শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কেউ দুর্নীতি করলে ২৪ ঘণ্টাও থাকতে পারবে না। তিনি জানান, ইতিমধ্যে দুর্নীতির অভিযোগে একজনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সচিবালয়ে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী এ কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, এই মন্ত্রণালয়ে যে দুর্নীতি করবে, ২৪ ঘণ্টাও থাকতে পারবে না। আমরা এখনো সে অবস্থানেই আছি। আজকেও একজনকে বিদায় দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি নিয়েও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী দিনে এসএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বর মাসে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এসএসসি পরীক্ষায় কোচিং বন্ধের নির্দেশ নেই: প্রশ্নফাঁস রোধে পরীক্ষার সময় কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার কোনো নির্দেশনা এবার দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, কোচিং সেন্টারগুলো সরকারিভাবে স্বীকৃত বা নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান নয়, তাই সেগুলোর ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বা বন্ধের নির্দেশনা নেই। মন্ত্রী আরো বলেন, ট্রেড লাইসেন্স সিটি করপোরেশন থেকে দেওয়া হলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এসব কোচিং সেন্টারের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা যাতে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা দিতে পারে সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পরীক্ষাকালীন সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোকে পরীক্ষাবান্ধব পরিবেশে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। সব মিলিয়ে আগামী পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া হলেও কোচিং সেন্টার বন্ধের বিষয়ে এবার কোনো বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত না থাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময়সীমা: আগমী ২০ মে পর্যন্ত চলবে পরীক্ষা। এরপর ৬০ দিনের মধ্যে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষায় এ বছর অপরাধ ঠেকাতে কঠোর নজরদারি রাখা হবে। কোনোভাবে পরীক্ষার ক্ষতিসাধন করার চেষ্টা হলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবার খাতা মুল্যায়নে মানবিক নম্বর দেওয়ার নির্দেশনা নেই এবং উত্তরপত্রের ভিত্তিতেই মূল্যায়ন হবে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সানা/আপ্র/২০/৪/২০২৬