রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করে বিএনপির বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক সংকট’ তৈরির অভিযোগ তুলেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। একই সঙ্গে বগুড়া ও শেরপুরের সাম্প্রতিক নির্বাচনে ‘গুরুতর অনিয়ম’-এর অভিযোগ এনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকালে রাজধানীর শাহবাগে দেশব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, গণভোটে জনগণের রায় মেনে না নিয়ে বিএনপি জনগণের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে এবং প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে। তিনি দাবি করেন, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলেও সেই রায়ের বাস্তবায়নে বিএনপি উদ্যোগ নিচ্ছে না।
গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন ও গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দিনই ওই সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান নিয়ে মুলতবি প্রস্তাবে প্রতিকার না পেয়ে সংসদ থেকে ওয়াক আউট করে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট, যার ধারাবাহিকতায় তারা আন্দোলনে নামে।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১০ এপ্রিল ঢাকায় বিক্ষোভের পর এবার সারাদেশে গণসংযোগ কর্মসূচি শুরু করেছে জোটটি, যা ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকট নিরসনের দাবিতেও জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সমাবেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং বর্তমান সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু ফল ঘোষণার পর সেই অবস্থান থেকে সরে আসা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি আরো দাবি করেন, সংস্কার প্রস্তাবগুলোর ওপর বিএনপির দেওয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’ গণভোটে অনুমোদনের পর কার্যত বাতিল হয়ে গেছে।
পরে তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি কৌশলে আবারও স্বৈরতান্ত্রিক ধারায় ফিরে যেতে চাইছে।
এদিকে একই দিন মগবাজারে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত পৃথক সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন এবং শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তোলে জামায়াত। দলটির দাবি, এসব নির্বাচনে ভোট কারচুপি, জালভোট প্রদান, এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং ভোটগ্রহণের শুরুতেই ফলাফলের কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার মতো গুরুতর অনিয়ম হয়েছে।
উল্লেখ্য, বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় প্রধানমন্ত্রীর আসন শূন্য হওয়ায় এবং শেরপুর-৩ আসনে নতুন তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দুটি আসনেই বিএনপি জয়লাভ করে।
এসব অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে দীর্ঘ আন্দোলনের পর ক্ষমতায় আসা দলের অধীনে প্রথম দিকের নির্বাচনে এমন চিত্র ভবিষ্যৎ নির্বাচন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠান শেষে তার নেতৃত্বে জোটের নেতাকর্মীরা শাহবাগ এলাকায় দাবির পক্ষে প্রচারপত্র বিতরণ করেন।
সানা/আপ্র/১০/৪/২০২৬