কন্যাশিশুর অধিকার, মর্যাদা, শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাল্যবিবাহ, শিশু নির্যাতন, সহিংসতা ও বৈষম্য প্রতিরোধের পাশাপাশি কন্যাশিশুর প্রতিভা বিকাশের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে রোববার (১১ অক্টোবর) পালিত হচ্ছে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস। দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণীতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর বাণীতে বলেন, আজকের কন্যাশিশু জাতির ভবিষ্যৎ এবং আগামী দিনের মানবসম্পদ। সঠিক শিক্ষা, সুস্বাস্থ্য, দক্ষতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে প্রত্যেক কন্যাশিশু পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য অমূল্য সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।
তিনি বলেন, কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য, সহিংসতা, নিরাপত্তাহীনতা ও বাল্যবিবাহ তাদের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই প্রতিটি কন্যাশিশুসহ দেশের সব শিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠা, মানসম্মত শিক্ষা, সুস্বাস্থ্য এবং নিজস্ব প্রতিভা বিকাশের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব।
বর্তমান সরকারকে নারী ও কন্যাশিশুবান্ধব উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাল্যবিবাহ বন্ধে বাল্যবিবাহ নিরোধ কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হচ্ছে। দেশব্যাপী কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সংখ্যা বাড়ানো এবং সেগুলো আরো সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কন্যাশিশুর অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের ইতিবাচক ভূমিকা অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন তিনি। বাল্যবিবাহ, শিশু নির্যাতন ও সহিংসতা প্রতিরোধ এবং কন্যাশিশুর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর করতে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
কন্যাশিশুর যথাযথ বিকাশ এবং তাদের প্রতি সম্মান, সমতা ও সহমর্মিতার পরিবেশ তৈরিতে পারিবারিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কন্যাশিশুর মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তিনি।
পৃথক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কন্যাশিশুর শিক্ষা, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকার সুস্পষ্ট নীতি ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, নিরাপত্তাহীনতা কিংবা বৈষম্যের কারণে কোনো মেয়ের স্বপ্ন থেমে যাক, তা সরকার চায় না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি কন্যাশিশু যেন শিক্ষা, দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসে সমৃদ্ধ হয়ে নিজের সম্ভাবনা বিকাশের সমান সুযোগ পায়, সেটিই সরকারের অঙ্গীকার। প্রতিটি মেয়ের নিরাপদে বেড়ে ওঠা এবং স্বাধীনভাবে নিজের স্বপ্ন ও সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের কর্তব্য। সরকার সেই দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর।
তারেক রহমান বলেন, কন্যাশিশুর অধিকার ও মর্যাদার প্রতি সবার দায়িত্বশীল হতে হবে। আজকের কন্যাশিশুরাই আগামী দিনের বাংলাদেশের নির্মাতা। তাদের মেধা, সৃজনশীলতা ও স্বপ্ন বিকাশের সুযোগ দেওয়া গেলে আরো জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।
নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সঙ্গে কন্যাশিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠার গভীর সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার অন্যতম পদক্ষেপ হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড। এ দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই প্রতিটি পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। কন্যাশিশু ও নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং সামাজিক সুরক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজও শুরু হয়েছে।
নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি মেয়ে যেন নির্ভয়ে চলতে, শিখতে, কথা বলতে ও মত প্রকাশ করতে পারে, সে পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। বাস্তব ও ডিজিটাল উভয় পরিসরে তাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, কন্যাশিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিশেষ করে পরিবারের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
সানা/আপ্র/১১/১০/২০২৬