গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

বিষাক্ত ইনজেকশনেও মৃত্যু হয়নি, ফের কারাগারে ক্রিস্টিয়া

রাখে আল্লাহ মারে কে?

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:৫৭ পিএম, ১২ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ০২:০১ এএম ২০২৬
রাখে আল্লাহ মারে কে?
ছবি

শেষ পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের স্থান থেকে আবার কারাগারে ফিরতে হলো যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ক্রিস্টিয়া পাইককে -ছবি রয়টার্স

একজন মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি সম্পন্ন। নির্ধারিত পদ্ধতিতে শরীরে প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগ করা হলো। প্রত্যাশা ছিল, অল্প সময়ের মধ্যেই তার মৃত্যু হবে। কিন্তু প্রত্যাশিত পরিণতি ঘটল না। বরং শ্বাসপ্রশ্বাসের অস্বাভাবিকতা দেখা দিলো, তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলো, চিকিৎসার পর তিনি বেঁচে উঠলেন। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের স্থান থেকে আবার কারাগারে ফিরতে হলো তাকে।

এমন ঘটনা মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই বিস্ময়, প্রশ্ন ও নানা ব্যাখ্যার জন্ম দেয়। কেউ একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যর্থতা হিসেবে দেখেন, কেউ বিচারব্যবস্থার গুরুতর সংকট মনে করেন, আবার কারো কাছে এটি স্রষ্টার অসীম ক্ষমতার স্মারক। মৃত্যুকে নিশ্চিত ধরে নেওয়া একটি পরিস্থিতিতে জীবন ফিরে পাওয়ার এই অভিজ্ঞতা থেকেই হয়তো মানুষের মুখে উচ্চারিত হয়- ‘রাখে আল্লাহ মারে কে?’

আবেগের পাশাপাশি জরুরি কয়েকটি প্রশ্নও রয়েছে: ঠিক কী ঘটেছিল? প্রাণঘাতী ইনজেকশন কেন প্রত্যাশিত ফল দেয়নি? ইতিহাসে এমন ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ডের নজির কতটা বিরল? আর চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা ও ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে সম্পর্কটি কোথায়?

কী ঘটেছিল মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা ক্রিস্টিয়া পাইকের সঙ্গে? যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ক্রিস্টিয়া পাইকের ঘটনা কেবল মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা নয়; এটি একই সঙ্গে চিকিৎসাবিজ্ঞান, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, মানবাধিকার ও বিচারব্যবস্থার জবাবদিহি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

৫০ বছর বয়সী পাইক ১৯৯৫ সালে সহপাঠী কোলিন স্লিমারকে হত্যা করার দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন। হত্যাকাণ্ডের সময় তার বয়স ছিল ১৮ বছর। দীর্ঘ তিন দশক কারাগারে থাকার পর গত ৩০ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কারাগারে তার শরীরে প্রাণঘাতী ওষুধ পেন্টোবারবিটালের দুটি মাত্রা প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু প্রত্যাশিতভাবে তার মৃত্যু হয়নি। বরং তিনি শ্বাস নিতে থাকেন, মাথা তোলেন এবং বাহুতে ব্যথার কথা জানান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের সহায়তাও দিতে হয়। তার আইনজীবীরা প্রথমে আশঙ্কা করেছিলেন, তিনি হয়তো মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা হারিয়েছেন। কিন্তু পরে তিনি জ্ঞান ফিরে পান, কথা বলতে শুরু করেন এবং সহায়তা নিয়ে হাঁটতেও সক্ষম হন। ১০ অক্টোবর হাসপাতাল থেকে তাকে আবার কারাগারে নেওয়া হয়, যেখানে তার চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, পাইককে আলাদা আলাদা সময়ে একাধিকবার মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি। একই দিন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের একটি প্রচেষ্টায় তাকে পরপর দুটি মাত্রায় প্রাণঘাতী ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। দুটি মাত্রার পরও তার মৃত্যু না হওয়ায় কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। তাই একে ‘বারবার মৃত্যুদণ্ড থেকে বেঁচে যাওয়া’ বলার চেয়ে ‘একটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচেষ্টায় দুই মাত্রার ওষুধ প্রয়োগের পরও বেঁচে যাওয়া’ বলা তথ্যগতভাবে বেশি নির্ভুল।

