চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পঞ্চগড়, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহ সীমান্তে নারী ও শিশুসহ একাধিক দফায় পুশইন বা ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা ও তার জেরে সীমান্তে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কোথাও শূন্যরেখায় মানুষ আটকে থাকার পর অবশেষে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে, আবার কোথাও এখনো আটকে থাকার খবর পাওয়া গেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তে গত ৪ জুন ভোরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা ২৮ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির বাধায় তারা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। পরে তারা শূন্যরেখায় আটকে থাকে। দুই দফা পতাকা বৈঠকেও সমাধান না হওয়ায় দীর্ঘ সময় তারা সেখানেই অবস্থান করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী ও ৬ জন শিশু ওই দলে ছিল। পরে শনিবার পর্যন্ত তাদের আর সেখানে দেখা যায়নি বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পঞ্চগড় সংবাদদাতা জানান, পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্তে ১০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু এখনো শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। গত শুক্রবার ভোর থেকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত তাদের কোনো পক্ষই নিজ ভূখণ্ডে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। খোলা আকাশের নিচে ও ভেজা জমিতে বসে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে একাধিক দফা পতাকা বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃষ্টির মধ্যে নারী ও শিশুরা কষ্টে থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়নি।
এছাড়া মেহেরপুর প্রতিনিধি এস এ খান শিল্টু জানান, গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্তে শনিবার ভোরে নারী ও শিশুসহ ছয়জনকে কাঁটাতারের বেড়া খুলে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর প্রতিরোধে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বর্তমানে তারা সীমান্তের ওপারে অবস্থান করছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
ঝিনাইদহ সংবাদদাতা জানান, ঝিনাইদহের মহেশপুর-সংলগ্ন সীমান্ত দিয়ে চার দিনে বাংলাদেশের সীমানার ভেতরে জোরপূর্বক পাঁচবার ১৭ জন লোককে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তাদের এসব চেষ্টা প্রতিহতের দাবি করেছে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)।
মহেশপুর ৫৮ বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ২ জুন পাকরাইল সীমান্ত দিয়ে প্রথম পুশ ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ, যা স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিজিবি ব্যর্থ করে দেয়। এভাবে গত চার দিনে চারবার বিএসএফ পুশ ইনের চেষ্টা করলেও বারবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিজিবি।
বিজিবি জানিয়েছে, বিএসএফের পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আগে থেকেই বিষয়টি অবহিত করে রাখা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। তারা সর্বদা সজাগ রয়েছেন।
যাদবপুর সীমান্তে বসবাসকারী রবিউল ইসলাম বলেন, পুশ ইন ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবি সজাগ রয়েছে। তারাও বিজিবির সহযোগিতায় কাজ করছেন। এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকবার বিএসএফ পুশ ইনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে।
সীমান্তবর্তী কয়েক জেলায় এ ধরনের একাধিক ঘটনায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে দফায় দফায় পতাকা বৈঠক হলেও এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। বিজিবি বলছে, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে গ্রহণ করা হবে না, আর সীমান্তে যেকোনো অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে।
সানা/আপ্র/৭/৬/২০২৬