ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র রেলসেতুর ওপর রেললাইনে চলে আসা এক যুবক ট্রেনের চালকের তৎপরতায় প্রাণে বেঁচেছেন। তাৎক্ষণিক ব্রেক প্রয়োগ, একটানা হুইসেল এবং ট্রেনের গতি কমিয়ে চালকের সতর্কতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ১০ মিনিটের দিকে ৭৭৮ নম্বর হাওড় এক্সপ্রেস ট্রেন ব্রহ্মপুত্র রেলসেতু পার হওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।
ট্রেনটির লোকোমাস্টার এনায়েত ধ্রুব জানান, ব্রহ্মপুত্র রেলসেতুতে ওঠার আগে গোলাই এলাকায় থাকতেই তিনি দুই থেকে তিনবার দীর্ঘ হুইসেল দেন। তখন ট্রেনের গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কিলোমিটার।
গোলাই পার হয়ে সেতুর ওপর ওঠার পর সোজা রেললাইনে ছাতা মাথায় এক যুবককে হাঁটতে দেখেন তিনি। তখন ট্রেন থেকে যুবকটির দূরত্ব ছিল আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ গজ।
যুবকটিকে দেখতে পেয়েই চালক থ্রটল আইডলে নিয়ে ব্রেক প্রয়োগ করেন এবং একটানা হুইসেল দিতে থাকেন। হুইসেলের শব্দে যুবকটি প্রথমে থমকে দাঁড়িয়ে পেছনে ফিরে ট্রেনের দিকে তাকান। পরে তিনি সামনের দিকে দৌড়াতে শুরু করেন।
এ সময় চালক ট্রেনের গতি আ কমিয়ে প্রায় হাঁটার গতিতে নিয়ে আসেন। তার আশঙ্কা ছিল, আতঙ্কিত হয়ে যুবকটি যেন সেতু থেকে লাফ দেওয়ার মতো কোনো সিদ্ধান্ত না নেন।
একপর্যায়ে যুবকটি সেতুর এক পাশে দাঁড়ানোর মতো জায়গায় পৌঁছে ছাতা বন্ধ করে রেলিংয়ের ওপর দুই হাত রেখে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে পড়েন। পরে চালক ধীরে ধীরে ট্রেনটি তার পাশ দিয়ে নিয়ে সেতু পার হন।
পুরো সময় চালক ও তার সহকর্মীরা যুবকটির দিকে নজর রাখেন। ট্রেনের শেষ বগিতে থাকা পরিচালকও ঘটনাটি লক্ষ্য করেন বলে জানান লোকোমাস্টার। তবে রেললাইনে হাঁটতে থাকা ওই যুবকের পরিচয় জানা যায়নি।
লোকোমাস্টার এনায়েত ধ্রুব সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আল্লাহর অশেষ রহমতে বড় একটি দুর্ঘটনা থেকে ওই যুবক রক্ষা পেয়েছেন। তাকে দেখতে পেয়েই দ্রুত ব্রেক প্রয়োগ করি এবং একটানা হুইসেল দিতে থাকি।’
তিনি বলেন, ‘হুইসেলের শব্দ শুনে যুবকটি প্রথমে পেছনে ফিরে ট্রেনের দিকে তাকান। পরে সামনের দিকে দৌড়াতে শুরু করেন। তখন আমার সবচেয়ে বড় চিন্তা ছিল, আতঙ্কিত হয়ে যুবকটি যেন ব্রিজ থেকে লাফ দেওয়ার মতো কোনো সিদ্ধান্ত না নেন। এ কারণে ট্রেনের গতি আরো কমিয়ে ধীরে ধীরে তার পেছনে এগিয়ে যাই।’
এনায়েত ধ্রুব বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত যুবকটি ব্রিজের এক পাশে দাঁড়ানোর মতো জায়গায় পৌঁছাতে সক্ষম হন। কোনো দুর্ঘটনা না ঘটায় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাই।’
তিনি আরো বলেন, ‘ঘটনাটি আমাদের জন্যও অত্যন্ত আতঙ্কের ছিল। একটি মুহূর্তের ভুল বা অসতর্কতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত। একই সঙ্গে ব্রহ্মপুত্র রেলসেতুতে পথচারীদের চলাচলের ঝুঁকির বিষয়টিও এ ঘটনা সামনে এনেছে।’
রেলসেতুতে ট্রেন চলাচলের সময় রেললাইনে ওঠা বা হাঁটা অত্যন্ত বিপজ্জনক উল্লেখ করে সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান এই লোকোমাস্টার।
এসি/আপ্র/২৮/৯/২০২৬