যুক্তরাজ্যের লন্ডনে স্কাউটসে শেখা প্রাথমিক চিকিৎসার কৌশল ব্যবহার করে গলায় আটকে যাওয়া খাবার থেকে মায়ের প্রাণ বাঁচিয়েছে ছয় বছরের এক শিশু। আর এই সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধির জন্য সে পেয়েছে ‘চিফ স্কাউট’স আনসাং হিরোজ অ্যাওয়ার্ড’।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লন্ডনের ছোট্ট বাসিন্দা কনর টুহি। সম্প্রতি রাতে খাবার খাওয়ার সময় তার মা আনা ও’কনরের গলায় মুরগির মাংস আটকে যায়। এতে তিনি শ্বাস নিতে পারছিলেন না ও কোনো শব্দও করতে পারছিলেন না।
পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে তিনি আশপাশের অন্য কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরও দৃষ্টি আকর্ষণ করতেও ব্যর্থ হন। ঠিক সেই মুহূর্তে এগিয়ে আসে তার ছয় বছর বয়সী ছেলে কনর। স্কাউটসে শেখা জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসার কথা মনে করে সে মায়ের পিঠে জোরে জোরে চাপড় দিতে শুরু করে।
কনর কোনো ধরনের সহায়তা ছাড়া একাই প্রাথমিক চিকিৎসা চালিয়ে যেতে থাকে। একপর্যায়ে গলায় আটকে থাকা খাবার বের হয়ে আসে ও তার মা স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে সক্ষম হন।
ছেলের এই সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসা করে আনা ও’কনর বলেন, আমি ভীষণ গর্বিত। কনর পুরো বিষয়টিকে খুব স্বাভাবিকভাবে নিয়েছে। সে এখনো বুঝতেই পারেনি ঘটনাটি কত বড় ছিল। আমি তাকে নিয়ে অসম্ভব গর্ববোধ করছি।
তিনি বলেন, আমি জীবনে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি কখনো হইনি। আমি শ্বাস নিতে পারছিলাম না, কথা বলতে পারছিলাম না, কিছুই করতে পারছিলাম না।
তার ভাষায়, কনর এসে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আমার পিঠে আঘাত করতে শুরু করে। ঘটনার পর সব শিশুর জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা শেখার গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
আনা ও’কনর বলেন, আমার মনে হয় সব শিশুরই মৌলিক প্রাথমিক চিকিৎসা শেখা উচিত। কনর যদি স্কুইরেলসে না থাকত, তাহলে কী হতে পারত কে জানে। স্কুইরেল যুক্তরাজ্যের স্কাউট অ্যাসোসিয়েশনের সবচেয়ে কম বয়সী বিভাগ।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে কনর বলে, মাকে শ্বাসকষ্টে ভুগতে দেখে তার স্কাউটসের ক্লাসের কথা মনে পড়ে যায়। তার ভাষায়, আমি স্কাউটসে শেখা একটা বিষয় মনে করেছিলাম। কাউকে পিঠে চাপড় দিতে হয়, যাতে খাবার বের হয়ে আসে।
স্কুইরেলস স্কাউটস হলো যুক্তরাজ্যের স্কাউট অ্যাসোসিয়েশনের সবচেয়ে কম বয়সী বিভাগ। এখানে চার থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুদের বিভিন্ন সামাজিক ও জীবনরক্ষাকারী দক্ষতা শেখানো হয়।
কনর শুধু একাই নয়, তার মতো আরও ২০ জন তরুণ-তরুণীকে সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। তারা কেউ মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে, কেউ তহবিল সংগ্রহ করেছে, আবার কেউ নিজেদের কমিউনিটিতে ইতিবাচক প্রভাব রেখেছে।
চিফ স্কাউট ডোয়েন ফিল্ডস বলেন, পুরস্কারপ্রাপ্ত শিশুরা অসাধারণ সাহস, সহমর্মিতা ও অন্যের প্রতি যত্নের পরিচয় দিয়েছে। যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, তখন তারা এগিয়ে এসেছে এবং সত্যিকারের পরিবর্তন এনে দিয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
এসি/আপ্র/২১/০৫/২০২৬