পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।”
রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জনসচেতনতা বৃদ্ধি, জনসম্পৃক্ত পুলিশিং জোরদার এবং পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মোঃ জামিরুল ইসলাম।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোঃ রেজাউল করিম এবং বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সমৃদ্ধি এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে অর্থনৈতিক অগ্রগতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে দেশের উন্নয়নের পথে বেকারত্ব একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিবছর ২৫ থেকে ৩০ লাখ শিক্ষিত বেকার নতুন করে বেকারত্বের তালিকায় যুক্ত হচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আইজিপি বলেন, সমাজে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পুলিশকে কার্যকর ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা থাকলে অপরাধ প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন সহজ হবে। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মাদক ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান: মাদকবিরোধী কার্যক্রম প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান শূন্য সহনশীলতা। মাদক নির্মূল এবং সমাজকে এর ভয়াবহ প্রভাব থেকে রক্ষা করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষায় পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, কিশোর গ্যাং নির্মূলে পুলিশকে অবশ্যই সহযোগিতা করতে হবে। কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক নজরদারি এবং তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা জরুরি। অপরাধ দমনে শুধু পুলিশের ওপর নির্ভর না করে জনগণকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সমাবেশে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরো গতিশীল করা, অপরাধ প্রতিরোধে জনসাধারণের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও জনগণের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা বলেন, নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে আস্থা, বিশ্বাস এবং সহযোগিতার সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করা প্রয়োজন। স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধের তথ্য আদান-প্রদান, মাদকবিরোধী সচেতনতা এবং কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সমাবেশে অতিথি ও অংশগ্রহণকারীরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁদের মতে, পুলিশ ও জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উন্নত সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
সানা/আপ্র/২৫/১০/২০২৬