রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এ ঘোষণা দেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কারণ দর্শানোর নোটিশের বিপরীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যে জবাব ও ব্যাখ্যা দিয়েছে, তা সন্তোষজনক না হওয়ায় মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ রেগুলেশন অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২-এর ১১ (২) (খ) ধারা অনুযায়ী হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, একই অধ্যাদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আপিল বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীদের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক বলেন, লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি আর চিকিৎসাসেবা দিতে পারবে না। তাই রোগীদের যত দ্রুত সম্ভব অন্যত্র স্থানান্তর করতে হবে।
ঈদের আগের দিন ২৭ মে সকালে মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে একে একে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি, দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বন্ধ থাকা, বিকল্প বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা না থাকা এবং বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়াই নবজাতকদের মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ।
গত ৪ জুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। একই দিন বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতালটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় কেন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, তা ৭ জুন বিকেল ৫টার মধ্যে জানাতে বলা হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরও ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বুধবার বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নোটিশের যে জবাব দিয়েছে, তা সন্তোষজনক নয়।
অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির রোববার সাংবাদিকদের জানান, নিহত ছয় নবজাতকের প্রত্যেক পরিবারের জন্য ৮০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যৌথ আলোচনায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং ইতোমধ্যে প্রতিটি পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ক্ষতিপূরণ ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বুধবার বলেন, এ ঘটনায় সরকার আইনজীবী নিয়োগ করে প্রতিবেদন ও সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবে।
সানা/আপ্র/১১/৬/২০২৬