গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

শিশুর একাকিত্ব অবসানে সামাজিক উদ্যোগ প্রয়োজন

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:১৮ পিএম, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ১৩:২৮ এএম ২০২৬
শিশুর একাকিত্ব অবসানে সামাজিক উদ্যোগ প্রয়োজন
ছবি

ছবি সংগৃহীত

শিশুর প্রতিভা বিকাশের প্রথম সোপান হলো তার শিক্ষা। এই শিক্ষা শিশু বিভিন্নভাবে গ্রহণ করতে পারে। এক সময় শিশুকে নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার মধ্যে রেখে বিদ্যা অর্জন করার পদ্ধতি আমাদের দেশে প্রচলিত ছিল। তবে বর্তমানে তা নেই বললেই চলে। এ ধরনের শিক্ষাকে আধুনিক শিক্ষাবিদরা সংকীর্ণ শিক্ষা হিসেবে অভিহিত করেছেন।

শিশুকে জোর করে বিদ্যার্জন করানোর নাম শিক্ষা নয়, বরং শিশুর গ্রহণ উপযোগী আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষাদান হলো প্রকৃত শিক্ষা। বিদ্যালয় হবে শিশুর আনন্দের জায়গা- যেখানে যেতে সে আগ্রহী থাকবে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের পাঠদান যেন তাকে নিজেকে ‘কেজেড বার্ড’ ভাবতে বাধ্য না করে। শিশুরা কৌতূহলী হয়। শিশুর কৌতূহল কাটিয়ে সহজ-সুন্দর করে তার কাছে বিষয়বস্তু উপস্থাপন করতে হবে। শিশুর সুষ্ঠু বিনোদন কেন্দ্রের ব্যবস্থা করতে হবে। গ্রামে সাধারণত এই পরিবেশের অভাব হয় না।

খেলার মাঠে সমবয়সি সঙ্গীদের সঙ্গে খেলাধুলাই শিশুর জীবনের শ্রেষ্ঠ বিনোদন। সমবয়সিদের সঙ্গে সুস্থ প্রতিযোগিতা শিশুর মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে আমাদের জীবনের আধুনিকতার ছোঁয়া প্রত্যেক শিশুর সামাজিকীকরণে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মা-বাবা উভয়েই চাকরিজীবী হওয়ায় শিশু মানুষ হচ্ছে কোনো তৃতীয় ব্যক্তির হাতে। একাকিত্ব তাকে ঘিরে রাখছে। মায়ের কাছ থেকে যে শিশুর হাতেখড়ি হওয়ার কথা ছিল, সে অ আ ক খ থেকে অ ই ঈ উ শিখছে প্রাইভেট শিক্ষকের কাছে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, আধুনিক প্রযুক্তির সহজলভ্যতার জন্য শিশুরা এখন আর রঙিন মলাটের পশুপাখি আঁকা বইয়ে মজা পায় না। তারা মোবাইলে কার্টুন কিংবা গেম খেলায় অভ্যস্ত। এখন আর তারা জন্মদিনে শক্ত পাতার গল্পের বই আশা করে না, বরং স্মার্টফোন কিংবা ট্যাব পেলে বেশি খুশি হয়। বাড়ির বাইরে গিয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে খেলাধুলা, সহপাঠীদের সঙ্গে হাতে হাত মেলানো, কোলাকুলি করা থেকে তারা বিনোদন খুঁজে নিয়েছে কম্পিউটারের ভিডিও গেমে। এসব কিছুই শিশুর বিকাশের অন্তরায়। শিশুর প্রতিভা বিকাশ বাধাগ্রস্ত হলে তা সমাজ কিংবা দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না। তাই শিশুর বিকাশে যথাসম্ভব সামর্থ্য নিয়ে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে।