এ ঘটনায় টেনেসি কর্তৃপক্ষ এখনো কী ভুল হয়েছিল, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে চিকিৎসাবিশেষজ্ঞ ও প্রাণঘাতী ইনজেকশন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, শিরায় ওষুধ প্রবেশ করানোর ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকতে পারে। ইনজেকশনের ওষুধ রক্তপ্রবাহে প্রবেশ না করে শরীরের আশপাশের টিস্যুতে জমা হলে প্রত্যাশিত প্রভাব নাও ঘটতে পারে। পাইকের আইনজীবীরাও আদালতে এমন আশঙ্কার কথা তুলেছেন। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এটিকে নিশ্চিত কারণ হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

ঘটনার পর টেনেসির গভর্নর বিল লি ২০২৬ সালের বাকি সময়ের জন্য অঙ্গরাজ্যে সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন এবং কী ঘটেছিল তা জানতে স্বাধীন পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে মে মাসে টনি ক্যারুথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচেষ্টাও শিরায় ওষুধ প্রয়োগের ব্যবস্থা স্থাপন করতে না পারায় বন্ধ করতে হয়েছিল। এ দুই ঘটনার পর অঙ্গরাজ্যের কারা বিভাগের প্রধানের পদত্যাগের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। ফলে প্রশ্নটি আর শুধু একজন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির বেঁচে থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি কতটা নির্ভরযোগ্য এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় ত্রুটি হলে তার দায় কে নেবে, সেটিও সামনে এসেছে।

এমন ঘটনা কি পৃথিবীতে আগে ঘটেছে? ইতিহাস বলছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার ঘটনা আগে ঘটেছে। তবে সব ঘটনা পাইকের ঘটনার মতো নয়। কোথাও দণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরুই করা যায়নি, কোথাও যন্ত্রের ত্রুটিতে ব্যক্তি বেঁচে গেছেন, আবার কোথাও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও জীবনের লক্ষণ দেখা গেছে। তাই প্রতিটি ঘটনাকে একই শ্রেণিতে ফেলা ঠিক হবে না।

১. উইলি ফ্রান্সিস: বৈদ্যুতিক চেয়ারে প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ: ১৯৪৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে ১৫ বছর বয়সী উইলি ফ্রান্সিসকে বৈদ্যুতিক চেয়ারে বসিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু যন্ত্রের ত্রুটির কারণে তিনি মারা যাননি। পরের বছর যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট দ্বিতীয়বার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথে সাংবিধানিক বাধা নেই বলে রায় দেয়। ১৯৪৭ সালে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এটি প্রমাণ করে, মৃত্যুদণ্ডের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়া নতুন ঘটনা নয়; তবে পরবর্তী প্রচেষ্টার বৈধতা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আইনি বিতর্ক রয়েছে।

২. রোমেল ব্রুম: দুই ঘণ্টার চেষ্টাতেও শিরা খুঁজে পাওয়া যায়নি: ২০০৯ সালে ওহাইও অঙ্গরাজ্যে রোমেল ব্রুমের মৃত্যুদণ্ড প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে কার্যকরের চেষ্টা করা হয়। কর্মীরা তার শরীরে শিরাপথ স্থাপনের জন্য বহুবার চেষ্টা করেও সফল হননি। প্রায় দুই ঘণ্টা পর চেষ্টা বন্ধ করা হয়। পরে আদালত দ্বিতীয়বার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমতি দিলেও ২০২০ সালে কারাগারে কোভিড-১৯-সংশ্লিষ্ট জটিলতায় তার মৃত্যু হয়। তবে ব্রুমের ক্ষেত্রে পাইকের মতো দুটি মাত্রার প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের পরও বেঁচে থাকার ঘটনা ঘটেনি; তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়াই সম্পন্ন করা যায়নি।

