় বা অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাই স্কুলে যাওয়ার আগেই ধীরে ধীরে শিশুকে নতুন পরিবেশের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করা জরুরি।

প্রথমেই প্রয়োজন মানসিক প্রস্তুতি: স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হতে পারে ছোট ছোট বিষয় দিয়ে। স্কুলের ব্যাগ, জুতা, পোশাক, খাতা-কলমসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার সময় শিশুকে সঙ্গে রাখুন। নিজের পছন্দের কিছু জিনিস বেছে নেওয়ার সুযোগ দিলে স্কুল নিয়ে তার আগ্রহও তৈরি হতে পারে। শুধু সরঞ্জাম কেনাই নয়, স্কুলে তাকে কী করতে হবে সে সম্পর্কেও আগে থেকেই ধারণা দিন। প্রতিদিন কখন স্কুলে যেতে হবে, সেখানে কতক্ষণ থাকতে হবে, ক্লাসে কীভাবে সময় কাটবে-এসব সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলুন। এতে শিশুরা স্কুলে যাওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ পাবে।

শিশুর মনে ইতিবাচক ধারণা দিন: শিশুকে স্কুলের ছবি বা ভিডিও দেখিয়ে বাড়িতেই স্কুলের ব্যাপারে সুন্দর ইতিবাচক ধারণা দিন। বই, খাতা কিনে দিন,শিক্ষক সম্পর্কেও সুন্দর ধারণা দিন। তাহলে তারা নতুন বিষয়টি উপভোগ করতে পারবে। এতে স্কুলের নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে সক্ষম হবে এবং স্কুলের প্রতি প্রথম দিন থেকেই তার আগ্রহ জন্মাবে।

সহপাঠী ও বন্ধুদের সম্পর্কে ধারণা: সহপাঠীদের বন্ধু ও সহযোগী হিসেবে মনে গড়ে তোলার বিষয়টি খুবই জরুরি। তাই পরিবারের সাহায্য প্রয়োজন। তাহলে শিশুরা একসঙ্গে খেলতে বা পড়াশোনা করতে ভালোবাসবে। প্রথম দিনশিশুকে স্কুলে নিয়ে সহপাঠীদের সাথে ভালোভাবে পরিচয় করিয়ে দিন। সম্ভব হলে প্রথম দিন সহপাঠীদের স্কুল শেষে তাদের সঙ্গে শিশুকে কিছুটা সময় খেলতে দিন। মাঝে মাঝে সহপাঠীদের বাসায় দাওয়াত দিন।তাহলে ধীরে ধীরে সহপাঠীরা শিশুর বন্ধু হয়ে উঠবে।

পড়াশোনা শেখাতে ভয় নয়: শিশুর স্কুলজীবন শুরু হলেই অনেক অভিভাবক পড়াশোনা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তিত হয়ে পড়েন। সন্তান অন্যদের তুলনায় ধীরে পড়া শিখছে, ক্লাসের বিষয় দ্রুত বুঝতে পারছে না কিংবা বাড়ির পড়া সময়মতো শেষ করতে পারছে না-এমন পরিস্থিতিতে কেউ কেউ শিশুকে বকাঝকা করেন, আবার কখনো শারীরিক শাস্তিও দেন। ‘তোমাকে দিয়ে কিছু হবে না’ কিংবা ‘এত সহজ পড়াও পারো না’-এ ধরনের কথাও শুনতে হয় অনেক শিশুকে। কিন্তু শিশুকে শেখানোর বদলে বারবার তিরস্কার বা ভয় দেখালে তার শেখার আগ্রহ বাড়ে না, বরং পড়াশোনার সঙ্গে নেতিবাচক অনুভূতি তৈরি হতে পারে। ধীরে ধীরে স্কুলে যাওয়া, বই খোলা কিংবা পড়তে বসার বিষয়টিই শিশুর কাছে ভয়ের কারণ হয়ে উঠতে পারে। এর প্রভাব আত্মবিশ্বাসের ওপরও পড়তে পারে এবং স্কুলের প্রতি অনীহা তৈরি হতে পারে। তাই স্কুল জীবনের শুরুতেই শিশুকে স্কুলের পড়া শেখার জন্য, বুঝে ওঠার জন্য তাড়াহুড়া না করে তাকে কিছুটা সময় দিন।

স্কুলে যেতে তৈরি করা: শিশুর স্কুলে যেতে তৈরি করাও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। শিশুর স্কুলে যাওয়ার জন্য খাবার খাওয়া, পোশাক পরা, বই-খাতা গোছানো, চুল বাঁধা এমন কিছু নিয়ে পরিবারের সবাইকে আগ্রহ দেখানোর সঙ্গে সঙ্গে অংশগ্রহণও করা উচিত। এতে শিশুর কাছে স্কুলে তৈরি হওয়ার সময়টা কান্নাকাটি নয় বরং আনন্দের হয়ে উঠবে।

আকর্ষণীয় শিক্ষা উপকরণ: শিশুদের স্কুল ব্যাগ, পানির বোতল, শার্পনার, পেন্সিল কেস ইত্যাদি আকর্ষণীয় শিক্ষা উপকরণ কিনে দিন। সম্ভব হলে কেনার সময় শিশুকে সঙ্গে নিয়ে যান, তার পছন্দকে গুরুত্ব দিন। এতে শিশুদের পড়াশোনার আগ্রহ দ্বিগুণ হয়ে উঠবে ও আনন্দ নিয়ে শিখবে।

কেএমএএ/আপ্র/০৯.০৯.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

শিশুর কাল্পনিক বন্ধু যেভাবে বিকাশে ভূমিকা রাখে
২৬ অক্টোবর ২০২৬

শিশুর কাল্পনিক বন্ধু যেভাবে বিকাশে ভূমিকা রাখে

শিশুরা কখনো এমন কারো সঙ্গে কথা বলে, যাকে পরিবারের অন্য কেউ দেখতে পায় না। কখনো কাল্পনিক বন্ধুর জন্য খ...

শিশুদের নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করা সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব
২১ অক্টোবর ২০২৬

শিশুদের নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করা সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব

আজকের শিশুই আগামীর দেশ ও জাতির প্রকৃত সম্পদ। তারাই মূলত দেশ ও জাতি গঠনের কারিগর। একটি শিশুর জন্মের স...

নারীসত্তার পবিত্রতা ও সৃষ্টির শক্তি উপলব্ধির সাধনাই কুমারীপূজা
২১ অক্টোবর ২০২৬

নারীসত্তার পবিত্রতা ও সৃষ্টির শক্তি উপলব্ধির সাধনাই কুমারীপূজা

মাতৃভাব মানবহৃদয়ের অন্যতম পবিত্র অনুভূতি। এই ভাবের মধ্যেই নিহিত রয়েছে স্নেহ, মমতা, শ্রদ্ধা ও শুদ্ধতা...

ডিগ্রিধারী বৃদ্ধিতেও অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী কম
২১ অক্টোবর ২০২৬

ডিগ্রিধারী বৃদ্ধিতেও অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী কম

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সাম্প্রতিক ‘গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট ২০২৬’ বাংলাদেশের উন্নয়...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে