আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, আইনসভার মাধ্যমে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল ও প্রতিস্থাপন করা হবে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতা ও আন্দোলনের মূল অঙ্গীকার ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা। সর্বোচ্চ আদালত ত্রয়োদশ সংশোধনী-সম্পর্কিত বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের দেওয়া রায় বাতিল করেছে এবং বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থাটি পুনর্বহাল হয়েছে। আইনসভার মাধ্যমে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে এ ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে।
সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে একটি সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। কমিটির প্রধান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার পর্যন্ত কমিটি রাজনৈতিক দল ও জোট, গণমাধ্যমের সম্পাদক, নারী নেতৃত্ব, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অংশীজন, বিশিষ্ট নাগরিক, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেছে।
এসব আলোচনায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এবং স্বাধীন বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে। আলোচনার ভিত্তিতে কমিটি একটি প্রতিবেদন তৈরি করবে। পরে সেই প্রতিবেদনের আলোকে সংসদে সংশোধনী বিল তোলা হবে।
দুর্গাপূজায় সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত: সদ্য শেষ হওয়া দুর্গাপূজা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। অতীতে দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে দুর্ঘটনা, অপ্রীতিকর ঘটনা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটেছে। ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের উদ্দেশ্যে এসব ঘটানো হয়েছে বলে তাঁদের ধারণা।
তিনি বলেন, এ ধরনের অপসংস্কৃতি থেকে দেশ মুক্ত হতে পেরেছে। সবার সহযোগিতায় আগামী দিনেও এই পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, এবার দেশে সর্বোচ্চসংখ্যক ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপ স্থাপন করা হয়েছিল। পূজামণ্ডপগুলোর জন্য বরাদ্দও ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে।
সাজেকের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে: সাজেকের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পাহাড়ে জনসংহতি সমিতি ছাড়াও একই নামে আরো দুটি সংগঠন রয়েছে। রিফর্মিস্টসহ কয়েকটি গোষ্ঠীর মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আছে।
পর্যটন মৌসুমকে কেন্দ্র করে এসব গোষ্ঠী পাহাড়ের কিছু জায়গা ও অঞ্চল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যায়েও আলোচনা চলছে।
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে চিঠি: গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁরাও এ বিষয়ে জেনেছেন। শেখ হাসিনাকে ফেরত পাওয়ার জন্য প্রতিবেশী দেশকে কয়েক দফা চিঠি দেওয়া হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে একটি পক্ষ বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে এবং এখনো ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের কৌশল নিতে পারে। তবে বাংলাদেশে কোনো ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হওয়া এবং শত শত নাগরিক হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কোনো অপতৎপরতা বাংলাদেশে চলতে দেওয়া হবে না।
গোপালগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলা: গোপালগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা সরকারের নজরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ মিছিল করার চেষ্টা করেছিল। ওই এলাকায় টহলরত পুলিশের সদস্যসংখ্যা কম ছিল। এ সময় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
একজন অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শকের বাসায় অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে গ্রেফতারের প্রসঙ্গে ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু হবে।
তিনি বলেন, আইনানুগ সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে কার কী পরিচয়, তা বিবেচনায় নেওয়া হবে না।
সানা/আপ্র/২৬/১০/২০২৬