দিনের বড় একটি সময় এখন কাটে অফিসে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে কাজ করার ফলে অনেকেই এখন এক ধরনের শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তির অভিযোগ করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে অফিসের বাতাস নিয়ে আলোচনাও বেড়েছে।
অনেকেরই অভিযোগ, অফিসে দীর্ঘসময় থাকার পর মুখ-চোখ ক্লান্ত দেখায়, মনোযোগ কমে যায় এবং ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে রয়েছে অফিসের ভেতরের বদ্ধ পরিবেশ ও বাতাসের মানের সমস্যা।
অফিসে সাধারণত জানালা বন্ধ থাকে এবং বাতাস চলাচল সীমিত হয়। এর ফলে ঘরের ভেতরে কার্বন ডাই অক্সাইড, ধুলা, অ্যালার্জেন এবং বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান জমে যায়। এসব উপাদান ধীরে ধীরে কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং মাথাব্যথা, চোখ জ্বালা ও মানসিক ধোঁয়াশার মতো সমস্যা তৈরি করে।
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া দ্রুত ছড়াতে পারে বলেও সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে কাশি, হাঁচি এবং অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়ে।
ত্বকের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব স্পষ্ট। এসির বাতাস ত্বকের আর্দ্রতা শুষে নেয়, ফলে ত্বক শুষ্ক, খসখসে ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা কমে গিয়ে দ্রুত বার্ধক্যের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে লালচে ভাব ও জ্বালাপোড়াও দেখা দিতে পারে।
একইভাবে চুল ও স্ক্যাল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শুষ্ক পরিবেশে খুশকি ও চুলকানি বাড়ে এবং চুল তার প্রাকৃতিক তেল হারায়।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সহজ অভ্যাসে এই সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। সিরামাইড, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, গ্লিসারিন, নিয়াসিনামাইড ও ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা, নিয়মিত পানি পান করা এবং বাইরে বের হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি।
অফিসের এই অদৃশ্য বাতাসের চাপ থেকে বাঁচতে সচেতন থাকাই সবচেয়ে বড় সমাধান বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এসি/আপ্র/২১/০৫/২০২৬