গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

হাসপাতালের ভুলে দুই পরিবারে বড় হলেন দুই নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:১০ পিএম, ০৯ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ০২:০৪ এএম ২০২৬
হাসপাতালের ভুলে দুই পরিবারে বড় হলেন দুই নারী
ছবি

ঘটনাটি ঘটেছে গুয়াংদং প্রদেশের ছিংইউয়ান শহরের ছিংইউয়ান পিপলস হাসপাতালে -প্রতীকী ছবি

চীনের একটি হাসপাতালে জন্মের পর ভুলবশত অদলবদল হয়ে যাওয়া দুই নারী ৩৭ বছর পর নিজেদের প্রকৃত পরিবার সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে গুয়াংদং প্রদেশের ছিংইউয়ান শহরের ছিংইউয়ান পিপলস হাসপাতালে।

হুয়াং শিয়াওলিন ও লি হুই নামের দুই নারীর জন্ম ১৯৮৯ সালের অক্টোবর মাসে একই হাসপাতালে হয়। তাঁদের জন্মের সময়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৫৫ মিনিট।

হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী নবজাতকদের মায়েদের দেখানোর পর নার্সারিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সে সময় শিশুদের হাতে পরিচয় ব্যান্ড পরানোর ব্যবস্থা ছিল না; কেবল কাপড়ের ভেতরে একটি কার্ডে মা-বাবার নাম লেখা থাকত। একই ধরনের পোশাক পরা অবস্থায় দুই নবজাতককে নার্সারিতে নেওয়ার সময় ভুলবশত তারা অদলবদল হয়ে যায়। কীভাবে এই ভুল ঘটেছিল, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

অদলবদলের পর হুয়াং একটি সচ্ছল সরকারি চাকরিজীবী পরিবারে বড় হন। তবে তাঁর বাবা মেয়ের রক্তের গ্রুপ ভিন্ন হওয়া এবং চেহারার সঙ্গে পারিবারিক মিল না থাকায় সন্দেহ করতে শুরু করেন। এই সন্দেহের জেরে দাম্পত্য সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয় এবং হুয়াংয়ের বয়স পাঁচ বছর হলে তাঁর মা-বাবার বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।

বাবার সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন দূর করার আশায় ২০২২ সালে হুয়াং ডিএনএ পরীক্ষা করান। পরীক্ষার ফল তাঁকে বিস্মিত করে। এতে দেখা যায়, যাঁদের তিনি সারা জীবন নিজের মা-বাবা বলে জেনেছেন, তাঁদের কারও সঙ্গেই তাঁর জৈবিক সম্পর্ক নেই।

এরপর হুয়াং জন্মদাতা বাবা-মাকে খুঁজে বের করতে পুলিশের সহায়তা চান। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ২০২৫ সালের এপ্রিলে পুলিশ তাঁর প্রকৃত পরিবারের সন্ধান দেয়। তখনই তিনি জানতে পারেন, হাসপাতালের যে শিশুটির সঙ্গে তাঁর অদলবদল হয়েছিল, তিনি হলেন লি হুই।

পরবর্তীতে দুই নারী এবং তাঁদের দুই পরিবার একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রায় চার দশক পর সত্য জানার অভিজ্ঞতা দুই পরিবারের জন্য যেমন আবেগঘন, তেমনি বেদনাদায়কও।

এই ঘটনা চীনে হাসপাতালগুলোর নবজাতক পরিচয় নিশ্চিত করার পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। বর্তমানে দেশটির অধিকাংশ হাসপাতালে জন্মের পরপরই শিশুদের হাতে পরিচয় ব্যান্ড পরানো, মা ও শিশুর মিল নিশ্চিত করতে বারকোড ব্যবহার এবং ডিজিটাল নিবন্ধনসহ একাধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক দশক আগের একটি ছোট প্রশাসনিক ভুল দুই শিশুর পুরো জীবন, পারিবারিক সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত পরিচয়ের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। ৩৭ বছর পর সত্য প্রকাশ পেলেও হারিয়ে যাওয়া সময় আর কখনোই ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। তথ্যসূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট


সানা/ডিসি/আপ্র/৯/৮/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

শান্তি আলোচনার আশায় বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম
২৯ অক্টোবর ২০২৬

শান্তি আলোচনার আশায় বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা আবার শুরুর সম...

ভোটের জটিল সমীকরণে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ভোটের জটিল সমীকরণে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেলেও আসনস...

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৬৮, তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক
২৯ অক্টোবর ২০২৬

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৬৮, তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

স্পেনের মধ্যাঞ্চলে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৬৮ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিন...

৮৩ বছর বয়সে অবসর, আকাশে ৬৩ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবন
২৮ অক্টোবর ২০২৬

৮৩ বছর বয়সে অবসর, আকাশে ৬৩ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবন

যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান এয়ারলাইনসের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ সক্রিয় বিমানবালা ক্যারল ফেয়ার ৮৩ বছর বয়সে অবসরে গ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে