পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মাসুদ খানকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। দায়িত্ব হস্তান্তরের পর শুভেচ্ছা জানিয়ে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এই আশ্বাস দেন।
রোববার (৭ জুন) সংবাদমাধ্যমকে রাশেদ মাকসুদ জানান, নতুন চেয়ারম্যানকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যাশার পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে যেকোনো ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। প্রায় ২১ মাস দায়িত্ব পালন শেষে গত বৃহস্পতিবার তিনি পদত্যাগ করেন। দায়িত্বকালীন সময়ে দেশের পুঁজিবাজারকে একটি স্থিতিশীল ও নিয়মভিত্তিক কাঠামোর ওপর দাঁড় করানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন তিনি।
দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রাশেদ মাকসুদ লেখেন, “দুই হাজার চব্বিশ সালের আগস্টে বিদ্যমান বিপর্যস্ত পরিস্থিতি থেকে একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করেছি। সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই ভবিষ্যতে পুঁজিবাজার আরো এগিয়ে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে কমিশন প্রয়োজনীয় বিধি-বিধান সংস্কার, নীতিমালা সহজীকরণ, অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ কমানো, বাজারে অনুগত্য নিশ্চিত করা, আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিনিয়োগকারী শিক্ষা কার্যক্রম পুনর্গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
বিদায়ী চেয়ারম্যানের মতে, এসব উদ্যোগ বাজারের ভিত্তি শক্তিশালী করতে সহায়ক হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।
চিঠিতে তিনি আরো বলেন, নতুন প্রাথমিক গণপ্রস্তাব এবং মিউচুয়াল ফান্ড সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে নতুন প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রও এখন অনেক বেশি প্রস্তুত। ফলে বাজারে নতুন বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের উদ্দেশে রাশেদ মাকসুদ লেখেন, “নতুন প্রাথমিক গণপ্রস্তাব এবং মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার মাধ্যমে পুঁজিবাজার এখন নতুন যাত্রার জন্য প্রস্তুত। আমার বিশ্বাস, আপনার বিশাল অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে অদূর ভবিষ্যতে বাজারকে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন।”
একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, “আপনার যদি কখনো কোনো তথ্য বা সহযোগিতার প্রয়োজন হয়, আমি সবসময় পাশে আছি। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়ন প্রশ্নে আমার সমর্থন রয়েছে এবং এ বিষয়ে আমি সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদায়ী চেয়ারম্যানের এই বার্তা শুধু আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা নয়; বরং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শুরু হওয়া সংস্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার একটি আহ্বানও বটে। একই সঙ্গে এটি দেশের পুঁজিবাজারকে আরো শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব করে তোলার প্রত্যাশার প্রতিফলন।
সানা/আপ্র/৭/৬/২০২৬