গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মিথ্যা পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে দুই যুবককে ফাঁসিয়ে দেড় লাখ টাকা জরিমানা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। জরিমানার টাকা আদায়ের পর তা সংশ্লিষ্ট নারীকে দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি কোনো টাকা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। গত ২২ সেপ্টেম্বর উপজেলার শালমারা ইউনিয়নের মধ্য উলিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মধ্য উলিপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মালেক প্রধানের ছেলে শাহিনুর ইসলাম এবং একই গ্রামের জামালের ছেলে শুভর বিরুদ্ধে নাঈম মিয়ার স্ত্রী সুমাইয়া বেগমের সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কের অভিযোগ তোলা হয়। পরে গ্রাম্য সালিশ বসিয়ে থানা-পুলিশ ও সাংবাদিকের ভয় দেখিয়ে তাদের দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয় বলে অভিযোগ।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বিএনপি নেতা উলিপুর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সোবাহান মিয়া, ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বাদশা মিয়া ও সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম সালিশে উপস্থিত ছিলেন। তারা জরিমানার টাকা আদায় করে সুমাইয়া বেগমকে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
অটোভ্যানচালক শাহিনুর ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। যে দিন পরকীয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেদিন তিনি বাড়িতেই ছিলেন না। তিনি শালিকার মেয়ের বিয়েতে গিয়েছিলেন। সালিশের দিন তাকে ও শুভকে ডেকে নিয়ে সাংবাদিক ও পুলিশের ভয় দেখিয়ে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে বাধ্য হয়ে তিনি ২০ হাজার এবং শুভ ৭০ হাজার টাকা সিরাজুল ইসলাম, বাদশা মিয়া ও সোবাহানের হাতে তুলে দেন বলে দাবি করেন শাহিনুর।
সুমাইয়া বেগম বলেন, গত শুক্রবার সিরাজুল ইসলাম, বাদশা মিয়া ও সোবাহানসহ সংশ্লিষ্টরা তাকে দেড় লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত তিনি কোনো টাকা পাননি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
শালমারা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান তৌফিকুরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কী আর করার আছে, আপনারা সেখানে কেন গিয়েছিলেন।’
গোবিন্দগঞ্জ থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা মীর কায়েস জানান, এ বিষয়ে থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সানা/আপ্র/২৮/৯/২০২৬