গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

নৈতিকতার কাঠগড়ায় রাজনীতি, জনআস্থার সুরক্ষায় কঠোরতার বিকল্প নেই

সুখদেব কুমার সানা

সুখদেব কুমার সানা

প্রকাশিত: ১৪:১২ পিএম, ২৩ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১৪:৩২ এএম ২০২৬
নৈতিকতার কাঠগড়ায় রাজনীতি, জনআস্থার সুরক্ষায় কঠোরতার বিকল্প নেই
ছবি

ফাইল ছবি

গণতন্ত্রে একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় পরিচয় তাঁর পদ নয়, জনগণের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা। সংসদ সদস্যরা শুধু আইন প্রণয়ন করেন না, তাঁরা সমাজের নৈতিক মানদণ্ড, রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও জনআস্থার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হন। তাই কোনো জনপ্রতিনিধিকে ঘিরে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ উঠলে সেটি আর ব্যক্তিগত পরিসরে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা সরাসরি প্রশ্ন তোলে রাজনীতির মান, দলের আদর্শ এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির ওপর।

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনা সেই বাস্তবতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ব্যক্তিগত ভিডিও, এরপর সেটিকে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগত মুহূর্ত হিসেবে ব্যাখ্যা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, কাবিননামা প্রকাশ, কিছু নথি নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্ন এবং সর্বশেষ দলের সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত-পুরো ঘটনাপ্রবাহ রাজনীতিতে নৈতিকতার প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে।

ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দায়িত্ব অবশ্যই নিরপেক্ষ তদন্তের। কোনো অভিযোগ প্রমাণের আগে চূড়ান্ত রায় দেওয়া যেমন ন্যায়সংগত নয়, তেমনি একজন জনপ্রতিনিধিকে ঘিরে ওঠা গুরুতর প্রশ্নকেও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ জনজীবনে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, সততা ও জবাবদিহির মানদণ্ড সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর। জনগণ তাঁদের শুধু ব্যক্তি হিসেবে দেখে না, দেখে একটি প্রতিষ্ঠান, একটি দল ও একটি রাজনৈতিক আদর্শের প্রতিনিধি হিসেবে।

এই ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পর তিনি যেভাবে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন, তা জনমনে আরো প্রশ্ন তৈরি করেছে কি না, সেটিও বিবেচনার বিষয়। কোনো বিতর্কিত পরিস্থিতিকে ব্যাখ্যার মাধ্যমে আড়াল করার চেষ্টা, তথ্যের অসঙ্গতি কিংবা পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের প্রচেষ্টা থাকলে তা নৈতিক অবস্থানকে আরো দুর্বল করে। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে মানুষের চোখ ও বিচারবোধকে অবমূল্যায়ন করার সুযোগ নেই। সত্যকে সাময়িকভাবে আড়াল করা গেলেও জনবিশ্বাসের সংকট সহজে দূর করা যায় না।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। এটি দেখিয়েছে, কোনো রাজনৈতিক সংগঠন যদি নিজেদের নৈতিক অবস্থান ও আদর্শের প্রতি সত্যিকার অর্থে দায়বদ্ধ থাকে, তবে সংকটের সময়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বিশেষ করে যে দল নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও আদর্শের রাজনীতির কথা বলে, তাদের জন্য এই ধরনের ঘটনায় আপসহীন অবস্থান গ্রহণ আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তবে শুধু দলীয় পদ থেকে বহিষ্কারই যথেষ্ট কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। একজন সংসদ সদস্য যখন জনআস্থার সংকটে পড়েন, তখন তাঁর দায়িত্ব কেবল রাজনৈতিক দলের কাছে নয়, পুরো জনগণের কাছে। তাই নিজের সম্মান, প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সংসদ সদস্য পদ থেকেও সরে দাঁড়ানো অনেক সময় দায়িত্বশীলতার পরিচয় হতে পারে। ক্ষমতার আসন আঁকড়ে থাকার চেয়ে নৈতিক অবস্থান অক্ষুণ্ন রাখা একজন জনপ্রতিনিধির জন্য অধিক মর্যাদার।

আমরা প্রত্যাশা করি, এই ঘটনা কোনো একটি দল বা ব্যক্তিকে ঘিরে সীমাবদ্ধ থাকবে না। দেশের সব রাজনৈতিক দল ও জনপ্রতিনিধির জন্য এটি হবে একটি শিক্ষা। নৈতিক স্খলনের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়, রাজনৈতিক অবস্থান কিংবা ক্ষমতার প্রভাব নয়-সত্য, ন্যায় ও জনস্বার্থই হতে হবে সর্বোচ্চ বিবেচনা।

রাজনীতির শক্তি কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা ক্ষমতায় নয়; এর প্রকৃত শক্তি মানুষের বিশ্বাসে। সেই বিশ্বাস রক্ষায় প্রয়োজন কঠোর আত্মশুদ্ধি, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি। কারণ জনগণের আস্থা হারালে কোনো পদ, পরিচয় কিংবা ক্ষমতার বলয় দীর্ঘদিন একটি রাজনৈতিক জীবনকে রক্ষা করতে পারে না। গণতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষায় তাই নৈতিকতার প্রশ্নে আপস নয়, প্রয়োজন দৃষ্টান্ত স্থাপনের সাহস।
সানা/আপ্র/২৩/৭/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাই আরো সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগ
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাই আরো সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগ

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর মিছিল থামছে না। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা, দীর্ঘ হচ্ছে শোকাহত পরিবারের...

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান জরুরি
২৮ অক্টোবর ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান জরুরি

স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর বাংলাদেশে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ দাফন নিয়ে বিরোধ, বাউলশিল...

পুলিশের হাত বাঁধা রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে?
২৭ অক্টোবর ২০২৬

পুলিশের হাত বাঁধা রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে?

থানার সামনে লেখা থাকে, ‘সেবাই পুলিশের ধর্ম’। মানুষের সুস্থ, স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা এই অ...

শিশু নিপীড়নের বিচার হোক, মাদ্রাসায় জবাবদিহি নিশ্চিত হোক
২৬ অক্টোবর ২০২৬

শিশু নিপীড়নের বিচার হোক, মাদ্রাসায় জবাবদিহি নিশ্চিত হোক

একটি শিশুকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোর সময় কোনো মা-বাবা কি কখনো কল্পনা করেন, সুশিক্ষা ও নিরাপদ ভবিষ্য...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে