প্রফেসর ডা. মো. জিল্লুর রহমান
মাথাব্যথা, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, খিঁচুনি বা আচরণগত পরিবর্তনের মতো কিছু উপসর্গকে আমরা অনেক সময় সাধারণ স্বাস্থ্যসমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাই। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এসব লক্ষণ মস্তিষ্কের একটি গুরুতর রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। ব্রেন টিউমার এমনই একটি জটিল অবস্থা, যেখানে মস্তিষ্কের ভেতরে অস্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধি ঘটে এবং তা মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তবে আশার কথা হলো, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির কল্যাণে বর্তমানে ব্রেন টিউমারের অনেক ক্ষেত্রেই সফল চিকিৎসা সম্ভব।
ব্রেন টিউমার সাধারণত দুই ধরনের হয়: প্রাইমারি ব্রেন টিউমার, যা মস্তিষ্ক থেকেই উৎপন্ন হয় এবং সেকেন্ডারি (মেটাস্ট্যাটিক) টিউমার, যা শরীরের অন্য অংশের ক্যান্সার থেকে মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে।
ব্রেন টিউমারের উপসর্গ টিউমারের আকার, অবস্থান ও বৃদ্ধির গতির ওপর নির্ভর করে। সাধারণ কিছু লক্ষণ হলো; দীর্ঘস্থায়ী বা ক্রমবর্ধমান মাথাব্যথা, বমি বা বমি ভাব, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা (ঝাপসা বা দ্বৈত দেখা), খিঁচুনি, ভারসাম্যহীনতা বা হাঁটতে সমস্যা, কথা বলা বা বুঝতে অসুবিধা, স্মৃতিশক্তি বা আচরণে পরিবর্তন ইত্যাদি। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ব্রেন টিউমারের নির্দিষ্ট কারণ সবসময় জানা যায় না। তবে কিছু ঝুঁকির কারণ রয়েছে। যেমন- জেনেটিক (বংশগত) কারণ, পূর্বে রেডিয়েশন এক্সপোজার, কিছু বিরল জেনেটিক সিনড্রোম ইত্যাদি।
ব্রেন টিউমার নির্ণয়ে আধুনিক প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নির্ণয়ের ক্ষেত্রে এমআরআই, সিটি স্ক্যান, বায়োপ্সি’র মতো পরীক্ষা করা হতে পারে। এসবের মাধ্যমে টিউমারের ধরন ও অবস্থান নির্ধারণ করা হয়।
বর্তমানে ব্রেন টিউমারের চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এখন রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়। নিউরোসার্জারি (অপারেশন), রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি ইত্যাদি কিছু আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি। প্রয়োজনভেদে একাধিক চিকিৎসা পদ্ধতির সমন্বয়ও করা হতে পারে।
যদিও সব ব্রেন টিউমার প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবুও সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিনের উপসর্গ অবহেলা না করা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখা ইত্যাদি মেনে চলা উচিৎ।
ব্রেন টিউমার একটি জটিল রোগ হলেও এটি আর অজেয় নয়। আধুনিক চিকিৎসা, দক্ষ চিকিৎসক এবং সময়মতো পদক্ষেপ- এ তিনটি বিষয়ই রোগীর সুস্থতার সম্ভাবনা অনেক বাড়িয়ে দেয়। তাই ভয় নয়, সচেতনতা ও সঠিক চিকিৎসাই হতে পারে আপনার বা আপনার প্রিয়জনের সুরক্ষার পথ।
লেখক: সিনিয়র কনসাটেন্ট অ্যান্ড কো-অর্ডিনেটর, নিউরোসার্জারি বিভাগ, এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকা
আপ্র/কেএমএএ/০১.০৭.২০২৬