গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

একটি-দুটি নয়, ছয়টি পারমাণবিক অস্ত্র হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৩৭ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ০৯:০৬ এএম ২০২৬
একটি-দুটি নয়, ছয়টি পারমাণবিক অস্ত্র হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি

ছবি সংগৃহীত

মানুষের তৈরি ও যুদ্ধে ব্যবহৃত এযাবৎকালের সবচেয়ে বিধ্বংসী বিস্ফোরক পারমাণবিক অস্ত্র। এগুলোর ধ্বংসক্ষমতা আস্ত এক শহরকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এগুলো হারিয়ে না ফেলার বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকবে সেটিই স্বাভাবিক।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেটি সত্যি হলেও গত কয়েক দশকে এমন ছয়টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র হারিয়ে গিয়েছে এবং সেগুলোর খোঁজ আজো মেলেনি বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট স্ল্যাশগিয়ার।

এ ধরনের ঘটনাকে ‘ব্রোকেন অ্যারো’ নামে বর্ণনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে শব্দটি কেবল অস্ত্র হারিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেই নয়, বরং পারমাণবিক অস্ত্র সংক্রান্ত যে কোনো দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। ব্রোকেন অ্যারো নামে হলিউডে তৈরি একটি সিনেমাও আছে যেটির মূল বিষয় হচ্ছে পারমাণবিক ওয়্যারহেডসহ একটি বি২ স্পিরিট বম্বারের কল্পিত হাইজ্যাকের ঘটনা। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ৩২টি ‘ব্রোকেন অ্যারো’ ঘটেছে। যার মধ্যে সাধারণ মানুষের জানা ৬টি ক্ষেত্রে হারানো পারমাণবিক অস্ত্র আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি ঘটনা ছিল ১৯৫৮ সালে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম দিকের ‘বি-৪৭’ নামের এক বোমারু জেট মাঝ-আকাশে অন্য আরেকটি প্লেনের সঙ্গে সংঘর্ষের পর জর্জিয়ার টাইবি দ্বীপের কাছে ‘এমকে. ১৫’ নামের সচল এক হাইড্রোজেন বোমা ফেলে দিতে বাধ্য হয়। শুরুতে বিষয়টিকে কেবল ‘মহড়া’ বলে চালিয়ে দিতে চেয়েছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী। তবে, সেই বোমাটি আজ পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

টাইবি দ্বীপের বোমা দুর্ঘটনার মতো এমন ঘটনা পুরো স্নায়ুযুদ্ধ জুড়ে মাঝেমধ্যেই ঘটেছে। সেই সময়ে বিভিন্ন ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। তবে এসব অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ার পেছনে সংগত যথেষ্ট কারণও রয়েছে। একজন সাধারণ ডুবুরি হঠাৎ করেই কোনো সচল পারমাণবিক বোমার সন্ধান পেয়ে যাবেন– এমন সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এসব ক্ষয়ক্ষতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এগুলো মানব ইতিহাসের এমন ছয়টি মুহূর্তকেই মনে করিয়ে দেয়, যেখানে মানুষ পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ হাতে নিলেও শেষ পর্যন্ত তা হারিয়ে গেছে।

মার্কিন সরকারের ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’ এমন এক প্রতিরক্ষা নীতি যার মাধ্যমে সবসময় তিনটি ভিন্ন উপায়ে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন রাখে তারা। একটি হচ্ছে কৌশলগত বোমারু বিমান, যা আকাশ থেকে ফেলা পারমাণবিক বোমা। দ্বিতীয়টি হচ্ছে সাবমেরিন-চালিত ব্যালিস্টিক মিসাইল বা এএলবিএম, যা সমুদ্রের নিচ থেকে উৎক্ষেপণ করা যায়। তৃতীয়টি হচ্ছে, আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল বা আইসিবিএম, যা ভূমি থেকে উৎক্ষেপিত দীর্ঘ পাল্লার মিসাইল।

