জার্মানদের পরিচিতি শুধু উন্নত প্রযুক্তি বা শিল্পোন্নত দেশ হিসেবেই নয়, বরং সুশৃঙ্খল আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সঞ্চয় সংস্কৃতির জন্যও। দেশটির অধিকাংশ মানুষ নিয়মিত আয়ের একটি অংশ ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করেন। এটি কৃপণতা নয়, বরং পরিকল্পিত আর্থিক সচেতনতার প্রতিফলন। প্রবাসীসহ সবার জন্যই তাদের এই অভ্যাস হতে পারে অনুসরণযোগ্য।
১. পরিকল্পিত কেনাকাটা ও ডিসকাউন্ট স্টোরে ভরসা
জার্মানরা অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতা এড়িয়ে প্রয়োজনীয় পণ্য কেনেন কম দামের ডিসকাউন্ট সুপারমার্কেট থেকে। কেনাকাটার আগে তারা তালিকা তৈরি করেন এবং তালিকার বাইরে অতিরিক্ত কিছু কেনেন না। এতে মাসিক ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় হয়।
২. অপ্রয়োজনীয় সাবস্ক্রিপশন দ্রুত বাতিল
অব্যবহৃত অ্যাপ, জিম, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম কিংবা অন্যান্য সেবার জন্য অর্থ ব্যয় করেন না তারা। নিয়মিত ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করে প্রয়োজনহীন সব সাবস্ক্রিপশন বাতিল করে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে রাখেন।
৩. ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহন ব্যবহার
বিশ্বখ্যাত গাড়ির দেশ হলেও প্রতিদিনের যাতায়াতে অধিকাংশ জার্মান বাস ও ট্রেনকেই বেছে নেন। এতে জ্বালানি, পার্কিং, রক্ষণাবেক্ষণ ও বিমা বাবদ বড় অঙ্কের অর্থ সাশ্রয় হয়। প্রয়োজন হলে কার-শেয়ারিং সেবাও ব্যবহার করেন।
৪. বেতন পেলেই আগে সঞ্চয়
মাস শেষে যা অবশিষ্ট থাকে, তা সঞ্চয় করার পরিবর্তে জার্মানরা বেতন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নির্দিষ্ট অংশ আলাদা করে রাখেন। অনেকেই ব্যাংকের স্বয়ংক্রিয় স্থায়ী নির্দেশনার মাধ্যমে বেতনের ১০ থেকে ২০ শতাংশ সরাসরি সঞ্চয় বা বিনিয়োগ হিসাবে স্থানান্তর করেন। এরপর অবশিষ্ট অর্থ দিয়ে মাসিক বাজেট পরিচালনা করেন।
৫. রিসাইক্লিং ও সেকেন্ড-হ্যান্ড পণ্যের ব্যবহার
প্লাস্টিক ও কাঁচের বোতল ফেরত দিয়ে অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ কাজে লাগান জার্মানরা। পাশাপাশি ভালো মানের ব্যবহৃত আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক পণ্য কিনতেও তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এতে যেমন খরচ কমে, তেমনি পরিবেশও সুরক্ষিত থাকে।
আর্থিক শৃঙ্খলাই মূল শক্তি
জার্মানদের সঞ্চয় সংস্কৃতির মূল ভিত্তি হলো পরিকল্পিত ব্যয় ও আর্থিক শৃঙ্খলা। তারা বিশ্বাস করেন, আয় যতই হোক, তার চেয়ে কম ব্যয় করে নিয়মিত সঞ্চয় গড়ে তোলাই দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক নিরাপত্তার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। এই অভ্যাস অনুসরণ করলে প্রবাসীসহ যে কেউ ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় আরো আত্মবিশ্বাসী হতে পারেন।
এসি/আপ্র/০৪/০৭/২০২৬