গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

জেএমবির আস্তানা দেশের জননিরাপত্তায় অশনিসংকেত

খান মুহঃ আশরাফুল আলম

খান মুহঃ আশরাফুল আলম

প্রকাশিত: ১৯:৪৫ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ০৬:২৫ এএম ২০২৬
জেএমবির আস্তানা দেশের জননিরাপত্তায় অশনিসংকেত
ছবি

জেএমবির আস্তানা দেশের জননিরাপত্তায় অশনিসংকেত

সাভারে সম্প্রতি একটি বাসায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্যদের বোমা তৈরির কার্যক্রম পরিচালনার চাঞ্চল্যকর তথ্য আমাদের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে এক গভীর ভাবনায় ফেলে দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সময়োপযোগী হস্তক্ষেপে একটি বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা ভেস্তে গেলেও এটি স্পষ্ট যে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো চুপিসারে তাদের নেটওয়ার্ক পুনর্গঠনের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের ভেতরে উগ্রবাদের কোমর ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে স্বস্তি প্রকাশ করা হলেও সাভারের এই ঘটনা প্রমাণ করে যে আত্মঘাতী হামলা বা বড় ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টির সক্ষমতা অর্জনে জঙ্গিরা এখনো গোপনে তৎপর রয়েছে। এই ধরনের গোপন আস্তানা কেবল একটি নির্দিষ্ট এলাকাই নয়, বরং পুরো দেশের জননিরাপত্তার জন্য এক মারাত্মক অশনিসংকেত।

বলার অপেক্ষা রাখে না, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জঙ্গি উত্থানের পেছনে মূলত অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্ররোচনা এবং সাইবার দুনিয়ায় উগ্রবাদী মতাদর্শের নীরব প্রচার কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোয়েন্দা নজরদারি ও সাঁড়াশি অভিযানের ফলে অতীতে জেএমবি, আনসার আল ইসলাম কিংবা নব্য জেএমবির মতো সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতৃত্ব বিপর্যস্ত হয়েছিল। তবে কিছুদিন ঝিমিয়ে থাকার পর তারা এখন ছোট ছোট মডিউলে বিভক্ত হয়ে আত্মগোপনে থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার কৌশল নিয়েছে। স্থানীয় বাড়িভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়ির মালিকদের অসচেতনতা এবং সঠিক পরিচয়পত্র যাচাই না করার প্রবণতা এই অপরাধীদের সহজেই গা ঢাকা দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। ফলে উগ্রবাদীরা নতুন কর্মী সংগ্রহ এবং বিস্ফোরক সংগ্রহের মতো ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে- যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার পথে এক বিরাট অন্তরায়।

বলা বাহুল্য, উদীয়মান জঙ্গি তৎপরতার সংকট মোকাবিলায় কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করলেই চলবে না; বরং একটি সমন্বিত সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। প্রথমত, বাড়িভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশি ভেরিফিকেশন এবং কঠোর নিয়মকানুন নিশ্চিত করতে হবে যাতে কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তি সহজেই আশ্রয় না পায়। দ্বিতীয়ত, মসজিদ, মাদরাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে তরুণ সমাজকে উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সচেতন করে তুলতে হবে। এছাড়া গোয়েন্দা নেটওয়ার্ককে আরও আধুনিক ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর করে অপরাধীদের শিকড় গভীরে যাওয়ার আগেই তা উপড়ে ফেলতে হবে। রাষ্ট্র ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই অপশক্তিকে রুখে দিয়ে বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ ও শান্তির জনপদ হিসেবে টিকিয়ে রাখা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। তাই আমাদের প্রত্যাশা, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির নতুন করে নৈরাজ্য সৃষ্টির অপতৎপরতা বন্ধে দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ প্রয়োজন নেবে সরকার।

কেএমএএ/আপ্র/১৩.০৮.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাই আরো সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগ
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাই আরো সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগ

ডেঙ্গুতে মৃত্যুর মিছিল থামছে না। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা, দীর্ঘ হচ্ছে শোকাহত পরিবারের...

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান জরুরি
২৮ অক্টোবর ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা রক্ষায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান জরুরি

স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর বাংলাদেশে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ দাফন নিয়ে বিরোধ, বাউলশিল...

পুলিশের হাত বাঁধা রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে?
২৭ অক্টোবর ২০২৬

পুলিশের হাত বাঁধা রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত হবে কীভাবে?

থানার সামনে লেখা থাকে, ‘সেবাই পুলিশের ধর্ম’। মানুষের সুস্থ, স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা এই অ...

শিশু নিপীড়নের বিচার হোক, মাদ্রাসায় জবাবদিহি নিশ্চিত হোক
২৬ অক্টোবর ২০২৬

শিশু নিপীড়নের বিচার হোক, মাদ্রাসায় জবাবদিহি নিশ্চিত হোক

একটি শিশুকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোর সময় কোনো মা-বাবা কি কখনো কল্পনা করেন, সুশিক্ষা ও নিরাপদ ভবিষ্য...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে