দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ রোগের উপসর্গ নিয়ে আরো চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৭৬ জনে। তাঁদের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ১৭১ জন। আর পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়ার পর মারা গেছেন ১০৫ জন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, বুধবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া চারজনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে, হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৫২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২০৪ জন মারা গেছেন সিলেট বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১১৪, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৮৯, বরিশালে ৭০, খুলনায় ৫৭ এবং রংপুর বিভাগে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ১ হাজার ২৩৯ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। একই সময়ে ৭৫ জনের শরীরে পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে।
এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১২৮ জন। বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকা বিভাগে ৩৮৭, চট্টগ্রামে ২০৮, সিলেটে ১৭৫, বরিশালে ১২৩, খুলনায় ৯১, ময়মনসিংহে ৮০, রাজশাহীতে ৩৪ এবং রংপুরে ৩০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
অন্যদিকে, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ লাখ ১০ হাজার ৯৮২ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ লাখ ২ হাজার ৩৯৪ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে আরো বলা হয়েছে, চলতি বছর এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭১৪ জনের মধ্যে। তাঁদের মধ্যে ২৪ হাজার ২৯৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর হিসাব সংরক্ষণ করছে। তবে এ পরিসংখ্যানের একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। হাসপাতালে আসা সব রোগীর কিংবা হাসপাতালের বাইরে থাকা আক্রান্ত ব্যক্তিদের সবার হাম পরীক্ষা করা হয় না। ফলে প্রকৃত আক্রান্ত ও শনাক্ত রোগীর সংখ্যা নিরূপণ করা কঠিন।
এ ছাড়া অধিদপ্তরের হিসাব মূলত হাসপাতালে আসা ও ভর্তি হওয়া রোগীদের তথ্যের ওপর নির্ভরশীল। ফলে হাসপাতালের বাইরে চিকিৎসা নেওয়া বা শনাক্তের বাইরে থেকে যাওয়া রোগীদের প্রকৃত চিত্র এই পরিসংখ্যানে প্রতিফলিত হয় না।
সানা/আপ্র/৬/১১/২০২৬