গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

৫৭৮ নাতি-নাতনি, ১০২ সন্তান, ১২ স্ত্রীকে নিয়ে সংসার তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:০৩ পিএম, ২২ মে ২০২৬ | আপডেট: ১৮:০৮ এএম ২০২৬
৫৭৮ নাতি-নাতনি, ১০২ সন্তান, ১২ স্ত্রীকে নিয়ে সংসার তার
ছবি

ছবি সংগৃহীত

আজকের ব্যস্ত জীবনে অনেক দম্পতির কাছেই সন্তান নেওয়া সহজ বিষয় নয়। কর্মব্যস্ততা, স্বাস্থ্যগত সমস্যা, মানসিক চাপ কিংবা বন্ধ্যাত্ব বিভিন্ন কারণে পরিবার পরিকল্পনা এখন আগের চেয়ে অনেক জটিল হয়ে উঠেছে। ঠিক এমন এক সময়ে আফ্রিকার একটি গ্রামের সাধারণ কৃষককে ঘিরে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। কারণ তার পরিবারের আকার যেন ছোটখাটো একটি গ্রামের সমান।

উগান্ডার কৃষক মুসা হাসাহিয়া কাসেরা বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত ‘বিশ্বের সবচেয়ে ফারটাইল পুরুষ’ হিসেবে। দাবি করা হচ্ছে, তার ১২ জন স্ত্রী, ১০২ সন্তান এবং ৫৭৮-র বেশি নাতি-নাতনি রয়েছে। যেন তার পরিবারের সদস্য দিয়েই গড়ে উঠেছে এক গ্রাম। বিশাল এই পরিবার নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, ইউটিউব ও সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে ব্যাপক আলোচনা।

মুসা হাসাহিয়ার বয়স প্রায় ৬৮ বছর। তিনি পূর্ব আফ্রিকার দেশ উগান্ডার একজন কৃষক। সাধারণ জীবনযাপন করলেও তার পরিবার এখন বিশ্বজুড়ে কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। স্থানীয়দের ভাষায়, তার বাড়িতে সবসময়ই উৎসবমুখর পরিবেশ থাকে। পরিবারের সদস্যদের সংখ্যা এত বেশি যে প্রতিদিন রান্না, খাবার পরিবেশন ও দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনাই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক সময় পুরো পরিবার একসঙ্গে বসে খেতে পারে না।

মুসা জানিয়েছেন, প্রথম ও শেষ সন্তানের নাম তার মনে থাকলেও মাঝের অনেক সন্তানের নাম তিনি ভুলে যান। তাই তিনি একটি পুরোনো নোটবুকে সন্তান ও নাতি-নাতনিদের নাম লিখে রাখেন।

কীভাবে এত বড় হলো পরিবার? মুসার দাবি, তিনি বহু বছর ধরে পরিবার বড় করার দিকেই মনোযোগ দিয়েছেন। তার স্ত্রীদের অনেককেই অল্প বয়সে বিয়ে করেছিলেন। আফ্রিকার অনেক গ্রামীণ সমাজে আগে বড় পরিবারকে শক্তি ও সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হিসেবে দেখা হতো। কৃষিকাজে বেশি মানুষের অংশগ্রহণও বড় পরিবারের অন্যতম কারণ ছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়েক দশক আগে আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে বহু সন্তান নেওয়া ছিল সাধারণ ঘটনা। তবে বর্তমানে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ায় সেই প্রবণতা অনেক কমেছে। বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, উগান্ডাসহ সাব-সাহারান আফ্রিকার কিছু দেশে এখনো জন্মহার তুলনামূলক বেশি। তবে ১০২ সন্তানের মতো ঘটনা এখন অত্যন্ত বিরল।

এত বড় পরিবার পরিচালনা করতে গিয়ে বর্তমানে হিমশিম খাচ্ছেন মুসা। তিনি জানিয়েছেন, কৃষিকাজ করেই পুরো পরিবার চলে। পরিবারের সদস্যরাও মাঠে কাজ করেন। কিন্তু বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এত মানুষের দায়িত্ব নেওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।

তিনি এখন আর সন্তান চান না বলেও জানিয়েছেন। এমনকি স্ত্রীদের পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শও দিয়েছেন। কারণ, খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয় দিন দিন বাড়ছে। মুসার মতে, আগে বিষয়টা সহজ মনে হলেও এখন পরিবার অনেক বড় হয়ে গেছে।

মুসার গল্প ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বিস্ময় প্রকাশ করছেন, কেউ আবার রসিকতা করছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, এই মানুষ একাই একটা গ্রাম গড়ে ফেলতে পারেন! আরেকজন মন্তব্য করেছেন, এখন একটা সন্তান বড় করতেই মানুষ হিমশিম খায়, আর উনি ১০২ সন্তান বড় করেছেন! অনেকে আবার প্রশ্ন তুলেছেন, এত বড় পরিবারে প্রতিটি সন্তানের যথাযথ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা আদৌ সম্ভব কি না।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে মুসার স্ত্রী সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। কোথাও বলা হয়েছে তার ১২ জন স্ত্রী রয়েছে, আবার অনেক ভাইরাল ভিডিও ও সাক্ষাৎকারে ৮ জন স্ত্রীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অধিকাংশ সাম্প্রতিক আলোচনায় ১২ স্ত্রী ও ১০২ সন্তানের তথ্যই বেশি প্রচারিত হচ্ছে।

জনসংখ্যাবিদদের মতে, আধুনিক সময়ে বড় পরিবার শুধু সামাজিক নয়, অর্থনৈতিক চাপও তৈরি করে। বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশেই পরিবার ছোট রাখার প্রবণতা বেড়েছে। কারণ, একটি শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে বড় ব্যয়ের প্রয়োজন হয়।

তবে সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, আফ্রিকার অনেক অঞ্চলে এখনো পরিবারকে শ্রমশক্তি হিসেবে দেখা হয়। বিশেষ করে কৃষিনির্ভর সমাজে বেশি সন্তান মানে বেশি কর্মক্ষম মানুষ।

মুসা হাসাহিয়া কাসেরার গল্প নিঃসন্দেহে অবাক করার মতো। তবে এটি শুধু বড় পরিবারের গল্প নয়, বরং আফ্রিকার গ্রামীণ সমাজ, জনসংখ্যা, দারিদ্র্য ও সামাজিক বাস্তবতারও একটি প্রতিচ্ছবি। বিশ্ব যখন ছোট পরিবার ও পরিকল্পিত জীবনের দিকে এগোচ্ছে, তখন উগান্ডার এই কৃষকের পরিবার যেন অন্য এক বাস্তবতার গল্প শোনাচ্ছে।

সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস

এসি/আপ্র/২২/০৫/২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ঠেকাতে খাতা-কলমে ফিরছেন মার্কিন শিক্ষকরা
২৯ অক্টোবর ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ঠেকাতে খাতা-কলমে ফিরছেন মার্কিন শিক্ষকরা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর চ্যাটবটের ওপর শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত নির্ভরতা, নিজে চিন্তা করে লেখার দক্ষত...

শান্তি আলোচনার আশায় বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম
২৯ অক্টোবর ২০২৬

শান্তি আলোচনার আশায় বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা আবার শুরুর সম...

ভোটের জটিল সমীকরণে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ভোটের জটিল সমীকরণে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেলেও আসনস...

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৬৮, তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক
২৯ অক্টোবর ২০২৬

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৬৮, তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

স্পেনের মধ্যাঞ্চলে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৬৮ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিন...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে