বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব বাংলাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৩ এপ্রিল) নিজের ফেসবুক বার্তায় তিনি এ শুভেচ্ছা জানান।
বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিদায় ১৪৩২, স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক।” তিনি উল্লেখ করেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই দিনটি নতুনের আহ্বান নিয়ে ফিরে আসে এবং পুরনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।
পহেলা বৈশাখের সঙ্গে এ অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির গভীর সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগেও কৃষক প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফসল উৎপাদনের সময় নির্ধারণ করেন। বাংলা নববর্ষের মাধ্যমে হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও মূল্যবোধ নতুন করে উজ্জীবিত হয়।
তিনি আরও বলেন, বৈশাখী মেলা, শোভাযাত্রা ও হালখাতার মতো আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্য তুলে ধরে এবং ঐক্যবোধকে শক্তিশালী করে। নববর্ষ নতুন প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়, যেখানে প্রকৃতির নবজাগরণ ও মানুষের আশাবাদ মিলেমিশে সৃষ্টি করে উৎসবমুখর পরিবেশ।
বার্তায় প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের শোষণ-শাসনের অবসানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকার সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিবসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্য আর্থিক সহায়তা চালু করা হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকে কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যা কৃষক ও কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দেশের মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সহনশীলতা, উদারতা ও সম্প্রীতির চর্চা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বহুমতের সহাবস্থানকে সুদৃঢ় করবে। বিশ্বব্যাপী নানা সংকট ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন।
নববর্ষের এই শুভক্ষণে সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন বছরের প্রভাতে অতীতের সব হতাশা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় গ্রহণ করতে হবে।
শেষে দেশবাসীর শান্তি, সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে আবারও নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান।
সানা/আপ্র/১৪/৪/২০২৬