ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় আত্মসমর্পণ করা দুই আসামিকে জামিন দিয়েছেন আদালত। রোববার (৫ এপ্রিল) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালতে তারা আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন।
জামিনপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী আবু রায়হান ও রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ জানান, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিনের সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হলেও আদালত শুনানি শেষে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ১৫ মার্চ এই মামলার আরেক আসামি মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী রাশেদ কামাল অনিক আত্মসমর্পণের আবেদন জমা দিয়ে আদালত থেকে পালিয়ে যান।
২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে চোর সন্দেহে তোফাজ্জল হোসেনকে হলের গেস্ট রুমে আটকে রেখে দফায় দফায় বেধড়ক মারধর করা হয়। প্রথমে তাকে খাবার খাইয়ে পরে স্ট্যাম্প ও হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ শাহবাগ থানায় মামলা করেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নারাজি দিলে মামলাটি পিবিআই-কে (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
গত ১৫ ডিসেম্বর পিবিআই ২৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। গত ১০ মার্চ আদালত এই চার্জশিট গ্রহণ করে পলাতক ২২ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
চার্জশিটভুক্ত অপর আসামিরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জালাল মিয়া, ওই হলের আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ, ভূগোল বিভাগের আল হোসাইন সাজ্জাদ, পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের মো. মোত্তাকিন সাকিন শাহ, মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী সুমন মিয়া, ওয়াজিবুল আলম, ফিরোজ কবির, আব্দুস সামাদ, সাকিব রায়হান, ইয়াছিন আলী, ইয়ামুজ্জামান ওরফে ইয়াম, ফজলে রাব্বি, শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান, রাতুল হাসান, সুলতান মিয়া, নাসির উদ্দিন, মোবাশ্বের বিল্লাহ, শিশির আহমেদ, মহসিন উদ্দিন ওরফে শাফি, আব্দুল্লাহিল কাফী, শেখ রমজান আলী রকি, মনিরুজ্জামান সোহাগ, রাব্বিকুল রিয়াদ এবং আশরাফ আলী মুন্সী।
নিহত তোফাজ্জল হোসেনের বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায়। তিনি বরিশাল বিএম কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) সম্পন্ন করেছিলেন। তবে বাবা-মা ও বড় ভাইকে হারিয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলায় তিনি ভবঘুরের মতো জীবনযাপন করছিলেন।
সানা/ডিসি/আপ্র/৫/৪/২০২৬