দেশের বাজারে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে সুগন্ধি ও পোলাওয়ের চালের দাম। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে মানভেদে প্রতি কেজি চালের দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজধানীর খুচরা বাজারে এক মাস আগে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া পোলাওয়ের চাল এখন ২০০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
একই সময়ে পাইকারি বাজারে ৫০ কেজির ভালো মানের চিনিগুঁড়া চালের বস্তার দাম প্রায় তিন হাজার টাকা বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা রপ্তানির অনুমতি, সরবরাহ সংকট ও উৎপাদন কমে যাওয়াকে দায়ী করলেও ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কার্যকর বাজার তদারকির অভাব এবং অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রবাসীদের মধ্যে চিনিগুঁড়া চালের চাহিদা বাড়ায় রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সুযোগে কেউ কেউ অবৈধভাবে চাল মজুদও করছেন।
বাবুবাজারের সুগন্ধি চাল ব্যবসায়ী সিফাত সরকার জানান, বর্তমানে ভালো মানের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৫০ কেজির বস্তা ১০ হাজার থেকে ১০ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চলতি বছর রপ্তানি বৃদ্ধি, উৎপাদন কিছুটা কমে যাওয়া, কয়েকটি এলাকায় ফসলের ক্ষতি এবং আমদানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ—সব মিলিয়ে বাজারে সুগন্ধি চালের সরবরাহ কমে গেছে।
তিনি বলেন, আগে নওগাঁসহ বিভিন্ন মোকাম থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী সহজেই সুগন্ধি চাল পাওয়া গেলেও এখন সরবরাহ সীমিত এবং দাম অনেক বেশি। তবে এ সংকট মূলত সুগন্ধি চালেই সীমাবদ্ধ; সিদ্ধ চালের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।
কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী সম্রাট শেখ বলেন, দেশে পোলাওয়ের চালের প্রকৃত সংকট নেই। সরকার রপ্তানির সুযোগ দেওয়ায় ব্যবসায়ীরা দেশীয় বাজারের চেয়ে রপ্তানিতে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। এক মাস আগে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া চাল এখন পাইকারি পর্যায়েই ২০২ টাকা কেজি দরে কিনতে হচ্ছে।
তার মতে, সুগন্ধি চালের রপ্তানি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হলে দুই-তিন দিনের মধ্যে প্রতি কেজিতে প্রায় ৫০ টাকা পর্যন্ত দাম কমে আসতে পারে। অন্যথায় ভবিষ্যতে এ চালের দাম ২৫০ টাকা কেজিতেও পৌঁছাতে পারে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান বলেন, বাজারে চালের প্রকৃত সংকট নেই। অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফার আশায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে বলে তার ধারণা।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) জানিয়েছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে দুই দফায় মোট ২৩ হাজার ৯৫৯ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এসি/আপ্র/০১/০৮/২০২৬