৩. ডয়েল হাম: ইনজেকশন দেওয়ার আগেই থেমে যায় প্রচেষ্টা: ২০১৮ সালে আলাবামা অঙ্গরাজ্যে ডয়েল হামের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচেষ্টা শিরাপথ স্থাপনের জটিলতায় ব্যর্থ হয়। তার শরীরে বহুবার সূচ প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হলেও কার্যকর শিরাপথ তৈরি করা যায়নি। পরে তার আইনজীবীরা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে আইনি লড়াই চালান এবং অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করার ব্যবস্থা হয়। এ ঘটনাও দেখায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চিকিৎসা-পদ্ধতিতে ব্যর্থতা নতুন নয়; তবে পাইকের মতো প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের পরও বেঁচে থাকার ঘটনা আলাদা গুরুত্ব বহন করে।

যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুদণ্ডবিষয়ক তথ্যকেন্দ্রের সংকলনে আধুনিক সময়ে ব্যর্থ বা গুরুতর জটিলতাযুক্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বহু উদাহরণ রয়েছে। সংস্থাটি ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর পর্যন্ত হালনাগাদ তালিকায় ৬৪টি ঘটনা উল্লেখ করেছে। এই তালিকায় ইনজেকশন, বৈদ্যুতিক চেয়ার, শ্বাসরোধ ও অন্যান্য পদ্ধতিতে অপ্রত্যাশিত সমস্যা বা দীর্ঘ যন্ত্রণার ঘটনা রয়েছে। তবে তালিকাটি পূর্ণাঙ্গ নয়; আর সব ঘটনার প্রকৃতি ও ফলাফলও এক নয়।

পাইকের ঘটনাকে বিশেষভাবে ব্যতিক্রমী করে তুলেছে, প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের পরও তার বেঁচে থাকা। মৃত্যুদণ্ডবিষয়ক তথ্যকেন্দ্রের মতে, প্রাণঘাতী ইনজেকশনের ওষুধ পাওয়ার পর বেঁচে থাকার প্রথম নথিভুক্ত ঘটনা এটি। তবে এর অর্থ এই নয় যে ইতিহাসে কোনো দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি আগে কখনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা থেকে বেঁচে যাননি। উইলি ফ্রান্সিস ও রোমেল ব্রুমের ঘটনাই দেখায়, ব্যর্থ প্রচেষ্টার ইতিহাস আরো বিস্তৃত।

‘রাখে আল্লাহ মারে কে’: বিশ্বাসের জায়গাটি কোথায়? মানুষ যখন মৃত্যুর প্রায় নিশ্চিত বলে মনে হওয়া পরিস্থিতি থেকে ফিরে আসে, তখন সেই ঘটনাকে অলৌকিক বলে মনে করার প্রবণতা স্বাভাবিক। ধর্মবিশ্বাসী মানুষের কাছে জীবন ও মৃত্যুর চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ স্রষ্টার হাতে- এই ধারণা গভীরভাবে প্রোথিত। সেই বিশ্বাস থেকেই ক্রিস্টিয়া পাইকের বেঁচে থাকার ঘটনায় কেউ কেউ বলতে পারেন, ‘রাখে আল্লাহ মারে কে?’

তবে সাংবাদিকতার বিশ্লেষণে দুটি বিষয় আলাদা রাখা জরুরি। প্রথমত, মানুষ ঘটনাটিকে কীভাবে বিশ্বাস বা আধ্যাত্মিকতার আলোকে ব্যাখ্যা করছেন। দ্বিতীয়ত, ঘটনাটির প্রমাণযোগ্য চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক কারণ কী। প্রথমটি ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও দর্শনের বিষয়; দ্বিতীয়টি নির্ভর করে চিকিৎসা-নথি, ওষুধ প্রয়োগের পদ্ধতি, শিরাপথের অবস্থান, পরীক্ষাগারের তথ্য এবং স্বাধীন তদন্তের ওপর।

