রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে নূরজাহান বেগম নামে এক বৃদ্ধার গলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার সন্তানদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে ‘সেবাদানকারী’ নিয়োগের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে আবেদনে।
বুধবার (৩ জুন) আইনজীবী মো. শরীফ সরকারের পক্ষে জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী এ রিট আবেদন দাখিল করেন।
আবেদনে বলা হয়, গত ৩১ মে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে ৭৫ বছর বয়সী নূরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, মৃত্যুর সাত থেকে আট দিন পর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। ফ্ল্যাটের পরিবেশ ছিল অস্বাস্থ্যকর; চারদিকে আবর্জনা ও দুর্গন্ধ ছড়িয়ে ছিল। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, একই ফ্ল্যাটের পাশের কক্ষে তার এক মেয়ে বসবাস করলেও তিনি মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশকে জানাননি।
রিটে বলা হয়, নূরজাহান বেগমের চার সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে সরকারের একজন যুগ্ম সচিব, মেজ ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং ছোট ছেলে কানাডাপ্রবাসী।
আবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠিত হওয়া সত্ত্বেও সন্তানরা মায়ের চিকিৎসা ও যত্নে চরম অবহেলা করেছেন, যা আইনের দৃষ্টিতে অবহেলাজনিত মৃত্যু ঘটানোর শামিল। ওই বৃদ্ধাকে পর্যাপ্ত খাবার, ওষুধ ও চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। এমনকি তাকে বাইরের পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন করে আটকে রাখা হয়ে থাকতে পারে, যা সংবিধান ও মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রের সরাসরি লঙ্ঘন।
এছাড়া বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে পুলিশকে ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
রিটে স্বরাষ্ট্র, আইন ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার এবং পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটকারীর আইনজীবী এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী বলেন, আগামী সোমবার বিচারপতি ফাতেমা নজিবের আদালতে এ আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।
গত রোববার রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পল্লবী ৬ নম্বর সেকশনের ৮ নম্বর সড়কের একটি বাসা থেকে নূরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বহুতল ভবনের চতুর্থ তলায় মেয়ের বাসার একটি কক্ষে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করছিলেন।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান বাসির এর আগে বলেন, মরদেহটি দেখে মনে হয়েছে তিনি তিন থেকে চার দিন আগে মারা গেছেন। শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে পড়ছিল।
সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনাটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৃদ্ধার সন্তানদের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/৩/৬/২০২৬