পিং পিং ও ফু শুয়াং নামের দুটি চীনা জায়ান্ট পান্ডা যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় পৌঁছেছে। বিদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে চীনের দীর্ঘদিনের ‘পান্ডা কূটনীতি’র আওতায় ধার হিসেবে পান্ডা দুটি যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে। আটলান্টার চিড়িয়াখানায় তারা ১০ বছর থাকবে।
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চেংদু থেকে যাত্রা করে রোববার একটি ফেডেক্স ফ্লাইটে আটলান্টার হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় পান্ডা দুটি। বর্তমানে তাদের শহরের চিড়িয়াখানায় নেওয়া হচ্ছে। বিমানবন্দরে সংবাদমাধ্যম সিএনএনের সাংবাদিক দল পান্ডাদের পৌঁছানোর খবর জানায়।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানায়, স্থানীয় সময় রোববার ভোর ২টা ৫৫ মিনিটে চেংদু থেকে পান্ডা দুটি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রা করে। দীর্ঘ প্রায় ১৫ ঘণ্টার যাত্রায় তাদের সঙ্গে ছিলেন চীনের একদল প্রবীণ পশুচিকিৎসক ও প্রজনন বিশেষজ্ঞ। যুক্তরাষ্ট্রে কোয়ারেন্টাইন পর্বেও তারা পান্ডাগুলোর যত্ন নেবেন।
পান্ডা দুটির আগমন ঘিরে আটলান্টা চিড়িয়াখানায় ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের চিড়িয়াখানাগুলোতে জায়ান্ট পান্ডা এখন বেশ বিরল। বিশেষ ক্র্যাটে করে বিমানে তোলা হয় পান্ডা দুটিকে। তাদের বিদায় উপলক্ষে চেংদু রিসার্চ বেসে আয়োজন করা হয় বিশেষ অনুষ্ঠান। বিমানবন্দরসংলগ্ন সড়কেও হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে উৎসাহীদের ভিড় দেখা যায়।
পান্ডাদের এই যাত্রাকে কূটনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের ঠিক পরদিনই পান্ডা দুটি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাল। বৈঠকে দুই রাষ্ট্রনেতা বাণিজ্যযুদ্ধ সাময়িক স্থগিত রাখা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে হটলাইন চালুর বিষয়ে সম্মত হন। শি জিনপিং তাঁর সফরের সময় জায়ান্ট পান্ডাকে দুই দেশের মৈত্রী ও সৌহার্দ্যের ‘অনন্য দূত’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
পান্ডা দুটির বৈশিষ্ট্যও বেশ নজরকাড়া। পুরুষ পান্ডা পিং পিংয়ের জন্ম ২০২০ সালের ১৭ মার্চ। গাছে চড়তে পারদর্শী ও সাহসী এই পান্ডা আপেল খাওয়ার সময় বিশেষ ভঙ্গির জন্যও পরিচিত। অন্যদিকে মাদি পান্ডা ফু শুয়াংয়ের জন্ম ২০২০ সালের ১৮ অক্টোবর। মাথার বিশেষ এক গুচ্ছ পশম ও মধুপ্রেমের জন্য পরিচিত এই পান্ডাটি দ্রুত খাবার খুঁজে বের করতে পারে।
বয়স, স্বাস্থ্য, বংশগতি ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করে পান্ডা দুটিকে নির্বাচন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে তারা প্রাকৃতিকভাবে বংশবৃদ্ধি করতে পারে, সে বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
আটলান্টা চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ দুই নতুন অতিথির জন্য তাদের আবাসস্থল সম্প্রসারণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত বাঁশের জোগান নিশ্চিত করেছে।
এর আগে এই চিড়িয়াখানায় লুন লুন ও ইয়াং ইয়াং নামের দুটি পান্ডা সাতটি ছানার জন্ম দিয়েছিল। আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধুত্ব পুনর্গঠনের বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও পান্ডা বিনিময়কে দেখা হচ্ছে।
সানা/ডিসি/আপ্র/২৭/৯/২০২৬