আজকের শিশু আগামী দিনের কাণ্ডারি। জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ। সন্তানহীন সংসার একটি দম্পতির জন্য বিতৃষ্ণার হয়। একজন সন্তান একটি দম্পতির জীবনে শ্রেষ্ঠ সম্পদ হয়। কিন্তু সেই শিশুর জন্মের পর ক’জন মা-বাবা পারেন তার সুষ্ঠু সামাজিকীকরণের ব্যবস্থা করতে? একটি সুস্থ, সচেতন ও আত্মবিশ্বাসী শিশুর গড়ে ওঠার পেছনে পরিবার, বিশেষ করে মা-বাবার যত্ন ও দিকনির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর প্রাথমিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে পরিবার।

বলা বাহুল্য, পরিবারের পরিবেশ হতে হবে শিশুর জন্য অনুকূল। হাসি-আনন্দের মাঝে যেন শিশু বড় হতে পারে, তা পরিবারের সদস্যদেরই নিশ্চিত করতে হবে। পারিবারিক ভাঙন তথা মা-বাবার মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ শিশুর মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে। শিশুর মনে দাগ কাটে- এমন অশোভন আচরণ থেকে পরিবারের সদস্যদের বিরত থাকতে হবে। একক পরিবার অপেক্ষা যৌথ পরিবারে বেড়ে ওঠা শিশুরা অধিক সামাজিক হয়। যৌথ পরিবারে দাদা-দাদি, চাচা-চাচি, ফুফু, মামা-খালা প্রমুখ সদস্যের সঙ্গে মেলামেশার ফলে শিশুর সামাজিক দক্ষতা ও যোগাযোগ ক্ষমতা ভালোভাবে গড়ে ওঠে। তারা দায়িত্ববোধ ও শৃঙ্খলা শেখে এবং তাদের মানসিক চাপ ও একাকিত্ব কম থাকে। শিশুরা অনুকরণপ্রিয় হয়। তারা আশপাশের মানুষকে অনুকরণ করে। প্রত্যেক কন্যাশিশুই কোনো না কোনো দিন মায়ের শাড়ি নিজের গায়ে ফেলে দেখে তাকে তার মায়ের মতো লাগছে কি না। এ ছাড়া ও তারা আশপাশের মানুষের বাচনভঙ্গি, হাঁটাচলা, কাজকর্ম সবকিছু অনুকরণ করে। শিশুরা দেখে শেখে।

আজকে আপনি আপনার শিশুকে যতটা পরিচ্ছন্ন পরিবেশে মানুষ করবেন, আগামীতে তার মানসিকতাও ততটা পরিচ্ছন্ন হবে। এ কারণে শিশুর পারিপার্শ্বিক পরিবেশ যাতে নিরাপদ ও অনুকূল হয় সেদিকে পরিবারকে সচেতন হতে হবে। তাই আমাদের প্রত্যাশা, শিশুর একাকিত্ব অবসানে সবাই সামাজিকীকরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন।  

কেএমএএ/এসি/আপ্র/২৯/০১/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাই আরো সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগ
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাই আরো সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগ

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর মিছিল থামছে না। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা, দীর্ঘ হচ্ছে শোকাহত পরিবারের...

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান জরুরি
২৮ অক্টোবর ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান জরুরি

স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর বাংলাদেশে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ দাফন নিয়ে বিরোধ, বাউলশিল...

পুলিশের হাত বাঁধা রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে?
২৭ অক্টোবর ২০২৬

পুলিশের হাত বাঁধা রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে?

থানার সামনে লেখা থাকে, ‘সেবাই পুলিশের ধর্ম’। মানুষের সুস্থ, স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা এই অ...

শিশু নিপীড়নের বিচার হোক, মাদ্রাসায় জবাবদিহি নিশ্চিত হোক
২৬ অক্টোবর ২০২৬

শিশু নিপীড়নের বিচার হোক, মাদ্রাসায় জবাবদিহি নিশ্চিত হোক

একটি শিশুকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোর সময় কোনো মা-বাবা কি কখনো কল্পনা করেন, সুশিক্ষা ও নিরাপদ ভবিষ্য...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে