একেএম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম অফিস: জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ ও গুরুতর আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রামে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে গঠিত এ বোর্ড প্রতিদিন আহতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং উন্নত চিকিৎসা পরামর্শ দিচ্ছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুই বছর পার হলেও চট্টগ্রামের বহু আহত ‘জুলাই যোদ্ধা’ এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। অনেকের শরীরে গুলির স্প্লিন্টার রয়ে গেছে, কেউ দৃষ্টিশক্তির জটিলতায় ভুগছেন, আবার কেউ অঙ্গহানিজনিত শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে ৯ জন শহীদ এবং ৫৪৪ জন আহত হিসেবে নিবন্ধিত রয়েছেন।
আহতদের অবস্থা অনুযায়ী সরকার তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছে। অঙ্গহানি বা পঙ্গুত্বের ঝুঁকিতে থাকা অতি গুরুতর ‘এ’ ক্যাটাগরিতে রয়েছেন ৬ জন, গুরুতর ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৩৩ জন এবং কম গুরুতর ‘সি’ ক্যাটাগরিতে রয়েছেন ৫০৫ জন।
সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যে গঠিত এই বোর্ডের মাধ্যমে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ জন আহতকে নিয়মিত সেবা দেওয়া হচ্ছে।
বোর্ডে সার্জারি, অর্থোপেডিক্স, চক্ষু, নাক-কান-গলা ও মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা রোগীদের শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করে পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করছেন।
চিকিৎসাধীনদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ সরবরাহ, অর্থোপেডিক প্লেট অপসারণের ব্যবস্থা এবং জটিল চক্ষুরোগে আক্রান্তদের বিশেষায়িত চক্ষু হাসপাতালে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আন্দোলনে আহত অনেকের চিকিৎসায় দীর্ঘমেয়াদি তদারকি প্রয়োজন হচ্ছে। সে কারণেই বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিদিন আসা রোগীদের অবস্থা মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হচ্ছে। যাদের উন্নত বা জটিল অস্ত্রোপচার প্রয়োজন, তাদের দ্রুত বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সর্বশেষ সরকারি গেজেট অনুযায়ী, দেশজুড়ে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়া শহীদের সংখ্যা ৮৪৩ জন এবং আহতের সংখ্যা ১৪ হাজার ৩৭০ জন।
সানা/আপ্র/২/৮/২০২৬