বিজ্ঞান কোনো ব্যক্তির ধর্মীয় বিশ্বাসকে সত্য বা মিথ্যা প্রমাণের জন্য তৈরি হয়নি। একইভাবে, একটি অস্বাভাবিক ঘটনার তাৎক্ষণিক ব্যাখ্যা না পাওয়া মানেই সেটি অলৌকিক- এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যায় না। অতীতে বহু ঘটনা একসময় রহস্যময় মনে হলেও পরে প্রাকৃতিক বা প্রযুক্তিগত কারণ শনাক্ত হয়েছে। পাইকের ক্ষেত্রেও তদন্তের ফল প্রকাশের আগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো দায়িত্বশীল হবে না।

আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ: পাইক প্রাণঘাতী ইনজেকশনের পর বেঁচে গেছেন, কিন্তু তিনি যে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেছেন, তা এখনো বলা যাচ্ছে না। হাসপাতাল থেকে কারাগারে ফেরত পাঠানোর পরও তার চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে। অতএব, বেঁচে ফেরাকে নিশ্চিত আরোগ্য বা ভবিষ্যতে আর কোনো বিপদের আশঙ্কা নেই- এমন অর্থে ব্যাখ্যা করাও সঠিক নয়।

মৃত্যুদণ্ডের নৈতিকতা ও রাষ্ট্রের দায়: ক্রিস্টিয়া পাইকের ঘটনা মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে-বিপক্ষে বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। মৃত্যুদণ্ডের সমর্থকেরা একে গুরুতর অপরাধের শাস্তি ও ভুক্তভোগীর প্রতি ন্যায়বিচারের অংশ হিসেবে দেখেন। অন্যদিকে, বিরোধীরা বলেন, রাষ্ট্রের হাতে একজন মানুষের জীবন নেওয়ার ক্ষমতা থাকা উচিত কি না, তা গভীর নৈতিক প্রশ্ন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত যন্ত্রণা, চিকিৎসা-পদ্ধতির ত্রুটি এবং ভুল বিচারের সম্ভাবনা এ বিতর্ককে আরো জটিল করে তোলে।

পাইকের বিরুদ্ধে ১৯৯৫ সালের হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে দণ্ডাদেশ রয়েছে; নিহত কোলিন স্লিমারের পরিবার ও তাদের ন্যায়বিচারের দাবিও এই ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু কোনো অপরাধের ভয়াবহতা রাষ্ট্রের শাস্তি কার্যকরের পদ্ধতিকে জবাবদিহির বাইরে রাখতে পারে না। একইভাবে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতিতে ত্রুটি ঘটেছে বলে ভুক্তভোগীর পরিবারের বেদনা বা ন্যায়বিচারের দাবি অস্বীকার করাও যথার্থ নয়। উভয় বাস্তবতাকে স্বীকার করেই বিচারব্যবস্থার প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়।

রাষ্ট্র যদি আইনসম্মতভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে সেই প্রক্রিয়া নির্ধারিত নিয়মে, স্বচ্ছভাবে এবং অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রণা এড়িয়ে সম্পন্ন করার দায়িত্বও রাষ্ট্রের। আর কোনো প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে কী ঘটেছিল, কেন ঘটেছিল এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে- তা জনসমক্ষে ব্যাখ্যা করা জরুরি। টেনেসি কর্তৃপক্ষের স্বাধীন পর্যালোচনার নির্দেশ এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণ সংরক্ষণের আদালতের আদেশ সেই জবাবদিহিরই অংশ।

বিস্ময় থাক, সিদ্ধান্ত হোক প্রমাণের ভিত্তিতে: ক্রিস্টিয়া পাইকের ঘটনা মানুষের মনে বিস্ময় জাগানোর মতোই। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের একটি প্রচেষ্টায় দুটি মাত্রা প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের পরও তার বেঁচে থাকা আধুনিক বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে বিরল এবং গুরুতর ঘটনা। কেউ এতে স্রষ্টার ইচ্ছার প্রতিফলন দেখতে পারেন, কেউ চিকিৎসা-পদ্ধতির ব্যর্থতা, কেউ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার উদাহরণ হিসেবে দেখবেন। এই ব্যাখ্যাগুলো মানুষের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা তুলে ধরে।

কিন্তু নিশ্চিতভাবে যা বলা যায়, তা হলো- মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, পাইক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বেঁচে ফিরেছেন, এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো স্বাধীনভাবে নির্ধারণ করা বাকি। অতীতেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, যদিও পাইকের ঘটনাটি প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পর বেঁচে থাকার কারণে বিশেষভাবে নজিরবিহীন বলে বিবেচিত হচ্ছে।

‘রাখে আল্লাহ মারে কে’- এই বাক্যটি তাই কারো কাছে বিশ্বাসের ঘোষণা, কারো কাছে জীবনের অনিশ্চয়তার প্রতীক। তবে একটি দায়িত্বশীল বিশ্লেষণের শেষ কথা হওয়া উচিত: বিশ্বাসকে সম্মান করতে হবে, প্রমাণকে গুরুত্ব দিতে হবে, আর রাষ্ট্রের হাতে মানুষের জীবন-মৃত্যুর সিদ্ধান্ত থাকলে সেই ক্ষমতার প্রয়োগে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
সূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুদণ্ডবিষয়ক তথ্যকেন্দ্র এবং টেনেসি অঙ্গরাজ্যের কারা বিভাগ।
সানা/আপ্র/১২/১০/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

জিবুতি উপকূলে নৌকাডুবিতে ১০৯ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু
১২ অক্টোবর ২০২৬

জিবুতি উপকূলে নৌকাডুবিতে ১০৯ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু

আফ্রিকার দেশ জিবুতি থেকে ইয়েমেন যাওয়ার পথে প্রায় ৩৫০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে বহনকারী একটি নৌকা ডুবে অন...

মুক্তি পেয়ে ধ্রুব রাঠীর দাবি, ‘আমাকে অপহরণ করা হয়’
১২ অক্টোবর ২০২৬

মুক্তি পেয়ে ধ্রুব রাঠীর দাবি, ‘আমাকে অপহরণ করা হয়’

আটকের প্রায় এক দিন পর মুক্তি পেয়ে নিজেকে অপহরণের শিকার বলে দাবি করেছেন ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব...

মুক্তি পেয়েই মোদিকে ভারতের জন্য লজ্জা বললেন দিপকে
১২ অক্টোবর ২০২৬

মুক্তি পেয়েই মোদিকে ভারতের জন্য লজ্জা বললেন দিপকে

দিল্লি পুলিশের হাতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা আটকে থাকার পর মুক্তি পেয়েই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বি...

হারিকেন আইসেয়াসের তাণ্ডবে যুক্তরাষ্ট্রে চারজনের মৃত্যু, বিদ্যুৎহীন লাখো মানুষ
১২ অক্টোবর ২০২৬

হারিকেন আইসেয়াসের তাণ্ডবে যুক্তরাষ্ট্রে চারজনের মৃত্যু, বিদ্যুৎহীন লাখো মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা উপকূলে আঘাত হানা ক্যাটাগরি-২ হারিকেন আইসেয়াসের তাণ্ডবে অন্তত চারজনের মৃত্যু...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

অটোরিকশার দাবির পক্ষে বলা নেতার আছে ৭০০ বাহন

অটোরিকশা চালকদের দাবি মেনে নেওয়ার পক্ষে বক্তব্য দেওয়া জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, জনগণের কাছে বারবার খোলস বদলে পার পাওয়া যাবে না। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিরপুর-১২ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেলের পিলারে জুলাইয়ের চিত্রাঙ্কন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি করেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সাত শ অটোরিকশা থাকার অভিযোগকে কাল্পনিক, অসত্য ও ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে এর পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ চেয়েছে দলটি| প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন প্রশাসক সত্য বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 2 দিন আগে