টাইবি দ্বীপের ওই বোমাটি ছিল তিন দশমিক আট মেগাটনের এক অস্ত্র। এর ধ্বংসক্ষমতা ছিল নাগাসাকিতে ফেলা বোমার প্রায় ১৯০ গুণ। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটিই একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্র নয়, বরং এর মতো আরো অনেক শক্তিশালী অস্ত্র সমুদ্রের তলদেশে কোথাও পড়ে রয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নিখোঁজ পারমাণবিক অস্ত্রটি হারিয়েছিল ১৯৫০ সালে। তখন ‘কনভেয়ার বি-৩৬’ নামের এক বোমারু প্লেন প্রশান্ত মহাসাগরে ৩০-কিলোটন ওজনের ‘এমকে.৪’ বোমা ফেলেছিল। মার্কিন বিমানবাহিনীর প্রতিবেদন অনুসারে, বোমাটিতে প্লুটোনিয়াম কোর ছিল না। তবে এতে প্রচুর পরিমাণে ইউরেনিয়াম ছিল। এর ছয় বছর পর ‘বি-৪৭’ নামের একটি প্লেন ভূমধ্যসাগরে বিধ্বস্ত হয়। প্লেনটি ‘এমকে. ১৫’ ডিভাইসের জন্য দুটি ‘কোর’ বহন করছিল। তার কিছুকাল পর ১৯৬১ সালে ‘বি-৫২’ নামের এক বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে। যার ফলে ২৪-মেগাটনের বিশাল এক পারমাণবিক বোমা ধ্বংস হয়ে যায়। বোমাটির চারটি সুরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে তিনটিই সক্রিয় হয়ে গিয়েছিল।

এ দুর্ঘটনার পর সেই বোমার বড় একটি অংশ মাঠের নিচে মাটির গভীরে গেঁথে যায়। তবে বিমানবাহিনী পরবর্তীতে সেই এলাকাটি সুরক্ষিত করে ফেলে। ফলে এ ক্ষতিটি সমুদ্রের তলদেশে হারিয়ে যাওয়া অন্যান্য অস্ত্রের মতো নয়।

১৯৬৫ সালের ডিসেম্বরে ‘এ-৪ই স্কাইহক’ যুদ্ধবিমান এক মেগাটনের থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা নিয়ে ‘ইউএসএস টিকোন্ডেরোগা’ নামের জাহাজ থেকে গড়িয়ে প্রশান্ত মহাসাগরে গিয়ে পড়ে। সেই পাইলট, প্লেন ও বোমা কারোরই আর খোঁজ মেলেনি।

১৯৬৬ সালে মাঝ-আকাশে আরেকটি সংঘর্ষের ফলে চারটি ‘বি২৮’ থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা হারিয়ে যায়, যার মধ্যে কেবল তিনটি উদ্ধার করা গিয়েছিল। ঘটনাটি ঘটেছিল ভূমধ্যসাগরের ওপর এবং প্রতিটি বোমার ধ্বংসক্ষমতা ছিল এক দশমিক এক মেগাটন।

সর্বশেষ নিখোঁজ পারমাণবিক অস্ত্র হারিয়ে যায় ১৯৬৮ সালে। ওই সময় ‘ইউএসএস স্করপিয়ন’ নামের এক সাবমেরিন ডুবে যায়। এ দুর্ঘটনায় ৯৯ জন ক্রু সদস্য ও সেই সঙ্গে ২৫০ কিলোটনের দুটি পারমাণবিক ওয়ারহেড সমুদ্রের তলদেশে তলিয়ে যায়।

এসি/আপ্র/২৫/০১/২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

শান্তি আলোচনার আশায় বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম
২৯ অক্টোবর ২০২৬

শান্তি আলোচনার আশায় বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা আবার শুরুর সম...

ভোটের জটিল সমীকরণে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ভোটের জটিল সমীকরণে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেলেও আসনস...

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৬৮, তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক
২৯ অক্টোবর ২০২৬

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৬৮, তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

স্পেনের মধ্যাঞ্চলে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৬৮ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিন...

৮৩ বছর বয়সে অবসর, আকাশে ৬৩ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবন
২৮ অক্টোবর ২০২৬

৮৩ বছর বয়সে অবসর, আকাশে ৬৩ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবন

যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান এয়ারলাইনসের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ সক্রিয় বিমানবালা ক্যারল ফেয়ার ৮৩ বছর বয়সে অবসরে গ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে