গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

ইতিহাসের লড়াই থামাও, স্বাধীনতার ভিত্তি রক্ষা করো

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:২৮ পিএম, ২৬ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ২২:১৩ এএম ২০২৬
ইতিহাসের লড়াই থামাও, স্বাধীনতার ভিত্তি রক্ষা করো
ছবি

ইতিহাসের লড়াই থামাও, স্বাধীনতার ভিত্তি রক্ষা করো

অগ্নিঝরা মার্চ আমাদের কেবল স্মৃতির কাছে নয়, দায়বদ্ধতার কাছেও ফিরিয়ে আনে। ২৫ মার্চের কালরাত্রির বিভীষিকা, ২৬ মার্চের প্রভাতে স্বাধীনতার ঘোষণা-এই দুই প্রান্তের মধ্যেই নিহিত একটি জাতির আত্মপ্রতিষ্ঠার ইতিহাস। শেখ মুজিবুর রহমান-এর ঐতিহাসিক আহ্বান এবং পরবর্তীকালে জিয়াউর রহমান-এর ঘোষণাপাঠ বিশ্ববাসীর কাছে সেই আহ্বান পৌঁছে দেয়-এই ধারাবাহিকতা কোনো একক ব্যক্তির নয়, বরং একটি জাতির সম্মিলিত আত্মপ্রকাশের প্রতীক।

কিন্তু স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়েও আমরা এখনো ইতিহাসের মৌলিক সত্য নির্ধারণে বিভক্ত। এটি কেবল রাজনৈতিক মতভেদ নয়; এটি রাষ্ট্রচিন্তার একটি গভীর সংকট। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তির দীর্ঘদিনের পারস্পরিক প্রতিযোগিতা ইতিহাসকে একটি নীতিনির্ধারণমূলক ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে ইতিহাস হয়ে উঠেছে প্রমাণভিত্তিক গবেষণার বিষয় নয়, বরং ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে পরিবর্তিত এক বয়ান।

এই প্রবণতা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক। কারণ, রাষ্ট্রের বৈধতা কেবল ভৌগোলিক সীমারেখায় নির্ধারিত হয় না; তা নির্ধারিত হয় তার ইতিহাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি অভিন্ন জাতীয় চেতনায়। যখন সেই চেতনা বিভক্ত হয়, তখন রাষ্ট্রের ভেতরে অনিশ্চয়তা জন্ম নেয়, আর বাইরে তৈরি হয় দুর্বলতার ধারণা।

বাংলাদেশ আজ অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সামাজিক সূচক এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। যে দেশ একসময় অবজ্ঞার শিকার হয়েছিল, সেই দেশ আজ উন্নয়নশীল বিশ্বের এক সম্ভাবনাময় উদাহরণ। কিন্তু উন্নয়নের এই সাফল্য ইতিহাসগত অনিশ্চয়তার ওপর দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন তখনই স্থিতিশীল হয়, যখন তার জনগণ তাদের অতীত সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও অভিন্ন ধারণা ধারণ করে।

অতএব, এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো স্বাধীনতার ইতিহাসকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক, নিরপেক্ষ ও সর্বজনগ্রহণযোগ্য কাঠামোর মধ্যে নির্ধারণ করা। এ লক্ষ্যে একটি স্বাধীন জাতীয় ইতিহাস কমিশন গঠন করা যেতে পারে, যেখানে ইতিহাসবিদ, গবেষক, মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা প্রমাণভিত্তিক দলিলপত্রের আলোকে একটি গ্রহণযোগ্য কালক্রম ও বিশ্লেষণ উপস্থাপন করবেন। সেই ইতিহাস হবে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, প্রজন্মান্তরে শিক্ষার ভিত্তি।

এছাড়া, পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন থেকে শুরু করে গণমাধ্যমের উপস্থাপন-সবখানে একটি নীতিগত ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মতভেদ থাকবে, কিন্তু মৌলিক সত্য নিয়ে বিভ্রান্তি থাকবে না-এই নীতিই হতে হবে রাষ্ট্রের অবস্থান।

স্বাধীনতা কেবল অর্জনের ঘটনা নয়; এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রতিটি প্রজন্মকে তা নতুন করে ধারণ করতে হয়, রক্ষা করতে হয়। বিভক্ত ইতিহাস সেই প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে, আর ঐক্যবদ্ধ ইতিহাস তাকে শক্তিশালী করে।

আজকের এই স্বাধীনতা দিবসে আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক-ইতিহাসকে আর দ্বন্দ্বের অস্ত্র বানানো নয়, বরং তা হোক ঐক্যের ভিত্তি। কারণ, যে স্বাধীনতা রক্তে অর্জিত, তা বিভক্তির রাজনীতির কাছে পরাজিত হলে-তা হবে ইতিহাসের প্রতি, আত্মত্যাগের প্রতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি এক গভীর অবিচার।
সানা/আপ্র/২৬/৩/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাই আরো সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগ
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাই আরো সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগ

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর মিছিল থামছে না। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা, দীর্ঘ হচ্ছে শোকাহত পরিবারের...

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান জরুরি
২৮ অক্টোবর ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান জরুরি

স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর বাংলাদেশে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ দাফন নিয়ে বিরোধ, বাউলশিল...

পুলিশের হাত বাঁধা রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে?
২৭ অক্টোবর ২০২৬

পুলিশের হাত বাঁধা রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে?

থানার সামনে লেখা থাকে, ‘সেবাই পুলিশের ধর্ম’। মানুষের সুস্থ, স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা এই অ...

শিশু নিপীড়নের বিচার হোক, মাদ্রাসায় জবাবদিহি নিশ্চিত হোক
২৬ অক্টোবর ২০২৬

শিশু নিপীড়নের বিচার হোক, মাদ্রাসায় জবাবদিহি নিশ্চিত হোক

একটি শিশুকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোর সময় কোনো মা-বাবা কি কখনো কল্পনা করেন, সুশিক্ষা ও নিরাপদ ভবিষ্য...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে