গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

হামে কেন জীবন যায়

স্বাস্থ্যসেবায় কার গাফিলতি?

সুখদেব কুমার সানা

সুখদেব কুমার সানা

প্রকাশিত: ১১:৫৪ পিএম, ০২ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২০:৪৬ এএম ২০২৬
স্বাস্থ্যসেবায় কার গাফিলতি?
ছবি

ছবি সংগৃহীত

দেশজুড়ে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতাকে নগ্নভাবে উন্মোচিত করেছে। এক সময় নিয়ন্ত্রণে থাকা এই সংক্রামক রোগে আবারো শিশু মৃত্যুর মিছিল শুরু হওয়া নিঃসন্দেহে গভীর উদ্বেগজনক ও লজ্জাজনক। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসেই অর্ধশতাধিক শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে; শুধু রাজধানীর একটি হাসপাতালেই মারা গেছে ২২ শিশু।

রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রামসহ কয়েক জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে দ্রুতগতিতে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, চিকিৎসকরা এটিকে সম্ভাব্য মহামারির পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন। এই সংকটের মূল কারণ অনুসন্ধান করতে গেলে প্রথমেই উঠে আসে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী টিকা প্রদান। অথচ প্রশ্ন হচ্ছে-কেন দীর্ঘ বছরজুড়ে এই টিকা কার্যক্রমে ছেদ পড়ল? কেন শিশুদের একটি বড় অংশ টিকার আওতার বাইরে থেকে গেল? এর উত্তর খুঁজতে গেলে উঠে আসে প্রশাসনিক গাফিলতি, পরিকল্পনার অভাব এবং সম্ভাব্য দুর্নীতির অভিযোগ।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে স্বাস্থ্যখাতের সরকারি ক্রয় অনেক ক্ষেত্রে সংকুচিত করা হয়েছিল। যেখানে হামের টিকা কেনাই হয়নি। আবার কেউ কেউ বলছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকেই নাকি হামের টিকা সংগ্রহ কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। যদি এসব অভিযোগ সত্য হয়, তবে তা কেবল অব্যবস্থাপনা নয়, বরং একটি গুরুতর মানবিক ব্যর্থতা। কারণ, টিকার অভাবে একটি শিশুর মৃত্যুও কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবশ্য দায় একপক্ষীয় নয়, অভিভাবকদের মধ্যেও টিকা নিয়ে অনাগ্রহ ও অসচেতনতা রয়েছে; যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে। তবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে নাগরিককে সচেতন করা এবং সেবা নিশ্চিত করা। ওই জায়গায় ঘাটতি থাকলে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামসহ বিভিন্ন টিকা সংগ্রহে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে এবং দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। এটি অবশ্যই আশাব্যঞ্জক উদ্যোগ। কিন্তু প্রশ্ন হলো-এতদিন কেন অপেক্ষা? কেন সংকট চরমে পৌঁছানোর পর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে? স্বাস্থ্যসেবা এমন একটি খাত, যেখানে বিলম্ব মানেই জীবনহানি।

বাংলাদেশ অতীতে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যে যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছিল, বর্তমান পরিস্থিতি সেই সাফল্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। অর্জন ধরে রাখতে হলে এখনই কার্যকর ও ত্বরিৎ পদক্ষেপ নিতে হবে। জরুরি ভিত্তিতে সারাদেশে টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করে ব্যাপকভাবে টিকাদান কর্মসূচি চালু করা ছাড়া বিকল্প নেই। একই সঙ্গে এই সংকটের পেছনে কারা দায়ী-তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। কোনো সরকার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির গাফিলতি কিংবা দুর্নীতির কারণে যদি স্বাস্থ্যসেবার আওতা সংকুচিত হয়ে থাকে; এবং মানুষ মারা যায়, তবে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতেই হবে। স্বাস্থ্য খাতে এই সংকট আমাদের জন্য এক কঠিন সতর্কবার্তা। এখনই যদি সঠিক পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে এর মূল্য দিতে হবে আরো বহু নিরীহ শিশুকে। কাজেই আর কোনো কালক্ষেপণ নয়; মানুষের জীবন রক্ষায় সরকারকে এখনই দৃঢ়, স্বচ্ছ এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

সানা/এসি/আপ্র/০২/০৪/২০২৬

 

 

 

 

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাই আরো সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগ
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাই আরো সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগ

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর মিছিল থামছে না। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা, দীর্ঘ হচ্ছে শোকাহত পরিবারের...

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান জরুরি
২৮ অক্টোবর ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান জরুরি

স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর বাংলাদেশে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ দাফন নিয়ে বিরোধ, বাউলশিল...

পুলিশের হাত বাঁধা রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে?
২৭ অক্টোবর ২০২৬

পুলিশের হাত বাঁধা রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে?

থানার সামনে লেখা থাকে, ‘সেবাই পুলিশের ধর্ম’। মানুষের সুস্থ, স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা এই অ...

শিশু নিপীড়নের বিচার হোক, মাদ্রাসায় জবাবদিহি নিশ্চিত হোক
২৬ অক্টোবর ২০২৬

শিশু নিপীড়নের বিচার হোক, মাদ্রাসায় জবাবদিহি নিশ্চিত হোক

একটি শিশুকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোর সময় কোনো মা-বাবা কি কখনো কল্পনা করেন, সুশিক্ষা ও নিরাপদ ভবিষ্য...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে