মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আগামী বছরের মধ্যে ‘চূড়ান্ত বিজয়’ অর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। সংগঠনটির ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এ ঘোষণা দেন গোষ্ঠীর প্রধান মেজর জেনারেল তোয়াই ম্রা নাইং।
গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) আয়োজিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বক্তব্যে তিনি জানান, ২০২৭ সালের মধ্যে রাখাইন রাজ্যের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাই তাদের লক্ষ্য। তিনি বলেন, সংগঠনটি দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে অগ্রসর হচ্ছে।
২০২৩ সালের শেষ দিকে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত রাখাইন রাজ্যের ১৪টি টাউনশিপ এবং দক্ষিণ চিন রাজ্যের পালেতওয়া দখল করেছে আরাকান আর্মি। বর্তমানে রাখাইনের মাত্র তিনটি টাউনশিপ-রাজধানী সিত্তুয়ে, কিয়াকফিউ ও মানাউং-মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ভাষণে তোয়াই ম্রা নাইং বলেন, “আমরা পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আমাদের লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ চালিয়ে যাব।”
তিনি আরো জানান, মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে মিত্র শক্তিগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে লড়াই অব্যাহত থাকবে।
২০২৩ সালের ১৩ নভেম্বর রাখাইনে জান্তা-বিরোধী বৃহৎ অভিযান শুরু করে আরাকান আর্মি। এর আগে উত্তরাঞ্চলীয় শান রাজ্যে ‘অপারেশন ১০২৭’ শুরু করে ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স।
আরাকান আর্মি এই জোটের একটি অংশ হিসেবে জান্তা-বিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে।
নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত এলাকায় আরাকান আর্মি নিজস্ব প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলেছে বলে জানা গেছে। সেখানে আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র পরিচালনা করা হচ্ছে।
তবে চলমান সংঘাতে জান্তা বাহিনীর বিমান ও নৌ হামলার কারণে বেসামরিক মানুষের বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক সংকট অব্যাহত রয়েছে।
আরাকান আর্মির ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের অন্যান্য সদস্যসহ মিয়ানমারের একাধিক বিদ্রোহী গোষ্ঠী শুভেচ্ছা জানিয়েছে। মিয়ানমারের ছায়া সরকার (এনইউজি) এবং আরো বহু সশস্ত্র ও রাজনৈতিক সংগঠনও তাদের অর্জনের প্রশংসা করেছে।
২০০৯ সালে মিয়ানমার-চীন সীমান্তে মাত্র ২৬ জন সদস্য ও একটি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে যাত্রা শুরু করে আরাকান আর্মি। ১৭ বছরের ব্যবধানে এটি মিয়ানমারের অন্যতম শক্তিশালী বিদ্রোহী শক্তিতে পরিণত হয়েছে-যা দেশটির চলমান সংঘাতের গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।
সানা/ডিসি/আপ্র/১৩/৪/২০২৬