কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সীমিত পরিসরের একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন এ আদেশে বিভিন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের নিরাপত্তা মূল্যায়নের জন্য একটি বিশেষ কাঠামো তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (২ জুন) স্বাক্ষরিত এ নির্বাহী আদেশের আওতায় ‘জাতীয় সাইবার পরিচালক দপ্তর’-কে নতুন একটি কার্যপ্রক্রিয়া প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে প্রেসিডেন্টকে পরামর্শ দিয়ে থাকে সংস্থাটি।
নতুন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন ব্যবস্থা সফটওয়্যারে কোনো নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত করলে সেই তথ্য দ্রুত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে বিনিময়ের ব্যবস্থা করা। বিশেষ করে ব্যাংক, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহকেন্দ্র এবং হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এসব তথ্য দ্রুত জানানো হবে। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে সংশ্লিষ্ট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার আগেই।
এর আগে গত ২১ মে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ আদেশ ঘোষণা করবেন বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে প্রযুক্তি খাতের চাপের মুখে হোয়াইট হাউস স্বাক্ষর অনুষ্ঠান পিছিয়ে দেয় বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
পরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিক খসড়ার কিছু বিষয় তার পছন্দ হয়নি। এরপর হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি ও তার উপদেষ্টারা তুলনামূলক শিথিল ও সীমিত পরিসরের নতুন একটি আদেশে সম্মত হন।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কিছু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী মডেল জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার ৩০ দিন আগে স্বেচ্ছামূলক পর্যালোচনার জন্য সরকারের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।
আগের খসড়ায় সরকারকে মডেল মূল্যায়নের জন্য ৯০ দিন পর্যন্ত সময় দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তি খাতের জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা এ সময়সীমা কমিয়ে ১৪ দিন করার পক্ষে মত দিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে ‘গণতন্ত্র ও প্রযুক্তি কেন্দ্র’-এর সহসভাপতি সমির জৈন বলেন, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো খাতে ব্যাপকভাবে ব্যবহার শুরু হওয়ার আগেই সম্ভাব্য দুর্বলতা শনাক্ত ও সংশোধনের সুযোগ তৈরি করা যৌক্তিক উদ্যোগ।
তবে চূড়ান্ত নির্বাহী আদেশটি দেখার আগেই তিনি এ প্রক্রিয়াকে যথেষ্ট স্বচ্ছ নয় বলে মন্তব্য করেছিলেন। তার ভাষ্য, মডেল মূল্যায়নের মানদণ্ড ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনগণকে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়নি।
সমির জৈন বলেন, “আমরা এমন পরিস্থিতি চাই না, যেখানে কোনো প্রশাসন একচ্ছত্র ক্ষমতা প্রয়োগ করে নির্ধারণ করবে কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল কীভাবে, কখন বা আদৌ প্রকাশ করা যাবে কি না। বিশেষ করে রাজনৈতিক বা আদর্শিক কারণে নিরাপত্তার অজুহাতে কোনো মডেলের প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকা উচিত নয়।”
তিনি আরো বলেন, “অস্বচ্ছ কোনো প্রক্রিয়া এ ধরনের সম্ভাবনার পথ তৈরি করে দিতে পারে।”
পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিনের দ্বিধা ও সংশয়ের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ পদক্ষেপ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্পকে অন্তত আংশিকভাবে নীতিগত কাঠামোর আওতায় আনার ক্ষেত্রে তার অবস্থানের একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।
সানা/আপ্র/৩/৬/২০২৬