যুক্তরাষ্ট্র ও চীন ৩০ বিলিয়ন ডলারের অ-সংবেদনশীল পণ্যে শুল্ক কমানোর বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যসংক্রান্ত এই সমঝোতা হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, দুই দেশের বাণিজ্য বোর্ডের মাধ্যমে এ বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে।
বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা শুল্ক বিরোধের মধ্যে এই সমঝোতাকে উত্তেজনা কমানোর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের তথ্যমতে, এর আওতায় উভয় দেশের প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের অ-সংবেদনশীল পণ্যে তুলনামূলক অনুকূল শুল্ক সুবিধা দেওয়ার সুপারিশে সম্মতি হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, চীন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য, মাছ ও সামুদ্রিক খাবার, কাঠ ও কাঠজাত পণ্য, প্রসাধনসামগ্রী এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে শুল্ক সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চীন থেকে আমদানি করা ছোট গৃহস্থালি সরঞ্জাম, খেলনা, উৎসবের সাজসজ্জার সামগ্রী এবং শিশুদের গাড়ির আসনের ওপর শুল্ক কমানোর ব্যবস্থা করবে।
এর পাশাপাশি ২০২৭ ও ২০২৮ সালে প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে অন্তত এক কোটি মেট্রিক টন কয়লা আমদানি করবে চীন। বাণিজ্য বিরোধের আগে যুক্তরাষ্ট্রের কয়লার শীর্ষ পাঁচ আমদানিকারকের একটি ছিল চীন। পরে দুই দেশের বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যে দেশটির কয়লা আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
দুই দেশ কৃষিপণ্যের বাজারে প্রবেশের বাধা নিয়ে কাজ করতে একটি কর্মীগোষ্ঠীও চালু করেছে। পাশাপাশি বিনিয়োগের সুযোগ ও বিনিয়োগসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোচনা এবং বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সমাধানের জন্য দুই দেশের বিনিয়োগ বোর্ড কার্যকর করার কথা জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
তবে দুই দেশের বাণিজ্য বিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিরল খনিজ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ নিয়ে এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সরবরাহ শৃঙ্খলে ঘাটতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ নিরসনে দুই দেশ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পণ্য সরবরাহের মাত্রা উপযুক্ত পর্যায়ে ফিরিয়ে আনাই এ প্রচেষ্টার লক্ষ্য।
দীর্ঘদিনের শুল্ক বিরোধের প্রেক্ষাপটে নতুন এই সমঝোতা দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের উত্তেজনা কিছুটা কমানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে বিরল খনিজ, সরবরাহ শৃঙ্খলসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকায় দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো একাধিক বিষয় অমীমাংসিত রয়েছে। সূত্র: অ্যাক্সিওস
সানা/আপ্র/২৮/৯/২০২৬