মহাকাশে যুদ্ধের প্রস্তুতি বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীন। একই সঙ্গে মহাকাশে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরুর বিষয়ে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছে বেইজিং।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র কক্ষপথে প্রথমবারের মতো অস্ত্র মোতায়েনের কথা নিশ্চিত করেছে।
গুয়ো জিয়াকুন বলেন, “মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা ও যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া বন্ধ করা উচিত।” একই সঙ্গে তিনি মহাকাশে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরুর বিষয়ে সতর্ক করেন।
এর আগে সোমবার মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল হারবারে এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের এক অনুষ্ঠানে মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি প্রকাশ করেন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সেক্রেটারি ট্রয় মেইঙ্ক।
মেইঙ্ক বলেন, “শুধু আকাশেই নয়, মহাকাশেও আমরা আমাদের আধিপত্য বজায় রাখি, এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তবে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি কী ধরনের অস্ত্র বা কী সক্ষমতার ব্যবস্থা মোতায়েন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি। শুধু জানান, তাঁর বক্তব্যের শব্দচয়ন “খুব ভেবেচিন্তে করা হয়েছে”।
ওয়াশিংটন পোস্টকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মেইঙ্ক যে প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে এমন সক্ষমতাও থাকতে পারে, যার মাধ্যমে কোনো শত্রুপক্ষের উপগ্রহ ধ্বংস করা সম্ভব।
মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনে আন্তর্জাতিকভাবে সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে মহাকাশ চুক্তি অনুযায়ী, সেখানে গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে স্পেস ফোর্স প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময় তিনি মহাকাশকে বিশ্বের নবীনতম যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
এদিকে গত বছর ট্রাম্প ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের পুরো ভূখণ্ড সুরক্ষিত রাখার জন্য প্রস্তাবিত এ বহুতল ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মধ্যে মহাকাশভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ব্যবস্থাও রয়েছে।
মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগকে ঘিরে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে উত্তেজনা আরো বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চীনের সর্বশেষ সতর্কবার্তায় মহাকাশকে নতুন সামরিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র বানানোর ঝুঁকিই সামনে এসেছে।
সানা/ডিসি/আপ্র/১৫/৯/২০২৬