শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে কারখানায় অসুস্থ হয়ে এক নারী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চারটি পোশাক কারখানায় হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলা হয়েছে। মামলাগুলোতে মোট এক হাজার ১০০ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাতে ট্রিপল অ্যাপারেল লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) মো. শহিদুল ইসলাম, এমএইচসি অ্যাপারেল প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. ফারুক মিয়া এবং ইয়াসমিন টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আবু সামা মল্লিক বাদী হয়ে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার রাতে। ওই রাতে উপজেলার টেপিরবাড়ী এলাকায় কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেডে কর্মরত সুইং অপারেটর লিজা বেগম (৩৭) ডিউটির সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, ছুটি না পেয়ে তিনি চিকিৎসা নিতে গিয়ে মারা যান। লিজা বেগম পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার হুগলাবানিয়া গ্রামের আশরাফ আলীর মেয়ে। তিনি শ্রীপুর পৌরসভার কড়ইতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে ওই কারখানায় কর্মরত ছিলেন।
লিজা বেগমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে একটি দল শ্রমিকদের উসকে দিয়ে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিলসহ মাওনা চৌরাস্তা এলাকার ইয়াসমিন টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, কেওয়া এলাকার ট্রিপল অ্যাপারেল লিমিটেড, এমএইচসি অ্যাপারেল প্রাইভেট লিমিটেড এবং সিআরসি অ্যাপারেল কারখানায় হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। এ সময় সড়ক অবরোধের পাশাপাশি শ্রমিক পরিবহনের বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং পণ্যবাহী কয়েকটি যানবাহনও ভাঙচুর করা হয়। হামলা ঠেকাতে গেলে চারটি কারখানার কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী আহত হন।
মামলায় ট্রিপল অ্যাপারেল লিমিটেডে হামলার ঘটনায় ৩০০ জন, এমএইচসি অ্যাপারেল প্রাইভেট লিমিটেডে ৫০০ জন এবং ইয়াসমিন টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডে হামলার ঘটনায় আরও ৩০০ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করা হয়েছে।
ট্রিপল অ্যাপারেল লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে ২০০ থেকে ৩০০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা নিয়ে কারখানার প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা কারখানার সামনে ও ভেতরে থাকা একাধিক যানবাহন এবং বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
এমএইচসি অ্যাপারেল প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. ফারুক মিয়া বলেন, প্রায় ৫০০ জনের একটি দল কারখানার প্রধান ফটকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দিলে তাঁদের মারধর করা হয়। পরে হামলাকারীরা সাততলা ভবনের প্রায় সব তলায় ভাঙচুর চালায়। কম্পিউটার কক্ষসহ বিভিন্ন বিভাগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, মামলার অধিকাংশ আসামিই দুষ্কৃতকারী। কিছু শ্রমিক থাকলেও তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলোর কর্মী নন। ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্তের কাজ চলছে।
আপনার নির্দেশনা অনুযায়ী তথ্য ও ঘটনার কোনো পরিবর্তন না এনে, ভাষা ও উপস্থাপনায় জাতীয় দৈনিকের উপযোগী করে সংবাদটি পুনর্সম্পাদনা করা হলো।