বাংলাদেশের আইনজীবী সমিতিগুলোর নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ‘হস্তক্ষেপ’, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে মনোনয়ন বাতিল এবং আইনজীবীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার অভিযোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক আইনজীবী সংগঠন কমনওয়েলথ লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ল’এশিয়া।
শুক্রবার (৫ জুন) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠন দুটি জানায়, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও একাধিক আইনজীবীর মনোনয়ন বাতিলের অভিযোগ তাদের নজরে এসেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি গত এপ্রিল মাসের উনিশ থেকে আটাশ তারিখ পর্যন্ত বিভিন্ন পদের মনোনয়ন গ্রহণের সময়সীমা নির্ধারণ করেছিল। তবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এসব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো লিখিত কারণ বা আপিলের সুযোগ রাখা হয়নি বলেও উল্লেখ করা হয়।
সংগঠন দুটি অভিযোগ করে বলে, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে অনেক আইনজীবীকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি এবং কিছু মনোনয়নপত্রকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে বাতিল করা হয়েছে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বরাতে বিবৃতিতে বলা হয়, গত জানুয়ারি থেকে অন্তত তেরোটি বার নির্বাচনে প্রায় দুইশ আইনজীবীকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
এছাড়া সাবেক বিচারক ও পেশাজীবী আইনজীবীদের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলার ঘটনায় উদ্বেগ জানানো হয়। অনেক মামলাকে ‘বানোয়াট’ বলে অভিযোগ রয়েছে এবং এর মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে জাতিসংঘের আইনজীবী সংক্রান্ত নীতিমালার কথা স্মরণ করিয়ে বলা হয়, আইনজীবীদের ভয়ভীতি, হয়রানি বা অন্যায্য হস্তক্ষেপ ছাড়া পেশাগত দায়িত্ব পালনের অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সংগঠন দুটি বাংলাদেশ সরকার, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন এবং বার কাউন্সিলের প্রতি পাঁচ দফা আহ্বান জানায়।
এর মধ্যে রয়েছে-সব বার নির্বাচনে হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, যোগ্য সব আইনজীবীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, মনোনয়ন বাতিলের ক্ষেত্রে লিখিত কারণ ও আপিলের সুযোগ রাখা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা পর্যালোচনা করা এবং আইন পেশার স্বাধীনতা রক্ষা করা।
তারা আরো জানায়, বাংলাদেশের আইন ও বিচার পরিস্থিতি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং আন্তর্জাতিক মহলকে এ বিষয়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোতে আইনের শাসন ও আইন পেশার স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে এই সংগঠন। অন্যদিকে ল’এশিয়া এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মানবাধিকার ও আইনের শাসন নিয়ে কাজ করে।
সানা/আপ্র/৫/৬/২০২৬