সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাভোগের পর জামিনে মুক্তির এক মাস দশদিনের মাথায় মারা গেলেন সাংবাদিক আজহার আলী সরকার। রাজধানীর শমরিতা হাসপাতাল থেকে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী রোকসানা পারভীন।
তিনি বলেন, “শমরিতা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। পরে বেশি অসুস্থ হওয়ায় ১টা ১০ মিনিটের দিকে আমরা সেখান থেকে বের করি পিজি হাসপাতালে (বর্তমান বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়) নেওয়ার জন্য। তখনই মারা গেছে রাস্তায়।”
সাতান্ন বছর বয়সি আজহার আলী দীর্ঘদিন ধরে ‘কিডনির সমস্যায়’ ভুগছিলেন বলে জানান রোকসানা পারভীন। দুই ছেলে সন্তান রেখে যাওয়া এ সাংবাদিকের জানাজা রোববার আসরের নামাজের পর বনশ্রীর আইডিয়াল মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজহার আলীকে গত বছরের ১০ অক্টোবর ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে। পরিবারের দাবি, ওইদিন সন্ধ্যায় ডিবির একটি দল বনশ্রীর বাসা থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরদিন রমনা থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরীকে গ্রেফতারের পর ওই মামলা করা হয়েছিল।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিন্টো রোড এলাকায় প্রাডো গাড়িতে ‘সন্দেহজনকভাবে’ ঘোরাঘুরি করছিলেন এনায়েত করিম চৌধুরী। সন্দেহজনক গতিবিধির অভিযোগে পুলিশ তাকে আটক করে রমনা মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে। মামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে তার সহযোগী এসএম গোলাম মোস্তফা আজাদ এবং জাতীয় পার্টির রওশনপন্থি অংশের মহাসচিব কাজী মামুনুর রশীদকেও গ্রেফতার করা হয়। পরে এ মামলায় আজহার আলীকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
এ মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরও গত ১৮ জুন শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন ডিবি পুলিশের রমনা বিভাগের পরিদর্শক আখতার মোর্শেদ।
ওই মামলাটি করা হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান নিয়ে একটি আলোচনা অনুষ্ঠান থেকে আওয়ামী লীগ নেতা লতিফ সিদ্দিকী, সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না, অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন ও আব্দুল্লাহীল কাইউমসহ ১৬ জনকে আটকের পর। গত বছরের ২৮ আগস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘মঞ্চ ৭১’ নামের একটি সংগঠনের অনুষ্ঠানে গিয়ে ‘মবের শিকার’ হওয়া এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে উল্টো মামলা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
আজহার আলীকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর বিষয়ে শুনানির দিন ছিল গত ২৯ জুন। সেদিন তাকে হুইলচেয়ারে করে আদালতে হাজির করা হয়। বারবার অসুস্থতার কথা জানিয়ে জামিন আবেদন করা হলেও তখন তা মঞ্জুর হয়নি। কারাগারে থাকা অবস্থায় তার চিকিৎসা যথাযথভাবে হচ্ছিল না বলেও পরিবারের অভিযোগ ছিল।
পরে অসুস্থতা বিবেচনায় আদালত গত ১৭ আগস্ট তাকে জামিন দেন। জামিনে মুক্তির এক মাস দশদিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন তিনি।
আজহার আলী এক সময় দৈনিক ‘আমাদের সময়’ ও ‘আজকের কাগজ’-এ সাংবাদিকতা করেছেন।
সানা/আপ্র/২৭/৯/২০২৬