এক যুগ আগে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত ‘হত্যা’ অভিযোগসংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তর টিভির সম্প্রচার লাইসেন্সসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র তলব করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
তদন্তের স্বার্থে গত সোমবার ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা একাত্তর টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠায়। বিষয়টি বুধবার (১০ জুন) প্রকাশ্যে আসে।
তদন্ত সংস্থার সহ-সমন্বয়ক মুহম্মদ শহীদুল্যাহ্ চৌধুরী স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগসংক্রান্ত মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সরকারের অনুমোদিত একাত্তর টিভির লাইসেন্সের কপি ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র প্রয়োজন।
চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, তদন্ত কর্মকর্তা ফতেহ মোহাম্মদ ইফতেখারুল আলম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং তদন্তের প্রয়োজনে এসব নথি সংগ্রহ করা জরুরি।
তদন্ত সংস্থা বিষয়টিকে ‘জাতীয় গুরুত্বের’ উল্লেখ করে একাত্তর টিভি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছে।
এ মামলায় একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা আসামি রয়েছেন।
গত ৮ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ তাদের এক দিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১০ আগস্ট দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
চলতি বছরের ১৪ মে তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়। এ মামলায় সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলামসহ আরো কয়েকজন গ্রেফতার রয়েছেন।
অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, বেনজীর আহমেদ এবং গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারসহ কয়েকজন পলাতক রয়েছেন।
২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ করে। নারী ও শিক্ষানীতি বিরোধিতাসহ বিভিন্ন দাবিতে ডাকা ওই সমাবেশকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা ও অভিযান সংঘটিত হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানে রাতে সমাবেশকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার সময় নিহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন অধিকার-এর হিসাবে নিহতের সংখ্যা ৬১ জন বলা হলেও তৎকালীন পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে ১১ জন নিহত হন।
মামলার প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম দাবি করেন, বিভিন্ন এলাকায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ৫৮ জনের মৃত্যুর প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং তাদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
গত বছরের ২০ আগস্ট শাপলা চত্বরের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নতুন করে একটি অভিযোগ জমা পড়ে। এরপর একাধিক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি ও তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়।
পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার ও আটক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।
সানা/আপ্র/১০/৬/২০২৬