রাজধানীতে বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। এ পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সার্বিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালটির সহযোগী অধ্যাপক ডা. কাজী এম এ হাসান।
তিনি জানান, চলতি বছর বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী ভর্তি হলেও, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের কারণে পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আগের বছরের মতো ভয়াবহ রূপ নেয়নি।
ডা. হাসান বলেন, বসিলা ও নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল থেকে তুলনামূলক বেশি রোগী হাসপাতালে আসছেন। ভর্তি হওয়া অধিকাংশ রোগীর জ্বর হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার। কিছু রোগীর প্লাটিলেট কমে গেলেও ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে আক্রান্ত গুরুতর রোগীর সংখ্যা এখনো কম।
তিনি জানান, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য হাসপাতালে বিশেষ বেডের ব্যবস্থা রয়েছে। গুরুতর রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে এবং সার্বক্ষণিক চিকিৎসক দল দায়িত্ব পালন করছে, যাতে কোনো রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বাসাবাড়ি ও আশপাশে কোথাও পরিষ্কার পানি জমতে দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি দিনের বেলাতেও মশারি ব্যবহার এবং শিশুদের ফুলহাতা জামা ও লম্বা প্যান্ট পরানোর পরামর্শ দেন তিনি, যাতে এডিস মশার কামড় থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।
ডেঙ্গুর উপসর্গ সম্পর্কে ডা. হাসান বলেন, শুরুতে হালকা বা মাঝারি জ্বর থাকলেও পরে তা তীব্র হতে পারে। এর সঙ্গে শরীরব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি, তলপেটে ব্যথা কিংবা প্রস্রাব লালচে হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
তিনি আরো বলেন, জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। প্রয়োজন হলে শুধু প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে। তবে জ্বর দুই থেকে তিন দিন স্থায়ী হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ডা. কাজী এম এ হাসান বলেন, বর্তমানে রোগীর চাপ অনুযায়ী হাসপাতাল চিকিৎসাসেবা দিতে সক্ষম। ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সরকারি হাসপাতালগুলো যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক প্রস্তুত আছে।
এসি/আপ্র/০৪/০৭/২০২৬