গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

মেনু

গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০ কূপ খননের পরিকল্পনা

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:১৪ পিএম, ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২২:০২ এএম ২০২৬
গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০ কূপ খননের পরিকল্পনা
ছবি

ছবি সংগৃহীত

দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। দুই ধাপে বাস্তবায়নের জন্য তৈরি এ কর্মপরিকল্পনায় ১০৪টি নতুন কূপ খনন এবং ৪৬টি পুরোনো কূপ সংস্কারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশীয় উৎস থেকে দৈনিক ১ হাজার ৭৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে চায় সরকার। একই সঙ্গে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান সংকুচিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মপরিকল্পনার প্রথম ধাপ ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে এবং দ্বিতীয় ধাপ ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।

পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানান, দেশীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো, আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে সরবরাহের ব্যবধান কমাতে এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, মোট ১৫০টি কূপের মধ্যে ১০৪টি নতুন করে খনন করা হবে। বাকি ৪৬টি কূপে সংস্কার বা ওয়ার্কওভার কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পরিকল্পনার আওতায় ২৭টি প্রকল্পের অধীনে ৭৭টি কূপ এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর অনুমোদিত চারটি কূপের সংস্কারকাজে নীতিগত সম্মতি পাওয়া গেছে।

তিনি জানান, অনুমোদিত ৫১টি কূপের মধ্যে ৩২টির কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। মাঠপর্যায়ে ১১টি কূপের কাজ চলছে। বাকি আটটির কাজ শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া প্রক্রিয়াধীন ১০টি প্রকল্পের আওতায় আরো ২৬টি কূপের অনুমোদন চাওয়া হবে। অবশিষ্ট ৭৩টি কূপ পর্যায়ক্রমে প্রকল্প বা বোর্ডের অনুমোদনের আওতায় আনা হবে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান বলেন, দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন জোরদার ও গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন কূপ থেকে পাওয়া গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমবে। এ লক্ষ্য অর্জনে কূপ খননের গতি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, কাজ শেষ হওয়া ৩২টি কূপ থেকে দৈনিক ২৭০ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর খনন ও সংস্কারের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া ১১টি কূপ থেকে দৈনিক অতিরিক্ত ৫৮ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে ৪১ দশমিক ৯ মিলিয়ন ঘনফুট ইতোমধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।

বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন ১১টি কূপের মধ্যে বাপেক্সের সাতটি, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের তিনটি এবং সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের একটি রয়েছে। বাপেক্সের কূপগুলো হলো সুন্দলপুর দক্ষিণ-১, ভোলা উত্তর-৩, ভোলা উত্তর-৪, শাহবাজপুর উত্তর-পূর্ব-১, শ্রীকাইল ডিপ-১, মোবারকপুর ডিপ-১ ও ফেঞ্চুগঞ্জ দক্ষিণ-১। বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানির তিতাস-২৯, বাখরাবাদ-৭ ও তিতাস-৩১ ডিপ এবং সিলেট গ্যাস ফিল্ডসের রশীদপুর-১৩ কূপের কাজও চলছে।

অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা প্রকল্পগুলোর মধ্যে প্রস্তাবিত তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ খনন প্রকল্প উল্লেখযোগ্য। অনুমোদন পাওয়া গেলে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচন করে কূপ দুটির খননকাজ সম্পন্ন করা হবে।

গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহে বড় ব্যবধান: প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৫ হাজার ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও বাস্তবে ব্যবহার হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে দৈনিক গড় সরবরাহ মাত্র ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এ সরবরাহের মধ্যে আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে আসছে ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যা মোট সরবরাহের ৪১ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলো দৈনিক ৮৯০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং দেশীয় সরকারি কোম্পানিগুলো ৭২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি ৪৮০, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস ১৩৮ এবং বাপেক্স ১০৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে। আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে শেভরনের সরবরাহ ৮৬১ এবং ক্রিসএনার্জি বাংলাদেশের ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট।

দেশে এ পর্যন্ত ২৬২টি কূপ খনন করা হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ১১৯টি থেকে গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে। এসব কূপের ৭৬টি দেশীয় এবং ৪৩টি আন্তর্জাতিক কোম্পানির পরিচালনায় রয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপে ১০০ কূপের লক্ষ্য: কোম্পানিভিত্তিক পরিকল্পনায় প্রথম ধাপে বাপেক্সের ২১টি কূপ খনন ও সংস্কারের লক্ষ্যের বিপরীতে নয়টির কাজ শেষ হয়েছে। বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানির ১৩টির মধ্যে সাতটি এবং সিলেট গ্যাস ফিল্ডসের ১৬টির মধ্যে ১৩টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপে ১০০টি কূপের কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৬৯টি নতুন কূপ খনন এবং ৩১টি সংস্কার করা হবে। বাপেক্স ৬৮টি, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি ২১টি এবং সিলেট গ্যাস ফিল্ডস ১১টি কূপের দায়িত্ব পালন করবে।

দ্বিতীয় ধাপে বাপেক্স ৫২টি নতুন কূপ খননের জন্য ১৪টি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে এবং সাতটি অনুমোদন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে এ পর্যায়ের কোনো কূপের কাজ এখনো শেষ হয়নি। বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি নয়টি নতুন কূপের জন্য চারটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে দুটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যদিকে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস আটটি নতুন কূপের জন্য পাঁচটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে, যার দুটি অনুমোদন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। সূত্র: বাসস


সানা/কেএমএএ/আপ্র/৪/১১/২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

এক মাসের মধ্যে পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি সুপারিশের আশা
০৪ নভেম্বর ২০২৬

এক মাসের মধ্যে পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি সুপারিশের আশা

আগেরবারের মতো দীর্ঘসূত্রতা হবে না, জানালেন বোর্ডের চেয়ারম্যান

বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় ঢাকা-বেইজিংকে একসঙ্গে কাজের আহ্বান
০৪ নভেম্বর ২০২৬

বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় ঢাকা-বেইজিংকে একসঙ্গে কাজের আহ্বান

বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে একতরফাবাদ, ক্ষমতার রাজনীতি ও ‘জঙ্গলের আইন’-এর চর্চা মোকাবিলা এবং বিশ্বশান্তি রক্ষা...

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক গ্রেফতারে লাগবে আদালতের অনুমতি
০৪ নভেম্বর ২০২৬

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক গ্রেফতারে লাগবে আদালতের অনুমতি

সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যমের মালিক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতারের আগে স...

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে চীনের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
০৪ নভেম্বর ২০২৬

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে চীনের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গার কারণে সৃষ্ট সংকটের স্থায়ী সমাধানে চীনের সহযোগিতা চেয়েছে...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

রাস্তায় যারা এখন আন্দোলন করছে তাদের সঙ্গে শ্রমিকদের কোনো সম্পর্ক নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাস্তায় যারা এখন আন্দোলন করছে তাদের সঙ্গে শ্রমিকদের কোনো সম্পর্ক নেই। রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য একটি মহল অপচেষ্টা করছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে চিংড়ি মহাল ব্যবস্থাপনা বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি মন্ত্রীর এই বক্তব্যকে সঠিক মনে করেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 20 ঘন্টা আগে