প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। সফরে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি কৌশলগত অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে ঢাকা ও বেইজিং।
বিনিয়োগ বা আর্থিক সহায়তার বড় কোনো ঘোষণা না এলেও নতুন নতুন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ, কৌশলগত সংলাপ চালু, অর্থনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনায় সহযোগিতাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে।
সফরে মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে তোলার প্রস্তাব আবারও আলোচনায় আসে। একই সঙ্গে দুই দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পর্যায়ে নিয়মিত কৌশলগত সংলাপ চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়া হয়ে চীনে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর ইতিবাচক বার্তা বহন করেছে। এখন বৈঠকগুলোতে গৃহীত সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন এই সফরকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সফল রাষ্ট্রপ্রধানের সফর হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। তার ভাষায়, অতীতের তুলনায় এবার চীন শুধু সরকারের সঙ্গে নয়, বাংলাদেশের জনগণ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গেও সম্পর্ক জোরদারের আগ্রহ দেখিয়েছে। তার মতে, চীনের এই পরিবর্তিত দৃষ্টিভঙ্গি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমে ২১ জুন মালয়েশিয়া সফর করেন। সেখানে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর তালিয়ানে যান। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর বেইজিংয়ে শুরু হয় তার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর।
বেইজিংয়ে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সময় দুই দেশের উপস্থিতিতে বিনিয়োগ, গণমাধ্যমসহ ১৩টি বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই হয়। একই দিনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যেও যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াতে পৃথক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সব মিলিয়ে সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
সফরের শেষ দিনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রায় ৫০ মিনিটের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং পরে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সফর শেষে প্রকাশিত ১৫ দফার যৌথ ঘোষণাপত্রে দুই দেশ ‘সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব’ আরও এগিয়ে নেওয়ার এবং ‘অভিন্ন ভবিষ্যতের চীন-বাংলাদেশ সম্প্রদায়’ গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।
যৌথ ঘোষণায় তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের সহযোগিতা, পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা খাতে ‘টু প্লাস টু’ সংলাপ চালু, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও সামরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের আওতায় দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে মিয়ানমারকে আলোচনায় আনতে সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছে বেইজিং।
সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য চীনের সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং সুবিধাজনক সময়ে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর অত্যন্ত ইতিবাচক হয়েছে। তার মতে, দুই দেশের বিদ্যমান সুসম্পর্কের ভিত্তিতে এই সফরের মাধ্যমে নতুন নতুন ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।
মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক করিডোরের প্রস্তাব
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোর। বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে এই প্রস্তাব পুনরায় সামনে আনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন জানান, দুই নেতার বৈঠকে আঞ্চলিক যোগাযোগ ও সংযোগব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে চীন পর্যন্ত একটি অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে তোলার প্রস্তাব এসেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হবে বাংলাদেশের অর্থনীতির পরিসর সম্প্রসারণ, বাণিজ্যিক লেনদেন বৃদ্ধি এবং বহুমাধ্যমভিত্তিক পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা।
চীনের তালিয়ান থেকে গত বুধবার দুপুরে হাইস্পিড ট্রেনে করে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান -ছবি পিআইডি
বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোরের ধারণা নতুন নয়। এটি চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগের আওতায় প্রস্তাবিত একটি আঞ্চলিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক। এর লক্ষ্য চীনের ইউনান প্রদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্যিক ও অবকাঠামোগত সংযোগ স্থাপন।
ভারতের ভূরাজনৈতিক আপত্তির কারণে পূর্বের বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার করিডোর কার্যত স্থবির হয়ে পড়ার পর ভারতকে বাদ দিয়ে বিদ্যমান চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোয় বেইজিং।
প্রস্তাব অনুযায়ী, করিডোরটি ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিং থেকে মিয়ানমারের মান্দালয় পর্যন্ত যাবে। সেখান থেকে একটি অংশ ইয়াঙ্গন এবং অন্য অংশ রাখাইনের কিয়াউকপিউ গভীর সমুদ্রবন্দরে পৌঁছাবে। পরবর্তী পর্যায়ে সড়ক ও রেলপথের মাধ্যমে রাখাইনকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই করিডোর বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের সড়ক, রেল, বন্দর এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও চীনের বৃহৎ বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ সহজ হবে। পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমবে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে এবং যোগাযোগ ও সরবরাহব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তবে করিডোরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ মিয়ানমারের অস্থিতিশীল রাখাইন রাজ্যের মধ্য দিয়ে যাওয়ার কারণে নিরাপত্তা ও বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জও রয়েছে। চীনের ধারণা, ওই অঞ্চলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটলে জাতিগত ও রাজনৈতিক অস্থিরতা কমে আসতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন বলেন, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই গবেষক ও নীতিনির্ধারণী মহলে আলোচিত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত সামুদ্রিক সংলাপেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এবার দুই দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উঠে আসা বড় ধরনের অগ্রগতি বলে তিনি মনে করেন।
