গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

মেনু

জামিন পেলেও মুক্তি পাননি দেড় মাসের বাচ্চার মা যুব মহিলা লীগ নেত্রী

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮:৫৩ পিএম, ২২ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ০৩:৫৬ এএম ২০২৬
জামিন পেলেও মুক্তি পাননি দেড় মাসের বাচ্চার মা যুব মহিলা লীগ নেত্রী
ছবি

ছবি সংগৃহীত

রাজধানীর তেজগাঁও থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক ও সহিংসতার মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যাওয়া এজাহারভুক্ত আসামি শিল্পী বেগম অবশেষে জামিন পেলেও এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না। জামিন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে বিচারকের স্বাক্ষর বাকি থাকায় তার কারামুক্তি প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি।

ফলে মঙ্গলবার রাতে কারাগারেই থাকতে হলো মা ও শিশুকে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পুনর্বিবেচনার আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান মানবিক বিবেচনায় ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় পুলিশ রিপোর্ট পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

অভিযুক্ত স্থানীয় আওয়ামী যুব মহিলা লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এমন কথা আনা হয়েছে পুলিশের আবেদনে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে জামিন শুনানি শুরু হয় এবং শুনানি শেষে আদালত সন্তুষ্ট হয়ে জামিন দেন। তবে জামিন কার্যকর হতে এখনো কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি রয়েছে।

তিনি বলেন, জামিন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান। আজ বুধবার সকালে বিচারক এসব নথিতে স্বাক্ষর করলে তা দ্রুত কারাগারে পাঠানো হবে। এরপর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে মা ও তার দেড় মাস বয়সী নবজাতক শিশুটি মুক্তি পাবে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি দায়ের করা বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও দণ্ডবিধির একাধিক ধারার মামলায় শিল্পী বেগমকে আসামি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, বাদীর ছেলে মো. তাহমিদ মুবিন রাতুল (২১), যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চাঁনখারপুল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অভিযোগে আরো বলা হয়, ওই ঘটনার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় আসামির নির্দেশে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র, পিস্তল ও বোমা নিয়ে বাদীর বাসায় হামলা চালায়। এতে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর, লুটপাট এবং প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। হামলায় বাদীর স্বামী মো. সোহেল রানা গুরুতর আহত হন এবং তার হাত ভেঙে যায় বলেও উল্লেখ করা হয়। এছাড়া হামলাকারীরা বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি ও হত্যার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণে আসামির সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর ভিত্তিতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল সন্ধ্যায় তার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পরবর্তীতে তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত জেল হাজতে রাখার আবেদন মঞ্জুর করেন।

শুনানির পরে আসামির খালা উম্মে কুলসুম সুমি বলেন, শিল্পী বেগমের শারীরিক অবস্থা ভালো নয় এবং তার হাত ভাঙা থাকায় আদালতে উপস্থিত থাকা কষ্টকর। একইসঙ্গে আসামি নিজেও দাবি করেন, তাকে বিনা অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার সঙ্গে থাকা দেড় মাস বয়সী শিশু সন্তানকে নিয়ে কারাগারে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ।

পরবর্তীতে পুনর্বিবেচনার আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত মানবিক দিক বিবেচনায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর সম্পন্ন হলেই কেবল মা ও নবজাতক শিশুটির মুক্তি নিশ্চিত হবে।

এসি/আপ্র/২২/০৪/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

হামে শিশুর মৃত্যু: ইউনূস-নূর জাহানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন
০৮ জুন ২০২৬

হামে শিশুর মৃত্যু: ইউনূস-নূর জাহানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা এবং সময়মতো হামের টিকা আমদানিতে ব্যর্থতার...

আবারো হাইকোর্টে জয়া আহসান, রুল জারি
০৭ জুন ২০২৬

আবারো হাইকোর্টে জয়া আহসান, রুল জারি

হাতির ওপর নির্যাতন বন্ধে রিটের পর সম্প্রতি ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্য বন্ধে হাইকোর্টের দারস্থ হয়েছেন অভিন...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

ঢাকা আর বাসযোগ্য নেই, সব রোগের মূল বুড়িগঙ্গা

রাজধানী ঢাকার বর্তমান পরিবেশ ও নাগরিক দুরবস্থা নিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘এটা (ঢাকা) আর বাসযোগ্য মনে হয় না। ঘর থেকে বেরোলেই নিঃশ্বাস নেওয়া যায় না, চারদিকে দূষিত বাতাস। আমার তো মনে হয়, ঢাকার সব রোগের মূলেই বুড়িগঙ্গা। আপনি কি মন্ত্রীর এই বক্তব্যে একমত?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে