ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সিলেট, ময়মনসিংহসহ কয়েকটি জেলায় এ কম্পন টের পান মানুষ। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোথাও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৫, যা ‘মৃদু’ শ্রেণির ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায়। ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে এর দূরত্ব ছিল উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ২৯০ কিলোমিটার।
ইউরোপীয়-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার এবং ফ্রান্সভিত্তিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের আসাম রাজ্যের শিলচর এলাকায়, যা বাংলাদেশের সিলেট সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত। সিলেট শহর থেকে উৎপত্তিস্থলের দূরত্ব ছিল প্রায় ৯২ কিলোমিটার। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল।
স্থানীয় সময় রাত ৯টা ১০ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে, যা বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪০ মিনিটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
চার দিনের ব্যবধানে এটি ছিল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত দ্বিতীয় ভূমিকম্প। এর আগে গত ৭ জুন রাতে রাজধানী ঢাকা, রংপুর, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট, কুষ্টিয়া, গাইবান্ধা, নীলফামারী, সৈয়দপুর, বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ভূকম্পন অনুভূত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভুটানের পশ্চিমাঞ্চলের পুনাখা শহরের পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিমে। রিখটার স্কেলে তার মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৬ এবং কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে।
সাম্প্রতিক সময়ে স্বল্প ব্যবধানে একাধিক ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিলেও বৃহস্পতিবার রাতের ভূমিকম্পে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
সানা/আপ্র/১১/৬/২০২৬