তার মতে, এই উদ্যোগ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গেও সম্পর্কযুক্ত হতে পারে। কারণ, এ ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে মিয়ানমারের সঙ্গে কার্যকর সহযোগিতা অপরিহার্য, যা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
অধ্যাপক লাইলুফার আরও বলেন, এই করিডোর বাংলাদেশের জন্য কৌশলগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে দেশটি ভবিষ্যতে বৃহত্তর আঞ্চলিক যোগাযোগ নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।
তবে সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমদ মনে করেন, শুধু চুক্তি বা প্রতিশ্রুতি যথেষ্ট নয়; বাস্তবায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে বিভিন্ন প্রকল্পে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সেগুলোর অনেকগুলো বাস্তবায়িত হয়নি বা যথাযথভাবে ব্যবহার করা যায়নি। তাই ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং সেগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে দেশের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে চীনের সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিস্তা প্রকল্প ও কৌশলগত সহযোগিতার নতুন দিক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের যৌথ ঘোষণাপত্রে তিস্তা মহাপরিকল্পনা ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এতে বলা হয়, সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী খনন, পূর্বাভাস ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি বিনিময়ে দুই দেশ সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।
চীন জানিয়েছে, তারা তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী তিস্তা প্রকল্পে সহায়তা করবে এবং সম্ভাব্যতা যাচাই দ্রুত সম্পন্ন করতে দুই দেশের বিশেষজ্ঞদের যৌথভাবে কাজ এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করবে। একই সঙ্গে সামুদ্রিক খাতসহ বিভিন্ন পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায়ও সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি এসেছে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমদ মনে করেন, তিস্তা প্রকল্পে নতুন কোনো চুক্তি না হলেও এটি স্পষ্ট যে ভবিষ্যতে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনই প্রধান অংশীদার হতে পারে। তার মতে, চীনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা বয়ে আনবে, তবে প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণে দেশের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
এদিকে, ২০১১ সালের তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি আটকে যাওয়ার পর থেকে এই নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্পটি বহুবার আলোচনায় এসেছে। ভারতের আপত্তি ও রাজনৈতিক জটিলতার কারণে চুক্তিটি বাস্তবায়িত না হওয়ায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিকল্প উদ্যোগ হিসেবে অবকাঠামো ও নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প গ্রহণ করে আসছে।
২০২৪ সালের পর রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন সরকার চীনের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ পুনরায় সক্রিয় করে। প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পের বড় অংশ চীনা ঋণ সহায়তায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
সফরের সময় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রও জানান, তিস্তা প্রকল্পসহ পানি ব্যবস্থাপনা ও জীবিকার সঙ্গে সম্পর্কিত খাতে সহযোগিতা বাড়াতে চীন প্রস্তুত রয়েছে। তিনি আরও বলেন, চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এটি হস্তক্ষেপমুক্ত হওয়া উচিত।
টু প্লাস টু কাঠামো ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা
সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উঠে এসেছে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পর্যায়ে ‘টু প্লাস টু’ সংলাপ কাঠামো চালুর উদ্যোগ। এটি কৌশলগত সম্পর্ককে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এই কাঠামোর মাধ্যমে দুই দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা খাতের নীতিনির্ধারকরা নিয়মিত বৈঠকে বসবেন এবং কৌশলগত, নিরাপত্তা ও সহযোগিতামূলক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবেন। ইতোমধ্যে চীন এ ধরনের ব্যবস্থা ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ার সঙ্গে চালু করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানান, প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে এই ধরনের বোঝাপড়া হয়েছে এবং এর বিস্তারিত কাঠামো নির্ধারণের কাজ চলছে।
বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন ও সফরের তাৎপর্য
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন বলেন, চীন এবার শুধু সরকার নয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি ও জনগণের সঙ্গেও সম্পর্ক বিস্তৃত করতে আগ্রহ দেখিয়েছে, যা পূর্বের নীতির তুলনায় একটি বড় পরিবর্তন।
তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে কৌশলগত গুরুত্বের কারণে চীনসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশকে আঞ্চলিক সংযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করছে।
তবে সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমদ সতর্ক করে বলেন, কূটনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে অতীত অভিজ্ঞতা বিবেচনায় রাখতে হবে। প্রকল্পগুলো শুধু ঘোষণায় সীমাবদ্ধ না রেখে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সফরের সমাপ্তি
সফরের শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের ঐতিহাসিক তিয়েনআনমেন স্কয়ারের ‘মনুমেন্ট টু দ্য পিপলস হিরোস’-এ শ্রদ্ধা জানান। সফর শেষে তিনি চীনের সরকার ও জনগণের আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সুবিধাজনক সময়ে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
এর মাধ্যমে তিন দিনের চীন সফর শেষ হয়, যা দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা তৈরি করেছে। সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সানা/আপ্র/২৭/৬/২০২৬