গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬

মেনু

মিরপুরের ফ্ল্যাটে বৃদ্ধার মৃত্যুতে সন্তানের বিরুদ্ধে রিট

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:৫৭ পিএম, ০৩ জুন ২০২৬ | আপডেট: ২৩:১৫ এএম ২০২৬
মিরপুরের ফ্ল্যাটে বৃদ্ধার মৃত্যুতে সন্তানের বিরুদ্ধে রিট
ছবি

ছবি সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে নূরজাহান বেগম নামে এক বৃদ্ধার গলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার সন্তানদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে ‘সেবাদানকারী’ নিয়োগের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে আবেদনে।

বুধবার (৩ জুন) আইনজীবী মো. শরীফ সরকারের পক্ষে জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী এ রিট আবেদন দাখিল করেন।

আবেদনে বলা হয়, গত ৩১ মে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে ৭৫ বছর বয়সী নূরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, মৃত্যুর সাত থেকে আট দিন পর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। ফ্ল্যাটের পরিবেশ ছিল অস্বাস্থ্যকর; চারদিকে আবর্জনা ও দুর্গন্ধ ছড়িয়ে ছিল। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, একই ফ্ল্যাটের পাশের কক্ষে তার এক মেয়ে বসবাস করলেও তিনি মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশকে জানাননি।

রিটে বলা হয়, নূরজাহান বেগমের চার সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে সরকারের একজন যুগ্ম সচিব, মেজ ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং ছোট ছেলে কানাডাপ্রবাসী।

আবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠিত হওয়া সত্ত্বেও সন্তানরা মায়ের চিকিৎসা ও যত্নে চরম অবহেলা করেছেন, যা আইনের দৃষ্টিতে অবহেলাজনিত মৃত্যু ঘটানোর শামিল। ওই বৃদ্ধাকে পর্যাপ্ত খাবার, ওষুধ ও চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। এমনকি তাকে বাইরের পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন করে আটকে রাখা হয়ে থাকতে পারে, যা সংবিধান ও মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রের সরাসরি লঙ্ঘন।

এছাড়া বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে পুলিশকে ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রিটে স্বরাষ্ট্র, আইন ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার এবং পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটকারীর আইনজীবী এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী বলেন, আগামী সোমবার বিচারপতি ফাতেমা নজিবের আদালতে এ আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।

গত রোববার রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পল্লবী ৬ নম্বর সেকশনের ৮ নম্বর সড়কের একটি বাসা থেকে নূরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বহুতল ভবনের চতুর্থ তলায় মেয়ের বাসার একটি কক্ষে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করছিলেন।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান বাসির এর আগে বলেন, মরদেহটি দেখে মনে হয়েছে তিনি তিন থেকে চার দিন আগে মারা গেছেন। শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে পড়ছিল।

সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনাটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৃদ্ধার সন্তানদের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

সানা/কেএমএএ/আপ্র/৩/৬/২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

চাপাতি ধরে ছিনতাইয়ের সেই দুই আসামির রিমান্ড
০৩ জুন ২০২৬

চাপাতি ধরে ছিনতাইয়ের সেই দুই আসামির রিমান্ড

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাসার সামনে দুই নারীকে চাপাতির মুখে জিম্মি করে লাগেজ, স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ...

‘আমি নির্দোষ স্যার, আমাকে মাফ করে দিন’, আদালতে সোহেল রানা
০৩ জুন ২০২৬

‘আমি নির্দোষ স্যার, আমাকে মাফ করে দিন’, আদালতে সোহেল রানা

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে প্রধান আসামি স...

রামিসা হত্যা মামলার আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন আজ
০৩ জুন ২০২৬

রামিসা হত্যা মামলার আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন আজ

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শ...

রামিসা হত্যা মামলায় তৃতীয় পক্ষের সম্পৃক্ততা নেই
০২ জুন ২০২৬

রামিসা হত্যা মামলায় তৃতীয় পক্ষের সম্পৃক্ততা নেই

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তৃতীয় কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যা...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পদত্যাগ করলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

বর্তমান সরকারের চারমাস পূর্ণ না হতেই হঠাৎ মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ালেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তিনি তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। দীপেন দেওয়ানের আকস্মিক এই পদত্যাগের পেছনে শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আপনি কি মনে করেন তিনি সত্যিই অসুস্থতার কারণে সরে গেলেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে