গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

মেনু

চা খেলে কি সত্যিই ঘুম হয় না

লাইফস্টাইল ডেস্ক

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৩১ পিএম, ২১ মে ২০২৬ | আপডেট: ১৭:৫৩ এএম ২০২৬
চা খেলে কি সত্যিই ঘুম হয় না
ছবি

ছবি সংগৃহীত

সকালের ঘুম ভাঙা থেকে শুরু করে বিকেলের আড্ডা এক কাপ চা ছাড়া বাঙালির দিন যেন কল্পনাই করা যায় না। অফিসের ক্লান্তি, বৃষ্টিভেজা বিকেল কিংবা বন্ধুদের গল্প সবকিছুর সঙ্গেই জড়িয়ে আছে চায়ের নিবিড় সম্পর্ক। আজ ২১ মে আন্তর্জাতিক চা দিবস। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পানীয়কে ঘিরে দিনটি পালিত হয় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে। আচ্ছা অনেকে যে বলেন ‘চা খেলে কি সত্যিই ঘুম হয় না’ এটা কি সত্যি?

বিজ্ঞান বলছে, এই ধারণার পেছনে সত্যতা আছে, তবে বিষয়টি নির্ভর করে চায়ের ধরন, পরিমাণ এবং ব্যক্তির শরীরের ওপর। আচ্ছা চলুন বিস্তারিত জানা যাক আজকের লেখায়। শুরু করা যাক চায়ের উৎপত্তি থেকে এরপর আমরা জানব কেন চা খেলে ঘুম হয় না কিংবা আসলেই কি কথাটা কতটুকু সত্যি নাকি শুধু কথার কথা। কাদের উপর চায়ের প্রভাব বেশি, কোন চা খেলে এমন হতে পারে সবকিছু।

চায়ের ইতিহাস কত পুরোনো?
চায়ের ইতিহাস প্রায় পাঁচ হাজার বছরের পুরোনো। ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব ২৭৩৭ সালে চীনের সম্রাট শেন নুং প্রথম চায়ের স্বাদ পান। পরে ধীরে ধীরে চা ছড়িয়ে পড়ে জাপান, ভারত এবং ইউরোপে। বর্তমানে চায়না, ইন্ডিয়া, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু দেশে চা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। বিশেষ করে বাংলাদেশের সিলেট ও মৌলভীবাজার অঞ্চলের চা বিশ্বব্যাপী পরিচিত। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা ২০১৯ সালে ২১ মে-কে আন্তর্জাতিক চা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। দিনটির লক্ষ্য চা শ্রমিক, উৎপাদক এবং চা শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরা।

চা খেলে কেন ঘুম কমে যেতে পারে?
চায়ের প্রধান সক্রিয় উপাদান হলো ক্যাফেইন। এটি এমন একটি প্রাকৃতিক উদ্দীপক, যা মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় রাখে।সাধারণত এক কাপ ব্ল্যাক টি-তে ৪০ থেকে ৭০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাফেইন থাকতে পারে। এই ক্যাফেইন মস্তিষ্কে ঘুমের অনুভূতি তৈরি করা অ্যাডেনোসিন নামের রাসায়নিকের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। ফলে ক্লান্তি কম অনুভূত হয় এবং ঘুম আসতে দেরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্ধ্যা বা রাতে অতিরিক্ত চা পান করলে অনেকের ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের স্লিপ ফাউন্ডেশন জানায়, অতিরিক্ত ক্যাফেইন ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত করতে পারে। অন্যদিকে মায়ো ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন ৪০০ মিলিগ্রামের বেশি ক্যাফেইন গ্রহণ অনেকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

২০১৭ সালে স্লিপ মেডিসিন রিভিউস-এ প্রকাশিত একটি বড় রিভিউ গবেষণায় দেখা যায়, ক্যাফেইন সাধারণত- ঘুম আসতে দেরি করায়, মোট ঘুমের সময় কমিয়ে দেয়, ঘুমের মান খারাপ করতে পারে, গভীর ঘুম কমিয়ে দেয়। গবেষকরা বিভিন্ন র‍্যান্ডমাইজড কন্ট্রোলড ট্রায়াল ও মহামারী সংক্রান্ত গবেষণা বিশ্লেষণ করে এই ফল পেয়েছেন।

চায়ের মধ্যে শুধু ক্যাফেইন নয়, এল-থিয়ানিন নামের একটি অ্যামিনো অ্যাসিডও থাকে। ২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনা ও মেটা-বিশ্লেষণ-এ দেখা যায়, চায়ে থাকা এল-থিয়ানিন ও ক্যাফেইনএকসঙ্গে মনোযোগ ও মুড উন্নত করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এল-থিয়ানিন ঘুমের মানও উন্নত করতে সাহায্য করেছে।

আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, বেশি মাত্রার ক্যাফেইন গ্রহণ করলে তা ১২ ঘণ্টা পরও ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে রাতে ঘুমাতে দেরি হওয়া এবং ঘুমের স্বাভাবিক ধাপ ব্যাহত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই ঘুম বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, ঘুমানোর অন্তত ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা আগে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা ভালো।

সবার ক্ষেত্রে কি একই প্রভাব পড়ে?
না মোটেই একই প্রভাব পড়ে না। দেখবেন অনেকে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক কাপ চা খান, আবার অনেকে আছেন সন্ধ্যায় কিংবা বিকেলে চা খেলেও রাতে ঘুমাতে পারেন না। চিকিৎসকদের মতে, ক্যাফেইনের প্রভাব ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হয়। কেউ রাতে চা খেয়েও সহজে ঘুমিয়ে পড়তে পারেন, আবার কারো ক্ষেত্রে সন্ধ্যার পর এক কাপ চাও অনিদ্রার কারণ হতে পারে।

এর পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করে- শরীরের ক্যাফেইন সহনশীলতা, বয়স ও শারীরিক গঠন, মানসিক চাপ, দৈনিক চা বা কফি পানের অভ্যাস, জিনগত বৈশিষ্ট্য। বিশেষ করে যাদের অনিদ্রা, উদ্বেগ বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে রাতে বেশি চা পান সমস্যার কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাদের ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীলতা বেশি, তারা রাতে চা বা কফি খেলে ঘুমের মান খারাপ হতে পারে। শুধু ঘুম আসতে দেরি নয়, মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙেও যেতে পারে।

কোন চায়ে ক্যাফেইন বেশি?
সব চায়ের ক্যাফেইনের মাত্রা সমান নয়। তবে নিউট্রিয়েন্টস জার্নালে প্রকাশিত জাপানে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কম ক্যাফেইনযুক্ত গ্রিন টি পান করা ব্যক্তিদের স্ট্রেস কমেছে এবং ঘুমের মান উন্নত হয়েছে। ব্ল্যাক টি-তে ক্যাফেইন বেশি। গ্রিন টি-তে মাঝারি মাত্রায়, হোয়াইট টি-তে তুলনামূলক কম, হারবাল টি-র বেশিরভাগে ক্যাফেইন থাকে না। তাই রাতে চা পান করতে চাইলে ক্যামোমাইল বা হারবাল টি তুলনামূলক ভালো বিকল্প হতে পারে।

চায়ের উপকারিতাও কম নয়
চা শুধু সতেজতাই দেয় না, এর রয়েছে বেশ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতাও। চায়ে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষ রক্ষা করতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, পরিমিত চা পান হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং মানসিক সতেজতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে গ্রিন টি-তে থাকা পলিফেনল ও ক্যাটেচিন শরীরের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়।

চা খেলে ঘুম হয় না এ কথা পুরোপুরি ভুল নয়, আবার সবার ক্ষেত্রে একইভাবে সত্যও নয়। মূল বিষয় হলো চায়ের ধরন, পান করার সময় ও শরীরের সহনশীলতা। তাই আন্তর্জাতিক চা দিবসে প্রিয় পানীয়ের স্বাদ উপভোগ করুন, তবে পরিমিতভাবে। আমরা বাঙালিরা বিভিন্ন ধরনের চা খেয়ে থাকি। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় দুধ চা। তবে দুধ চা বেশি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তা দিনে পরিমিত স্বাস্থ্যকর চা খেতে পারেন।

সূত্র: এফএও, স্লিপ ফাউন্ডেশন, মায়ো ক্লিনিক, হার্ভার্ড টি.এইচ, চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ


এসি/আপ্র/২১/০৫/২০২৬

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

এসির বাতাসে ত্বকে পড়ছে বার্ধক্যের ছাপ, যা করবেন
২১ মে ২০২৬

এসির বাতাসে ত্বকে পড়ছে বার্ধক্যের ছাপ, যা করবেন

দিনের বড় একটি সময় এখন কাটে অফিসে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে কাজ করার ফলে অনেকেই এখন...

জানুন কাবাব তৈরির সবচেয়ে সহজ রেসিপি
২১ মে ২০২৬

জানুন কাবাব তৈরির সবচেয়ে সহজ রেসিপি

কাবাব খেতে সবাই পছন্দ করলেও এটি তৈরির রেসিপি সবাই জানেন না। পদ্ধতি কঠিন মনে করে অনেকেই এড়িয়ে যান। আস...

ডায়েবেটিসে লিচু খেতে সতর্কতার পরামর্শ
১৯ মে ২০২৬

ডায়েবেটিসে লিচু খেতে সতর্কতার পরামর্শ

গ্রীষ্মকাল এলেই বাজার ভরে ওঠে রসালো ও সুস্বাদু লিচুতে। জনপ্রিয় এই ফলটি স্বাদ ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হলে...

গরমে ক্লান্তি দূর করবে লিচুর আইস টি
১৮ মে ২০২৬

গরমে ক্লান্তি দূর করবে লিচুর আইস টি

এই গরমে এক গ্লাস আইস টি শরীরকে ঠান্ডা ও সতেজ রাখে। শুধু পিপাসা মেটানোই নয়, আইস টি শরীরকে ভেতর থেকে র...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই