বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে ভারতে থেকে লোকজনকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া বা পুশইনের ঘটনায় সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যেই ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন শেষ হয়েছে। চার দিনের এই বৈঠকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরো কার্যকর করতে যৌথ টহল বৃদ্ধি, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় জোরদার এবং সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দুই পক্ষ একমত হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) সম্মেলনের শেষ দিনে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বৈঠককে ‘আন্তরিক, ইতিবাচক ও দূরদর্শী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, সীমান্তে শান্তি, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দুই বাহিনী যৌথভাবে কাজ অব্যাহত রাখবে।
বিজিবির ১৪ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। প্রতিনিধি দলে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর, যৌথ নদী কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারাও ছিলেন। ভারতের ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিএসএফ মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার। দুই পক্ষ আগামী নভেম্বরে ঢাকায় পরবর্তী বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে সম্মত হয়।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, মানব পাচার, সীমান্ত হত্যা, চোরাচালান, সীমান্ত অবকাঠামো ও সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন বিষয় বৈঠকে আলোচিত হয়েছে। দুই পক্ষই আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন, নজরদারি বৃদ্ধি, তাৎক্ষণিক তথ্য বিনিময় ও যৌথ পদক্ষেপ জোরদারের বিষয়ে একমত হয়।
বৈঠকে বিজিবি মহাপরিচালক সীমান্তে বিএসএফ ও ভারতীয় নাগরিকদের হাতে নিরস্ত্র বাংলাদেশিদের মৃত্যু নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার আহ্বান জানান। তিনি এসব ঘটনায় কঠোর জবাবদিহি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন। জবাবে দুই পক্ষই ঘটনার তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়।
পুশইন ইস্যুতে বিজিবি জানায়, এ ধরনের কার্যক্রম দ্বিপক্ষীয় চুক্তি, সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা ও পূর্ববর্তী সমঝোতার পরিপন্থি। বাংলাদেশ যাচাইকৃত নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রচলিত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর জোর দেয়। অন্যদিকে বিএসএফ অনিষ্পন্ন জাতীয়তা যাচাই দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানায়। বৈঠকে এ বিষয়ে বিদ্যমান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষ সম্মত হয়।
বিজিবি আরো জানায়, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণ এবং পার্বত্য অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্ভাব্য কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়েছে। উভয় পক্ষ নিজ নিজ ভূখণ্ডে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ না দেওয়ার বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করে এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়।
বৈঠকে দুই বাহিনী মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালান দমন, মানব পাচার প্রতিরোধ, যৌথ টহল বৃদ্ধি এবং সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরো কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেয়। পাশাপাশি সীমান্ত সংক্রান্ত বিভিন্ন বকেয়া বিষয় যৌথ কমিশন ও দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাধানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
সম্মেলন শেষে দুই পক্ষ সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। সূত্র: রয়টার্স
সানা/আপ্র/১২/৬/২০২৬